Image description

মাহফুজ আনাম

পরপর তিনটি কারচুপির নির্বাচনের পর অবশেষে বাংলাদেশের মানুষ নিজের ভোট নিজে দেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রয়েছে। দেশের মানুষকে এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। যারা সেই চেষ্টা করছে, তারা জনরোষে পড়বে এবং কখনোই দেশের মানুষ তাদের ক্ষমা করবে না।

আমরা সেই বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। নিঃসন্দেহে সেখানে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে। দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না পাওয়ায় নানা সমালোচনা হবে। কিন্তু গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস ও সর্বশেষ ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় বেপরোয়া হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধ স্বীকার ও এর জন্য ক্ষমা না চাওয়ায় দলটি জনগণের কাছ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

শান্তিপূর্ণভাবে আসন্ন নির্বাচন আয়োজনের জন্য নাগরিক জীবনে কিছুটা স্থিতিশীলতা আনতে হবে। আমরা প্রতিটি গোষ্ঠীর প্রতিবাদ করার অধিকার স্বীকার করি, সমর্থন করি। তেমনি অন্যদের দৈনন্দিন জীবিকা নির্বাহের অধিকার, প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করা, অফিসে যাওয়া, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা, ব্যাংক চালু থাকা, খুচরা দোকানদার ও দরিদ্র হকারদের যৎসামান্য আয় অব্যাহত রাখা এবং রিকশাচালকদের পরিবারের খাবার জোগানোর অধিকারকেও উপেক্ষা করতে পারি না।

অর্থাৎ, মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য হয়তো সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া নয়। কিন্তু বাস্তবে সেটাই হয়ে যায়। প্রতিটি ক্ষেত্রে রাজধানীজুড়ে যানজটই তার স্পষ্ট প্রমাণ।

আবেগপ্রবণ জাতি হওয়ায় আমরা প্রায়ই ভুলে যাই যে, দেশের ভেতরে আমরা যা-ই করি না কেন, বৈশ্বিক ব্যবস্থার অংশ হতে হলে আমাদের কিছু আন্তর্জাতিক মান ও চর্চা মেনে চলতেই হবে। যাতে আমরা বিশ্বে একটি বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি পাই। উদাহরণস্বরূপ, যদি আমরা তৈরি পোশাক রপ্তানি করতে চাই, তাহলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে নির্দিষ্ট শ্রম, পরিবেশ ও মান নিয়ন্ত্রণের শর্ত পূরণ করতে হবে।

একইভাবে, যদি আমরা বিদেশি বিনিয়োগ চাই, তাহলে একটি ন্যায়সঙ্গত আইনি কাঠামো, দৈনন্দিন জীবনে নির্দিষ্ট মাত্রার নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরির মতো শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এসব করতে পাইলেই তারা এখানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে। ভিয়েতনাম কমিউনিস্ট দেশ হলেও পুঁজিবাদী বিশ্ব সেখানে বিনিয়োগের জন্য প্রতিযোগিতা করছে। কেন? সেই প্রশ্ন কি আমাদের ভেতরে উদয় হওয়া উচিত না?

নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই মনে হচ্ছে অতীত থেকে শেখার অনেক কিছু আছে। ৫৪ বছর পরও কেন আমাদের গণতন্ত্র এত দুর্বল? অতীতে আমাদের কী কী ভুল ছিল? সেগুলো থেকে কি আমরা শিখেছি? যদি না শিখে থাকি, তাহলে কেন শিখিনি? কেন এখনো আমরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে 'শত্রু' হিসেবে দেখি?

যতদূর মনে পড়ে, ১৯৭৩ সাল থেকে সংসদ মূলত একটি রাবার স্ট্যাম্প হিসেবেই কাজ করেছে। তা না হলে কীভাবে আমরা সংবিধান বদলে ফেললাম, মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলাম এবং বাকশাল প্রতিষ্ঠা করলাম? এমনকি সংসদে বিরোধী দলের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি থাকার পরও কেন সংসদ স্বচ্ছতার কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারেনি এবং নির্বাহী বিভাগকে জবাবদিহির আওতায় আনতে ব্যর্থ হলো?

