রাজধানীর কল্যাণপুর নতুন বাজার এলাকার এক মুদি দোকানে গতকাল শুক্রবার তিনটি স্থানে মশার কয়েল জ্বালিয়ে পণ্য বিক্রি করছিলেন রাসেল জনি। এরপরও মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে তাকে বারবার শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে নড়াচড়া করতে দেখা যায়। জানতে চাইলে রাসেল জনি বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে মশার উপদ্রব এতটাই বেড়েছে যে, দিনের বেলায় মশার কয়েল জ্বালিয়েও রক্ষা পাওয়া যায় না। সন্ধ্যা থেকে তো দোকানে ক্রেতারা এসে দাঁড়াতেই পারেন না মশার কারণে। তাই অনেক সময় সন্ধ্যার মধ্যেই দোকান বন্ধ করে চলে যাই। বাসায়ও মশা থেকে রক্ষা নেই। তাই বাসার জানালাগুলো জাল দিয়ে ঘিরে দিয়েছি।’
শুধু রাসেল জনিই নন—রাজধানীর কল্যাণপুর, গাবতলী, মিরপুর, খিলক্ষেত, উত্তরা, বেড়িবাঁধ এলাকা, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ী, পুরান ঢাকা, কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, শনির আখড়া, শ্যামপুরসহ প্রায় পুরো ঢাকাবাসীই মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন।
মশা নিয়ন্ত্রণে বছরের পর বছর ধরে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও ঢাকায় মশার উপদ্রব কমেনি। বরং সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, ঢাকায় মশার উপদ্রব শুধু বেড়েছে তা নয়, তা বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে। জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে মশার ঘনত্ব ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই কিউলেক্স প্রজাতির, যা মূলত নর্দমা ও দূষিত পানিতে বংশবিস্তার করে। মার্চে তাপমাত্রা আরও বাড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশারের নেতৃত্বে পরিচালিত সাম্প্রতিক গবেষণায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগৃহীত নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষকরা দুইভাবে পরিস্থিতি যাচাই করেন—লার্ভা বা শূককীটের ঘনত্ব এবং পূর্ণবয়স্ক মশার উপস্থিতি গণনা। লার্ভা পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন জলাশয় থেকে ২৫০ মিলিলিটার পানি সংগ্রহ করে তাতে লার্ভা গণনা করা হয়। জানুয়ারিতে গড়ে ৮৫০টি লার্ভা পাওয়া গেলেও ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় গড়ে ১ হাজার ২৫০টিতে। পূর্ণবয়স্ক মশার উপস্থিতি নিরূপণে একজন মানুষের হাঁটু পর্যন্ত পা ও বাহু উন্মুক্ত রেখে এক ঘণ্টায় কতটি মশা কামড়াতে আসে, তা গণনা করা হয়। জানুয়ারিতে এ সংখ্যা ছিল ৪০০ থেকে ৬০০। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে গড়ে সাড়ে ৮শতে পৌঁছেছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী যেখানে ঘণ্টায় পাঁচটি মশা কামড়াতে এলেই তা উদ্বেগজনক ধরা হয়, সেখানে ঢাকায় ঘণ্টায় ৮৫০টি মশা কামড়াতে আসে, যা মারাত্মক বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজধানীর সর্বত্র মশার বিস্তার সমান নয়। কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, শনির আখড়া, শ্যামপুর, রায়েরবাজার, উত্তরা ও সাভার এলাকায় লার্ভা ও পূর্ণবয়স্ক মশার ঘনত্ব বেশি, যেখানে শাহবাগ ও পরীবাগ এলাকায় এ সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সহযোগিতায় রাজধানীর পাঁচ এলাকায় ২৪ ঘণ্টা ফাঁদ পেতে মশা সংগ্রহ করা হয়। ১৬ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ দিনে ১৭ হাজার ১৫৯টি মশা ধরা পড়ে। ৩০ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একই পদ্ধতিতে পাওয়া যায় ২২ হাজার ৩৬২টি। উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের পার্ক, মিরপুর ২-এর ভান্ডার শাখা অফিস, গুলশান ১-এর পুরোনো ভান্ডার অফিস, মিরপুর ১-এর ১০ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টার ও মোহাম্মদপুরের আঞ্চলিক অফিস এলাকা ছিল জরিপের আওতায়।
