Image description

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় নিহত বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের (৩২) জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ বুধবার বিকেল ৩টায় উপজেলার সুটিয়া ঈদগাহ ময়দানে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। 

জানাজা শেষে সুটিয়া কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় জেলা ও উপজেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ এলাকার শত শত মানুষ অংশ নেন। 

জানাজা পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি সাগর হোসেন, মহেশপুর উপজেলার সাবেক আমির মাওলানা আব্দুল বারি, আলমডাঙ্গা উপজেলার জামায়াত নেতা দারুস সালাম, জীবননগর উপজেলা আমির মাওলানা সাজেদুর রহমান, নায়েবে আমির শাখাওয়াত হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন, দর্শনা থানা আমির মাওলানা রেজাউল করিম ও দামুড়হুদা থানা আমির নায়েব আলী প্রমুখ।  

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে হাসাদহ বাজারে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানসহ ৪ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার করা হয়। 

পরবর্তীতে তাদের ঢাকার এভারকেয়ার অরোরা (ইম্পেরিয়ালিস্ট) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১ মার্চ রাত ১টার দিকে বড় ভাই হাফিজুর রহমান (৪৬) মারা যান।

বড় ভাইয়ের মৃত্যুর ঠিক ১০ দিন পর গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছোট ভাই মফিজুর রহমানও মৃত্যুর কাছে হার মানেন। নিহতরা জীবননগর উপজেলার সুটিয়া গ্রামের ওয়াহেদ মিয়ার ছেলে। 

এদিকে, হামলায় আহত হাফিজুর রহমানের ছেলে মাহফুজুর রহমানের অবস্থাও বর্তমানে আশঙ্কাজনক। সে বর্তমানে ঢাকার এভারকেয়ার অরোরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। হাফিজুর রহমান নিহতের ঘটনায় গত ২ মার্চ জীবননগর থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৮ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ এ পর্যন্ত মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হাসাদহ বাজারের স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মেহেদী হাসান ও তার বাবা জসিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে। 

তবে মামলার প্রধান আসামি জীবননগর উপজেলা বিএনপি নেতা ময়েন উদ্দীন ময়েনসহ অন্যরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলাইমান শেখ জানান, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের ধরতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।