রাজধানীর নাহিদ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে মাত্র ২০ হাজার টাকায় হিসাবরক্ষক পদে চাকরি নেন হাসিবুল হাসান রাজিব (৩০) নামের এক যুবক। এরপর প্রতারণা করে গত পাঁচ বছরে (২০১৯-২০২৪) বিভিন্ন সময়ে এই যুবক বিপুল অঙ্কের টাকার হাতিয়ে নেন। যা প্রায় ৫০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে দাবি করছে কম্পানিটি।
অবশেষে ১০ কোটি টাকার প্রতারণার মামলায় হাসিবুল হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার এসআই মো. হারুন বলেন, ১০ কোটি টাকার প্রতারণার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরো কী কী ধরনের মামলা রয়েছে আমরা খোঁজ নিচ্ছি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হাসিবুলের বিরুদ্ধে আরো একাধিক প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির মামলাসহ জুলাই আন্দোলনের একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে।
এন্টারপ্রাইজের কর্মকর্তারা জানান, প্রায় দেড় বছর আগে টাকা আত্মসাৎতের ঘটনা জানাজানির পর হাসিবুলকে কম্পানির মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়। মোট টাকার একাংশ দিয়ে দেবেন বলে লিখিতভাবে অঙ্গীকারনামাও দেন তিনি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই অর্থ ফেরত দেননি।
কর্মকতারা আরো জানান, হাসিবুলের এসব হয়রানি করার উদ্দেশ্য ছিল যেন তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া না হয়। একইসঙ্গে তিনি যে পরিমাণ টাকা আত্তসাৎ করেছেন তা নিয়েও যেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হয়। কিন্তু কম্পানির পক্ষ থেকে হাসিবুলের অপকর্মের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এমনকি তাকে ধরিয়ে দিতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পুরষ্কার ঘোষণাও করা হয়।
জানা যায়, হাসিবুল বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার আফালকাঠি এলাকার রাশিদা বেগম ও আবুল হোসেন শিকদারের সন্তান। তার বাবাও ওই কম্পানির কর্মচারী ছিলেন। সেই সুবাদে তিনি হিসাবরক্ষক পদে চাকরি পান। কিন্তু চাকরি পাওয়ার পরই তিনি কম্পানির ক্ষতিসাধনে লিপ্ত হন।
জানা যায়, হাসিবুল কম্পানি থেকে আত্মসাতকৃত টাকায় মুন্সিগঞ্জের শ্রৗনগর উপজেলায় এককটি ছয়তলা বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া, রাজধানীর উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্লট ও ফ্ল্যাটের শেয়ার কিনেছেন।
নাহিদ এন্টারপ্রাইজের কর্মকর্তা মো. কেতাব আলী জানান, ‘হাসিবের কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করতে কম্পানি আইনের আশ্রয় নেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হাসিব বিভিন্ন সময় সুযোগ বুঝে কম্পানির একাধিক কর্মীর উপর হামলা করেন। একই সঙ্গে নানা অপপ্রচার চালিয়েছেন। তিনি আত্মসাৎ টাকায় বিস্তর সম্পদ গড়েছেন।’
প্রতিষ্ঠানটির আরেক কর্মকর্তা জানান, টাকা আত্মসাতের ঘটনায় কম্পানি হাসিবের মুখোমুখি হয়। এতে হাসিব তার শ্রীনগরের ছয়তলা বাড়িটি কম্পানিকে লিখে দেবেন বলে অঙ্গীকার করেন। কিন্তু গত বছরের ৪ মে হাসিবের অঙ্গীকার মতো রেজিস্ট্রি করতে গেলে উল্টো শ্রীনগর রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে কম্পনির এমডিসহ অন্যান্য কর্মীদের উপর হামলা চালান।
তিনি আরো জানান, হাসিবের সকল অপকর্মের ফিরিস্ত প্রমাণাদি আমাদের কাছে আছে। কম্পানি তার প্রতারণার সকল তথ্যাদি রেখেছে। কম্পনি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায় এবং আত্মসাৎ করা টাকা ফেরত চায়।