যখন গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ব্যাপক আকার ধারণ করল, তখন কেন একজন সংসদ সদস্যও প্রতিবাদ জানাতে দাঁড়ালেন না? প্রায়শই দেখা গেছে, সংসদ সদস্যরা ভোটারদের সেবা করার নৈতিক সাহস দেখাতে ব্যর্থ হয়ে দলীয় যন্ত্রের একটি চাকা হিসেবেই থেকে গেছেন।

অতীত থেকে শেখার অনেক কিছু আছে—ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দল উভয়ের আচরণ থেকেই। আমরা যখন আন্তরিকতা ও অনেক আশা নিয়ে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছি, তখন আমাদের ভাবতে হবে কেন অতীতের এতগুলো নির্বাচন বিতর্কিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা মোট ১২টি নির্বাচন করেছি—১৯৭৩, ১৯৭৯, ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯১, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬, জুন ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪। এর মধ্যে মাত্র চারটি—১৯৯১, জুন ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮—গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত। বাকি আটটি ব্যাপকভাবে বিতর্কিত।

১৯৭৩ সালের প্রথম নির্বাচনটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, আমরা কীভাবে ভুল পথে যাত্রা শুরু করেছিলাম। ৫৫ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ ৩০০টির মধ্যে ২৯৩টি আসন পায়। সেই বিপুল বিজয়ের পেছনে অনেক কারণ ছিল—বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতি, পাকিস্তান আমলে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ১৬২টির মধ্যে ১৬০টি আসনে আওয়ামী লীগের জয়, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়।

এত বিপুল জনসমর্থনের পরও বঙ্গবন্ধুর চিন্তায় একটি মারাত্মক ঘাটতি ছিল—নতুন রাষ্ট্রের প্রথম সংসদে শক্তিশালী, স্বাধীন ও সমালোচনামূলক কণ্ঠ নিশ্চিত করার দূরদর্শিতার অভাব। একটি নবীন গণতন্ত্রের জন্য তো বটেই, তার নিজের সরকারের সাফল্যের জন্যও এটা জরুরি ছিল। নির্বাচনের মাঠে এমন ব্যক্তিদের শক্তি কম থাকলেও বঙ্গবন্ধুর উচিত ছিল কোনো উপায় বের করে তাদের সংসদে আনা এবং সরকারের দুর্বলতা তুলে ধরার স্বাধীনতা দেওয়া।

সংসদের বাইরে ডেইলি ইত্তেফাকে আবুল মনসুর আহমদ, সাপ্তাহিক হলিডেতে এনায়েতুল্লাহ খান, দৈনিক গণকণ্ঠে কবি আল-মাহমুদ ও বাংলাদেশ অবজারভারে পত্রিকাটির সম্পাদক আবদুস সালাম ছিলেন ভিন্নমতের কণ্ঠ। সংসদের ওপর এমন একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ আমাদের ভুল পথে যাত্রা শুরু করায়, যা শেষ পর্যন্ত মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনে।

এর ফলে অসহিষ্ণুতার সংস্কৃতি, সমালোচনা গ্রহণের অক্ষমতা ও ভিন্নমতের প্রতি গভীর অবজ্ঞা জন্ম নেয়। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা কার্যত আমাদের প্রথম নির্বাচিত আইনসভাকে একদলীয় সংসদে পরিণত করে, যার মধ্য দিয়েই বাকশালের বীজ বপন হয়। কয়েক বছরের মধ্যেই সেটা এক দুঃস্বপ্নের বাস্তবতায় রূপ নেয়।

