Image description

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র এবং ‘ষড়যন্ত্রের আলামত’ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, সরকারের সমালোচনা করা যেতে পারে, ভুল ধরিয়ে দেওয়া যেতে পারে; তবে কোনো ধরনের চক্রান্ত বা অস্থিতিশীলতার রাজনীতি দেশের জন্য বিপজ্জনক।

শুক্রবার (২৯ মে) রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

 

রিজভী বলেছেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও বহুদলীয় রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছিলেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা থেকে শুরু করে উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলা; প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি সাহসী নেতৃত্ব দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়। কারণ, স্বাধীনতা ও জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী এই রাষ্ট্রনায়ক দেশের স্বার্থে আপসহীন ছিলেন।

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে রিজভী বলেন, একটি রাষ্ট্রে অপরাধ, বিশৃঙ্খলা কিংবা নানা ধরনের সংকট থাকতেই পারে। তবে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব হলো দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা। যে কোনো অন্যায় বা অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং জনগণও সেটি দেখছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরে রিজভী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষি কার্ড’ ও ‘হেলথ কার্ড’-এর মতো উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, পুলিশসহ সব প্রতিষ্ঠানকে নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক হতে হবে। দীর্ঘ আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত গণতান্ত্রিক ধারাকে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।

জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আট দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে রিজভী জানান, শনিবার (৩০ মে) ভোর ৬টায় নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। এছাড়া ওই দিন সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের সিনিয়র নেতারা শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন

তিনি আরও বলেন, বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, দোয়া মাহফিল এবং দুস্থদের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি পালন করবে। ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।