বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠককে ঘিরে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। নেতাকর্মীরা বলছেন, কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডসহ নানা কারণে ভুগতে থাকা সংগঠনগুলো সচলে বৈঠক থেকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী এই সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আগামী ৯ এপ্রিল বসবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। দেশে ফেরার পর এটি তাঁর প্রথম সরাসরি সাংগঠনিক সভা।
রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ওই মতবিনিময়ে থাকবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, সংগঠনগুলোর জেলা পর্যায়ের ইউনিটের শীর্ষ নেতাদেরও। তারা সংগঠনগুলোর বর্তমান অবস্থা, নেতৃত্বের শূন্যতা, সাংগঠনিক দুর্বলতা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।
তিন সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানান, ডাক পাওয়া সংগঠনগুলোর মধ্যে মেয়াদ আছে শুধু যুবদলের কমিটির। ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল চলছে মেয়াদহীন কমিটিতে। এতে নেতৃত্ব সংকটের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
তারা আরও জানান, বৈঠককে ঘিরে তাদের প্রত্যাশা মূলত দুটি বিষয়কে কেন্দ্র করে– প্রথমত, পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা এবং দ্বিতীয়ত, একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক রোডম্যাপ নির্ধারণ।
যুবদলের এক কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আশা করছি, দলীয় প্রধান সরাসরি নির্দেশনা দেবেন এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সাংগঠনিক বিষয়গুলোর সমাধান হবে। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সৃষ্ট হতাশা থেকেও নেতাকর্মীরা বের হয়ে আসবেন।’
ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহামেদ স্ট্রিমকে বলেন, ‘দলীয় প্রধানের সরাসরি উপস্থিতিতে এটি আমাদের প্রথম মতবিনিময়। আমরা আশাবাদী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে এই সভা আগামীর রাজনীতির পথ দেখাবে।’
ছাত্রদলের নতুন কমিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নতুন কমিটি একটি চলমান গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। নতুন কমিটি হলে সংগঠনের কার্যক্রমে গতি বাড়ে। নেতাকর্মীরা নতুন উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করে।’
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফজলুর রহমান স্ট্রিমকে বলেন, ‘সামনে কীভাবে রাজনীতির মাঠে সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, কিভাবে জনসম্পৃক্ততা বাড়াবে এসব বিষয় উঠে আসবে। আশা করি, এই বৈঠকের মাধ্যমে সংগঠনগুলো রাজনীতিতে আরও চাঙ্গা ও প্রাণবন্ত হবে।’