হাসপাতালে মেয়েকে চিকিৎসা করাতে গিয়ে গত ৪ মার্চ হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের ডেইলপাড়া এলাকার প্রবাসী নুরুল আলমের স্ত্রী কোহিনুর আকতার। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ খবর নেয়ার পরও সন্ধান না পেয়ে পরিবার থানায় জিডি করেছেন। অবশেষে শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ চেক করার সময় কোহিনুরের সন্ধান মেলে।
নিহত কোহিনুরের নিকটাত্মীয় মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, তাদের সন্দেহের কারণে শনিবার কক্সবাজার সদর হাসপাতালের সিসিটিভি চেক করা হয়। সিসিটিভিতে দেখা যায়, কোহিনুর আকতার নিচতলা থেকে লিফটে চড়ে চারতলায় যান। পরে চারতলা থেকে আবারও লিফটে ওঠেন। এরপর আর তাকে দেখা যায়নি। পরে লিফটের নিচে তারা কোহিনুরের মরদেহ দেখতে পান।
তিনি জানান, গত ৩ মার্চ অসুস্থ মেয়েকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করান কোহিনুর। এরপর ৪ মার্চ হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান তিনি।
রোগীর স্বজনরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন। নিখোঁজের পর থেকেই তারা সিসিটিভি ফুটেজ দেখার জন্য আবেদন করে আসছিলেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপ নেননি। পরে দফায় দফায় আবেদন করার পর শনিবার দুপুরে তা দেখানোর জন্য রাজি হন।
স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে লিফটম্যান থাকলেও তারা ডিউটি করেন না। ঝুঁকিপূর্ণ লিফটে লোকজন ওঠানামা করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।
হাসপাতালের নিচে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মরদেহ সনাক্ত হওয়ার খবরে ভিড় জমেছে। তবে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্তও মরদেহ লিফটের নিচ থেকে বের করা যায়নি। মরদেহের শরীরে পচন ধরায় দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়েছে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সুবক্তগীন সোহেল জানান, লিফটের নিচ থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় তাদের সন্দেহ তৈরি হয়। পরে সিসিটিভি চেক করার সময় বিষয়টি বোঝা যায়। তবে এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।
ঘটনাস্থলে পুলিশের টিম থাকলেও গণমাধ্যমের সঙ্গে তারা কথা বলেননি। মরদেহ উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতা নেয়া হচ্ছে বলে জানান এক কর্মকর্তা।