ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঢাকা সফরে এসেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর শোক জানাতে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জানাজার স্থান থেকে সামান্য দূরে সংসদ ভবনে বিভিন্ন দেশ থেকে শোক জানাতে আসা বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে জয়শঙ্করও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। জানাজার আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বেগম জিয়ার সংগ্রামমুখর জীবনের ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদী হাসিনার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার শিকার হয়ে মিথ্যা মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই বছরের বেশি সময় অন্ধকার কারাগারে আবদ্ধ থাকার সময় উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে দেশনেত্রী দারুণভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। দেশবাসী সাক্ষী, হেঁটে তিনি কারাগারে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু নির্জন কারাগার থেকে তিনি বের হলেন চরম অসুস্থতা নিয়ে। দেশ-বিদেশের চিকিৎসকদের মতে, পরবর্তী সময়ে গৃহবন্দিতে চার বছর তাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ না দেওয়ার কারণেই তার অসুস্থতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানতে হলো এই অপরাজেয় নেত্রীর। তাই এই মৃত্যুর দায় থেকে ফ্যাসিবাদী হাসিনা কখনো মুক্তি পাবে না।
বাংলাদেশে শেখ হাসিনার একদলীয় ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রধান সমর্থক ও সহযোগী ছিল ভারত। এমনকি গুম ও খুনের মতো নিপীড়নমূলক শাসন কায়েমে সব ধরনের সহায়তা দিয়েছে দিল্লি। খালেদা জিয়াকে ঢাকায় যখন লাখো মানুষ চোখের পানিতে শেষ বিদায় জানিয়েছে, তখন পলাতক হাসিনা দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্য কোনো এক গোপন স্থানে পালিয়ে আছেন। এটাই হয়তো ছিল প্রকৃতির সবচেয়ে বড় প্রতিশোধ। এমনকি তাকে আশ্রয় দেওয়া মনিব রাষ্ট্রের প্রতিনিধিও খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছেন।
শুধু হাসিনা নন-গুম, খুন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত ফ্যাসিস্ট মন্ত্রিসভার সদস্যরা কলকাতা ও দিল্লিতে অবস্থান করছেন। বিচারাধীন কিংবা দণ্ড পাওয়া সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তা এবং সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগের কয়েক হাজার নেতাকর্মী এখন ভারত সরকারের আশ্রয়ে আছেন। হাসিনা সরকার যখন বেগম জিয়ার জামিনের অধিকার হরণ করে নিপীড়নমূলক শাস্তি চাপিয়ে দিয়েছিল, তখন বিশ্বের অনেক মানবাধিকার সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু ভারত সরকার ছিল নীরব। খালেদা জিয়া কখনো ভারতের পছন্দের ব্যক্তি ছিলেন না। তার একটাই কারণ, তিনি ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ায় আধিপত্যবাদবিরোধী এক অনড় রাজনৈতিক নেত্রী। যিনি কখনো ভারতের কাছে মাথানত করেননি।
হাসিনার পতনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের ওপর দিল্লির একচেটিয়া কর্তৃত্বের অবসান ঘটে। তবে নীরবে আওয়ামী লীগকে আবার দেশের রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে ভারত। এ জন্য ইউনূস সরকারের ওপর নানাভাবে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করে দেশটি। ফলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ভারতে অব্যাহতভাবে চলছে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা। ক্ষমতাসীন উগ্র হিন্দুত্ববাদী দলের নেতাকর্মীরা দিল্লি ও ত্রিপুরায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলা করেছে। সর্বশেষ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা আইপিএলে খেলা থেকে বাংলাদেশি ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য অজুহাত হিসেবে দেখানো হয়েছে ময়মনসিংহের ভালুকায় চাকরি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দিপু চন্দ্র দাস নামে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডকে সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে হত্যা হিসেবে তুলে ধরে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া হয়। অথচ শুধু ধর্মীয় পরিচয় কিংবা অনুশাসন মানার কারণে ভারতে প্রতি মাসে মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের হত্যা করা হচ্ছে। কিন্তু এ নিয়ে প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলো ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কখনো নাক গলান না। আসলে ভারত মোস্তাফিজকে খেলা থেকে বাদ দিয়েছে সারা দুনিয়ার কাছে-এ বিষয়টি জানান দিতে যে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশে হিন্দু নাগরিকদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করতে পারছে না। কিন্তু হিন্দুত্ববাদী ভারত সরকারের এই কৌশল ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্ব বিষয়টিকে দেখছে প্রতিবেশী একটি দেশের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য খেলাকে ব্যবহার হিসেবে। বাংলাদেশ সরকার এই সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, ভারতে নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশের ক্রিকেট টিম খেলতে যাবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। একই সঙ্গে আইপিএলের খেলা সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দেশের মানুষ সরকারের এই আত্মমর্যাদার কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছে। ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে ভারত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পাকিস্তান আগেই ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
আইপিএলে মোস্তাফিজকে খেলা থেকে বাদ দেওয়ার এই সিদ্ধান্তটি এসেছে জয়শঙ্করের ঢাকা সফরের তিন দিনের মধ্যে। ফলে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে এই প্রশ্ন উঠেছে ঢাকার সঙ্গে নয়াদিল্লি সত্যিই কি স্বাভাবিক ও বন্ধুসুলভ সম্পর্ক চায়, না শোক প্রকাশের ছদ্মাবরণে ভারত বিভাজনমূলক অন্য কোনো কৌশল কাজ করছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে দিল্লির বাংলাদেশ নীতিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইউনূস সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না হলেও বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার উদ্যোগ নিয়েছে দিল্লি।
শেখ হাসিনার পতন ও পলায়ন এখনো ভারতের নীতিনির্ধারকরা মেনে নিতে পারছেন না। অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে যেন অঘোষিত যুদ্ধ ঘোষণা করছে। এর প্রধান কারণ, অন্তর্বর্তী সরকার, ভারতনির্ভর পররাষ্ট্রনীতি থেকে বেরিয়ে এসে যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে ভারসাম্যমূলক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে যাচ্ছে। ভারতের ওপর নির্ভরতা কমাতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় আকারের কয়েকটি বাণিজ্যিক চুক্তি করে। অন্যদিকে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। চীনের সঙ্গেও বাণিজ্যিক সম্পর্ক অব্যাহত আছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ নীতিতে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়।
ভারত হয়তো এখন অনুধাবন করতে পারছে বাংলাদেশের ওপর হাসিনা সরকারের আমলে যে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, তা আর সম্ভব হবে না। ফলে নতুন কৌশল গ্রহণ করে, ইউনূস সরকারকে পাশ কাটিয়ে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার ওপর জোর দেয়। এর সর্বশেষ প্রকাশ ঘটছে বিএনপি চেয়ারপারসন ও এ দেশের মানুষের অবিসংবাদিত নেত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরের মধ্য দিয়ে। এমনকি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শোক জানিয়ে ব্যক্তিগত চিঠি পাঠিয়েছেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের পক্ষ থেকে যেভাবে শোক প্রকাশ ও কূটনৈতিক সৌজন্যতা দেখানো হচ্ছে, তাতে স্পষ্ট হয়ে গেছে, ভারত বুঝতে পারছে শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগের এ দেশে রাজনীতিতে আর ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে ভারত এখন মরিয়া হয়ে বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে দিল্লি।
প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেই বাংলাদেশকে চলতে হবে। কিন্তু অতিরিক্ত ভারতমুখী নীতি বাংলাদেশের জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে। কারণ দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত সম্পর্কে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। ভারতের ওপর একের পর এক বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ভারতের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সর্বোচ্চ শুল্কারোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। পাকিস্তানকে একের পর এক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ পাক-ভারত বিমান যুদ্ধে পাকিস্তানের সাফল্য এ অঞ্চলে প্রতিরক্ষা সম্পর্কের গতিপথ বদলে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল বিশেষ করে বিএনপিকে সতর্ক অবস্থান নিতে হবে।