বাংলাদেশে সাধারণত তিন প্রজাতির মশা বেশি দেখা যায়—কিউলেক্স, এডিস ও অ্যানোফিলিস। এর মধ্যে কিউলেক্সের বিস্তার সবচেয়ে বেশি। কিউলেক্সের কামড়ে ফাইলেরিয়া ও জাপানি এনসেফালাইটিসের ঝুঁকি থাকে।
আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৩ সালে দেশের মোট ডেঙ্গু রোগীর অর্ধেকের বেশি শনাক্ত হয় ঢাকায়। একই বছরে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭০ শতাংশই ঘটে রাজধানীতে। গবেষণায় ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোকে ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, সবুজবাগ, শ্যামপুর, তেজগাঁও, ধানমন্ডি ও উত্তরা রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে এক মাসেই ২৪ হাজার ৫শর বেশি রোগী এবং ১শর বেশি মৃত্যু রেকর্ড হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার শীতকাল দীর্ঘ সময় স্থায়ী না হওয়ায় কিউলেক্স মশা জন্মানোর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শীত দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মশক নিধনে সিটি করপোরেশনের সমন্বয়হীনতা, ড্রেন ও খাল নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়া এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ স্থগিত থাকায় এবার কিউলেক্স মশার প্রাদুর্ভাব বেশি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার কালবেলাকে বলেন, ‘ঢাকায় প্রতিনিয়তই কিউলেক্স মশার উপদ্রব বেড়ে যাচ্ছে, যা মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলবে। বড় ধরনের ঝড় ও বৃষ্টিপাত না হলে মশার উপদ্রব সহজে কমবে না। জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে মশার সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে এবং তা ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে ঢাকায় প্রায় ৯২ শতাংশ মশা কিউলেক্স এবং এডিস প্রায় ০.৫ শতাংশ।’
তিনি বলেন, ‘রাজধানীর সর্বত্র সমানভাবে মশা নেই। ঢাকার পেরিফেরি এলাকা যেমন—মুগদা, মান্ডা, খিলগাঁও, কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, শনির আখড়া, শ্যামপুর, রায়েরবাজার, উত্তরা ও রাজধানী সংলগ্ন সাভার এলাকায় লার্ভা ও প্রাপ্তবয়স্ক মশার ঘনত্ব বেশি। অন্যদিকে শাহবাগ, ফার্মগেট ও পরীবাগের মতো মধ্যাঞ্চলে তুলনামূলক কম।’
মশা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে তিনি বলেন, শীতের তীব্রতা কম ও স্থায়িত্ব কম থাকা, ড্রেন, খাল, লেক ও জলাশয়ের দূষণ যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ না করা এবং সিটি করপোরেশনে জনপ্রতিনিধি না থাকায় মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে ঢিলেমি—এসব বিষয় দায়ী। তবে কার্যকর মশক নিধন ব্যবস্থা না নিলে বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর এডিস মশা দ্রুত বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক জিএম সাইফুর রহমান বলেন, ‘অতীতে মার্চের মাঝামাঝি থেকে কিউলেক্সের উপদ্রব বাড়লেও এ বছর তা ফেব্রুয়ারি থেকেই বাড়ছে, যা কালবৈশাখীর আগমন পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘চলতি বছর শীতকালের ব্যাপ্তি কম ছিল এবং গরম তাড়াতাড়ি শুরু হয়েছে। কিউলেক্স সাধারণত আগস্ট