এরশাদবিরোধী আন্দোলন ও তার পতন বাংলাদেশকে গণতন্ত্রের পথে নতুন করে যাত্রা শুরুর সুযোগ দেয়। বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি চমৎকার নির্বাচন আয়োজন করে এবং তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে বিচারপতি হাবিবুর রহমান ও ২০০১ সালে বিচারপতি লতিফুর রহমানের অধীনে নির্বাচন সেই জনআস্থা আরও সুদৃঢ় করে। তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইনউদ্দিনের সমর্থনে গঠিত ফখরুদ্দীন আহমেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক থাকলেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার শামসুল হুদার অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনটিও একটি নির্দিষ্ট মাত্রার গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ক্ষমতায় ফিরে শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেন। তার ফলশ্রুতিতেই আমরা তিনটি ভয়াবহ নির্বাচন পেয়েছি, যা জবাবদিহির সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আসন্ন নির্বাচন তত্ত্বাবধান করছে এবং একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন দায়িত্বে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দেশ এখন সেই গণতান্ত্রিক পথে ফেরার আশায় রয়েছে, যা আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে পথভ্রষ্ট হয়েছিল। গণতান্ত্রিক শাসনে ফেরার প্রস্তুতি হিসেবে আমাদের অবশ্যই অতীত থেকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক যাত্রা সফল হয়।

প্রথমেই মনে রাখতে হবে, আমাদের শাসনব্যবস্থা সংসদীয় পদ্ধতির। এখানে রাজনৈতিক দল ও নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভূমিকা এবং সরকারের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত। যুক্তরাজ্যের উদাহরণ ধরা যাক। বরিস জনসনের নেতৃত্বে কনজারভেটিভ পার্টি ২০১৯ সালে বড় বিজয় অর্জন করে। কিন্তু ২০২২ সালে জনসন দলের আস্থা হারান এবং তার স্থলে দলের নেতা হিসেবে লিজ ট্রাস নির্বাচিত হন। ট্রাস ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী হন। এক মাসের মধ্যেই তিনি রিশি সুনাকের কাছে নেতৃত্ব হারান এবং সুনাক প্রধানমন্ত্রী হন।

ট্রাস ও সুনাক কোনো নির্বাচনের মুখোমুখি হননি। তারপরও তারা এমন একজনের জায়গায় এসেছিলেন, যাকে জনগণ ভোট দিয়েছিল। এর অর্থ হলো, সংসদীয় ব্যবস্থায় দল নির্বাচিত হয় এবং যেকেউ দলের প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন ও তিনিই সরকারপ্রধান হন।

তাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশ একই ব্যবস্থা অনুসরণ করলেও বাস্তবে আমাদের চর্চা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমাদের রাজনৈতিক ঐতিহ্য উপরে বর্ণিত চর্চা বিকাশের অনুকূল নয়। এখানে নেতারাই দল পরিচালনা করেন এবং পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখেন। দল কখনোই নির্ধারণ করে না যে নেতা কী করবেন বা কীভাবে করবেন।

আমাদের ক্ষেত্রে দল সবসময় নেতানির্ভর। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের, জিয়াউর রহমান বিএনপির, এইচ এম এরশাদ জাতীয় পার্টির প্রতিচ্ছবি ছিলেন। পরবর্তীতে খালেদা জিয়া মানেই বিএনপি ও শেখ হাসিনা মানেই আওয়ামী লীগ হয়ে ওঠে। শীর্ষ নেতার বাইরে দলগুলোর স্বাধীন অস্তিত্ব যেন খুবই সীমিত।

এই বাস্তবতার প্রভাব হলো, সংসদ সদস্যরাও মূলত দলীয় নেতাদের সন্তুষ্টির ওপর নির্ভর করে টিকে থাকেন। ভোটাররাই একজন সংসদ সদস্যকে নির্বাচিত করেন—এই ক্ষমতা বাস্তবে খুব অল্প সময়ের জন্যই কার্যকর থাকে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিজয়ীরা ভোটারদের দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে দল বা দলের নীতির দিকে নয়, বরং দলের নেতার দিকে মনোযোগ দেন।

