Image description

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে ব্যাপক বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী, আটক করা হয়েছে ১২ জনকে। এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেখানে দুটি পুলিশ ক্যাম্পও স্থাপন করা হয়েছে।

আজ সোমবার (৯ মার্চ) ভোর সাড়ে ৫টায় বিশেষ অভিযান শুরু করে যৌথ বাহিনী। এতে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ। এ ছাড়া সার্বিক তদারকি ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন। অভিযানে ওই এলাকা থেকে ২টি আগ্নেয়াস্ত্র (পিস্তল একটি ও এলজি একটি), ৪টি কার্তুজ, ১১টি ককটেল, ১৭টি দেশীয় অস্ত্র, ১৯টি সিসি ক্যামেরা, ২টি ডিভিআর, একটি পাওয়ার বক্স ও ২টি বাইনোকুলার উদ্ধার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ৭ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৩ হাজার ১৮৩ সদস্য অংশ নেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ৪৮৭, জেলা পুলিশের ১৪৬, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ৮০০, রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স (আরআরএফ) চট্টগ্রামের ৪০০, ফেনী জেলা পুলিশের ১০০, পার্বত্য জেলা পুলিশের ৩০০, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ৩৩০, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ১২২ এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ৩৭১ জন সদস্য ছিলেন।

অভিযানকে কার্যকর ও নিরাপদভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ৩টি হেলিকপ্টার, ১৫টি এপিসি কার, র‌্যাব ও সিএমপির ৩টি ডগ স্কোয়াড এবং ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা জঙ্গল সলিমপুর এলাকার বিভিন্ন পাহাড়ি ও দুর্গম স্থানে একযোগে অবস্থান গ্রহণ করে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেন। সন্দেহভাজন আস্তানা, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি, পাহাড়ি পথ, গোপন স্থাপনা এবং অপরাধীদের সম্ভাব্য অবস্থানসমূহে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে মোট ১২ জনকে আটক করেন।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অবৈধ অস্ত্র মজুদ, পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি, অপরাধীদের আশ্রয়স্থল তৈরি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামত থেকে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা, এলাকায় নজরদারি স্থাপন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হত। অভিযান পরিচালনাকালে কোনো প্রকার হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং সার্বিক পরিস্থিতি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অভিযান শেষে জঙ্গল সলিমপুর ছিন্নমূল ও আলীনগর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধীদের পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ বন্ধ করা এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে এলাকায় ২টি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধ দমনে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে জানানো হয়েছে।