Image description

ঈদকে সামনে রেখে সিলেটে ফের সক্রিয় আন্ডারওয়ার্ল্ড। দীর্ঘ দিন পর সক্রিয় হয়েছে অপরাধীরাও। পুলিশও সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে। ধরছে, মামলা দিচ্ছে। তবে প্রশ্ন হলো অপরাধ কমছে না কেন? কোতোয়ালি থানার ওসি মাইনুল জাকির। সিলেট নগর, জেলা সম্পর্কে তার জানা শোনা ভালো। চাকরির সুবাদে অনেক আগে থেকে সিলেটের অপরাধীদের সম্পর্কে তার ভালো অভিজ্ঞতা আছে। নগরের সাগরদীঘির পাড়ের ছিনতাই ঘটনার পর তিনি তার ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দেন।

সেখানে তিনি বলেন, ‘আমার থানা এলাকায় ছিনতাইকারী বলতে কিছু থাকবে না। আমি এখানে যোগ দেয়ার পর থেকে অনেকগুলো ছিনতাইকারী ধরেছি। সাগরদীঘির পারের এগুলা যে কোথা থেকে এলো! এই ঘটনা শুনার পর থেকেই আমি পেছনে লেগে আছি। অবশ্যই তাদের ধরা পড়তেই হবে।’ সিলেট নগরে কারা ছিনতাই করছে তা খুঁজে বের করতে পুলিশের গলদঘর্ম অবস্থা।

সূত্র বলছে; সিলেট নগরে হাউজিং এস্টেট ও সাগরদিঘীরপাড়ের ছিনতাইয়ের ঘটনার কাছাকাছিও পৌঁছতে পারেনি পুলিশ। ঘটনাকারী কারা? খুঁজে বের করারও চেষ্টায় পুলিশ। ছিনতাইকারীরা জানে; সিলেট নগর সিসিটিভি ক্যামেরা দ্বারা আচ্ছাদিত। এ কারণে তারা মুখোশ কিংবা হেলমেট পড়ে ঘটনা ঘটায়। আর ঘটনার পর তাদের চিহ্নিত করা কষ্টকর হচ্ছে। হাউজিং এস্টেট ও সাগরদিঘীরপাড়ের ঘটনায় তেমনটি ঘটেছে। তবে পুলিশ যে বসে আছে তা নয়; বরং পরপর দু’টি ছিনতাইয়ের ঘটনা জানান দিয়েছে ফের সক্রিয় হয়েছে সিলেট নগরের আন্ডারওয়ার্ল্ড। অপরাধীরা একেবারে নতুন। অনেকেরই নাম পুলিশের রেকর্ডেও নেই। এ কারণে তাদের চিহিৃত করা কষ্ট হচ্ছে। এরপরও পুলিশ তছনছ করে দিচ্ছে নগরের আন্ডারওয়ার্ল্ড। ইতিমধ্যে পুলিশের অভিযানে নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে অর্ধশতাধিক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের অভিযানে কাঁপছে আন্ডারওয়ার্ল্ড।

একইসঙ্গে নগরের তাতীয়পাড়া থেকে অপহরণ চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরপর দুটি ঘটনা ঘটিয়েছে ওই চক্র। তারা অপহরণ করে নিয়ে বেঁধে রাখতো। উলঙ্গ ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করতো। টাকা দিয়ে ওই চক্রের হাত থেকে রক্ষা পেতেন বলে জানিয়েছেন অপহরণের শিকার হওয়া লোকজন। পরিস্থিতিতে জনগণও সক্রিয় হয়েছে। কয়েক দিন আগে রাতের আঁধারে অপকর্ম করার সময় ৬ জন ছিনতাইকারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে জনতা। মঙ্গলবার নগরের রিকাবীবাজার এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে ছিনতাইয়ের সময় পিছু ধাওয়া করে ট্রাফিক পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদিকে হাউজিং এস্টেটে ঘটনার ১৭ দিন পর পুলিশ কানাইঘাট উপজেলা থেকে রশিদ নামের এক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ বলছে; ডাকাত রশিদ এ ছিনতাইয়ের ঘটনার সঙ্গে জড়িত। আপাতত পুলিশ তদন্ত চালাবে। হাউজিং এস্টেটের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৬ জন। সিসিটিভি ফুটেজে তাই দেখা গেছে। আরও ৫ জনের নাম রশিদের মুখ থেকে জানা যাবে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা। অপরাধী রশিদ। তার অতীত রেকর্ড বলে সে চিহ্নিতদের একজন।

তবে এ ঘটনার সঙ্গে রশিদের জড়িত থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তার পরিবার। এক্ষেত্রে তারা ছিনতাইকারীদের গডফাদার নগরের মেন্দিবাগের নাসির ওরফে বাদশাকে দুষছেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই ও জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য জানা যাবে। এদিকে সিলেটের সাম্প্রতিক অপরাধ নিয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন বস্ত্র, পাট ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। মঙ্গলবার এ নিয়ে মেট্রো পুলিশের হলরুমে বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে মন্ত্রী জানিয়েছেন, সিলেট নগরে মনিটরিং বাড়াতে আইপি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হবে। আর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী নগরের নিরাপত্তা বাড়াতে পুলিশকে আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম কাজ।