ফলে যাকে আমরা সংসদীয় ব্যবস্থা বলি, তা কার্যত সংসদীয় কাঠামোর আড়ালে এক ধরনের রাষ্ট্রপতি শাসনের মতোই পরিচালিত হয়। এই চর্চা হয়তো সহসাই বদলাবে না। তবে দলগুলোর উচিত তাদের নেতাকে জবাবদিহির আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু করা—তা যত সীমিত আকারেই হোক না কেন।

অতীত থেকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ক্ষমতাসীন দল বিরোধী দলকে গুরুত্ব দেয় না। বরং কীভাবে বিরোধীদের বিভক্ত, দুর্বল, অকার্যকর বা অবিশ্বাসযোগ্য করা যায় এবং শেষ পর্যন্ত সর্বতোভাবে দমন করা যায়, সেই পরিকল্পনাতেই মনোযোগ দেয়।

ক্ষমতাসীন দল বিরোধী দলকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখে না। এই সংস্কৃতি বদলাতে হবে। সুশাসনের জন্য এবং এক অর্থে নিজেদের সাফল্যের জন্যও ক্ষমতাসীন দলের একটি শক্তিশালী বিরোধী দল প্রয়োজন। কার্যকর, প্রাণবন্ত ও দায়িত্বশীল বিরোধী দল ছাড়া বাংলাদেশে কার্যকর গণতন্ত্র টিকে থাকা কঠিন।

তবে এর বিপরীত শিক্ষাও আছে। আমাদের একটি দায়িত্বশীল বিরোধী দলও প্রয়োজন। আমরা প্রায়শই দেখি 'বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা'র সংস্কৃতি—যা দেশের কল্যাণ, সুশাসন, জবাবদিহি, স্বচ্ছতা বা দক্ষ সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য নয়। ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দল পরস্পরকে 'শত্রু' ভাবে।

ফলে, সরকারকে বিব্রত করা, প্রকল্প বানচাল করা বা অন্যসব প্রক্রিয়ায় অচল করে দেওয়ার চেষ্টা করে বিরোধী দল। খালেদা জিয়া সরকারের প্রথম মেয়াদে সংসদ থেকে ওয়াকআউট, বর্জন এবং শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের সংস্কৃতির মতো সবচেয়ে ক্ষতিকর চর্চা গড়ে ওঠে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, পরবর্তী সরকারগুলোর সময়ও বিরোধী দল সেটা অব্যাহত রেখেছে।

কাজেই, নতুন যাত্রা শুরু করতে অনেক কিছুর পরিবর্তন প্রয়োজন। সর্বোপরি, সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিতে সহায়তা করতে হবে এবং ভোটের ফলাফল যাই হোক, সেটা জনগণের রায় হিসেবে মেনে নিতে হবে। 'জিতলে নির্বাচন ভালো, হারলে খারাপ'—এই ধারণা পরিত্যাগ করতে হবে।

প্রতিটি নির্বাচনে সবাই বিজয়ী হতে পারে না; পরাজয়ও থাকবে। সেই ফলাফলকে ভোটারদের প্রতি মর্যাদা ও শ্রদ্ধা জানিয়ে শালীনতার সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে।

তাই সবার প্রতি অনুরোধ, দেশকে প্রথম, গণতন্ত্রকে দ্বিতীয় ও নিজের বিজয়কে তৃতীয় স্থানে রাখুন। আপনি জিতলে অভিনন্দন, হারলেও অভিনন্দন। কারণ, আপনি জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়েছেন এবং আমাদের গণতান্ত্রিক যাত্রা পুনরায় শুরু করতে সহযোগিতা করেছেন।

মাহফুজ আনাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দ্য ডেইলি স্টার

ইংরেজি থেকে অনূদিত