ভারত কখনো বিএনপিকে একনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে গ্রহণ করবে না। কারণ আওয়ামী লীগ দিল্লিকে নিঃশর্তভাবে উজাড় করে যে ধরনের সুবিধা দিয়েছে, বিএনপি কখনো তা দিতে পারবে না। হাসিনা নিজেই বলেছেন, আমি ভারতকে যা দিয়েছি, তা চিরদিন মনে রাখবে। ফলে ভারতের প্রধান কৌশল হিসেবে বিএনপির ওপর নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করে আওয়ামী লীগকে দেশের রাজনীতিতে ফিরে আনা। ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করা।
ভারতের আরেকটি কৌশল হবে, ইউনূস সরকার পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার উদ্যোগ নিয়েছে, সে পথ থেকে বাংলাদেশকে দূরে ঠেলে দেওয়া। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সরকার যদি দিল্লির এ ধরনের ফাঁদে পা দেয়, তাহলে বাংলাদেশে বড় ধরনের কৌশলগত বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। শুধু চীন-পাকিস্তান নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়বে।
ভারত দুটো লক্ষ নিয়ে এখন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছে। প্রথমত, ইউনূস সরকারের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি থেকে বাংলাদেশকে বের করে আনা। দ্বিতীয়ত, ভারতের যেসব সফট পাওয়ার বাংলাদেশে তৎপর রয়েছে, সেগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা। একই সঙ্গে রাজনীতিতে ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনা। ভারত মনে করছে, আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, ফলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ তৈরির চেষ্টা করছে। বিএনপি এ ক্ষেত্রে কতটা স্বাধীন অবস্থান নিতে পারে, সেদিকে এ দেশের মানুষের নজর রয়েছে।
বিএনপির একজন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা কয়েক বছর আগে দিল্লি সফরে গিয়ে দ্য হিন্দু পত্রিকাকে বলেছিলেন যে তারা জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার পররাষ্ট্রনীতিকে জানালা দিয়ে ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন। তিনি আরো বলেছিলেন, সে সময়ের পররাষ্ট্রনীতি ছিল বোকামিপূর্ণ। এখন বিএনপি যদি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার পররাষ্ট্রনীতির মৌলিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়, তবে তা বাংলাদেশের জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে। এর ফলে পররাষ্ট্রনীতিতে বাংলাদেশের স্বাধীন অবস্থান শুধু খর্বই হবে না, বরং নিপীড়কদের ফিরে আসার পথও তৈরি হবে।
ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে সম্পর্কের প্রধান ভিত্তি হবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা। মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের ফিরিয়ে আনার দাবি থেকে সরে না আসা। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র , চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে ভারসাম্যমূলক সম্পর্ক বজায় রাখা। বাংলাদেশের মানুষের সামনে ভারতের অবস্থান এখন খুবই স্পষ্ট। ভারতের দিকে ঝুঁকে পড়াকে এ দেশের মানুষ ভালোভাবে গ্রহণ করবে না। বিশেষ তরুণ সমাজ বিএনপির সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের বুঝতে হবে, এ দেশের মানুষ এখনো প্রবলভাবে ভারতের ওপর ক্ষুব্ধ। তারা মনে করে, গত দেড় দশকে গণতন্ত্র হত্যা ও বিরোধী নেতাকর্মীদের গুম-খুনের সঙ্গে ভারত জড়িত। বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ ও জামায়াত নেতা মাওলানা সাঈদীর সাক্ষী সুখরঞ্জন বালি তার বড় উদাহরণ। এছাড়া বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের ফাঁসি দিয়ে হত্যা করার পেছনে ভারতের সরাসরি ভূমিকা ছিল।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় ১,৪০০ মানুষকে হত্যা এবং ২০ হাজার মানুষকে পঙ্গু করে দেওয়া হলেও এর নিন্দা করা হয়নি; বরং সে সময় ভারত হাসিনার পাশে দাঁড়িয়েছিল। এখন মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সবাইকেই তারা আশ্রয় দিয়েছে।
সর্বশেষ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের আশ্রয় দিয়েছে ভারত। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি কিংবা অন্য যেকোনো রাজনৈতিক দলের ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে এ দেশের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকে আমলে নিতে হবে। না হলে ভবিষ্যতে দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনকে কেন্দ্র করে দেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখোমুখি হতে হবে। মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের মানুষ আর কখনো ভারতনির্ভর পররাষ্ট্রনীতি মেনে নেবে না।
আলফাজ আনাম
লেখক : সহযোগী সম্পাদক, আমার দেশ