থেকে বংশবিস্তার শুরু করে। শীতে তাপমাত্রা কমে গেলে মশার শরীরে হরমোন ও এনজাইমের কার্যকারিতা কমে যায়, ফলে মশার লার্ভার বৃদ্ধি যেমন ব্যাহত হয়, তেমনি স্ত্রী মশার রক্তপানের আগ্রহও কমে যায়। কিন্তু তাপমাত্রা বাড়লে এই প্রক্রিয়া উল্টো হয়, অর্থাৎ দ্রুত জীবনচক্র সম্পন্ন করে এবং স্ত্রী মশার রক্তপানের চাহিদা বাড়ে। ঘন ঘন ও বেশি পরিমাণে ডিম উৎপাদনে প্রয়োজনীয় বাড়তি প্রোটিন রক্তপান থেকে সঞ্চয় করে। ডিম দেওয়ার এ বাড়তি ক্ষমতা মশার দ্রুত বংশবিস্তারে নিয়ামক ভূমিকা পালন করে।’
মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী: শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী আফসানা তাজরিমিন জানান, ‘পড়তে বসলে মশা ঘিরে ধরে। অ্যারোসল ব্যবহার করলে কিছুক্ষণ কমে, পরে আবার আগের মতো হয়।’
মেট্রোরেলের ভেতরেও মশার উৎপাত বাড়ার কথা জানান যাত্রী আরিফুল হক। তিনি বলেন, ‘ট্রেনের ভেতরেও মশা দেখা যাচ্ছে। দাঁড়িয়ে থাকলে কামড়ায়, বসে থাকলেও রেহাই নেই। এখন যাতায়াতের সময়েও মশার সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে।’
খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা হোসাইন তারেক কালবেলাকে বলেন, ‘মশার উপদ্রব থেকে ৬ মাসের শিশুকে নিরাপদ রাখতে গরমের মধ্যেও হাত-পায়ে মোজা পরিয়ে রাখতে হচ্ছে। সারাক্ষণ মশারির ভেতরে রাখলেও মশার কামড় থেকে রেহাই মিলছে না। শরীরে ক্রিম ব্যবহার করেও কাজ হচ্ছে না। পুরো ঢাকায় মশার এত উপদ্রব, কিন্তু মশককর্মীদের তেমন সক্রিয়ভাবে কীটনাশক প্রয়োগ করতে দেখা যায় না।’
আইনি নোটিশ: মশার উপদ্রব বন্ধ ও উৎসস্থল ধ্বংসে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব এবং ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন আইনজীবী এইচ এম রাশিদুল ইসলাম। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে পদক্ষেপ না নিলে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী রিট পিটিশন দায়েরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি নিজে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন এবং অক্টোবরে জান্নাতি রেহানা নামে এক নারী ডেঙ্গুতে মারা যান। এতে বলা হয়, এডিস ও কিউলেক্সের আধিক্য নাগরিকের জীবন, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি। প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
মশকনিধনে মাঠের পরিস্থিতি: ডিএনসিসির অঞ্চল-৯-এর আওতাধীন ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের নূরেরচালা ও খিলবাড়িরটেক এলাকায় রাস্তা এবং ড্রেন সংস্কারের কাজ কয়েক মাস ধরে পড়ে আছে। একদিকে এসব এলাকা অপরিচ্ছন্ন, অন্যদিকে উন্নয়ন কাজ থমকে থাকায় সেখানে মশার বংশবিস্তার হচ্ছে।
খিলবাড়িরটেক পশ্চিমের বাসিন্দা হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘মশার উপদ্রবে সন্ধ্যার পর বাসার দরজা-জানালা খোলা যায় না। মশা মারার অ্যারোসল বা কয়েল জ্বালিয়েও নিস্তার নেই। সপ্তাহে একবার সিটি করপোরেশনের মশক কর্মীদের দেখা যায়, কিন্তু সব জায়গায় কীটনাশক প্রয়োগ করা হয় না। গত দুই সপ্তাহে মশার উপদ্রব আরও বেড়েছে। রাতে রাস্তায় বের হলে মনে হয় মশা তুলে নিয়ে যাবে। এখন ওয়ার্ড কাউন্সিলর না থাকায় অভিযোগ করেও কোনো ফল পাই না।’
ওই ওয়ার্ডের ঢাকা উত্তর সিটির মশক সুপারভাইজার সাকিল হোসেন কালবেলাকে বলেন, ‘এই ওয়ার্ডে রাস্তা ও ড্রেনের কাজ চলায় পানি ও বর্জ্য জমে থাকে। ফলে সেখানে কীটনাশক প্রয়োগ করেও খুব একটা কার্যকর ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া বিভিন্ন ভবনের আশপাশে মশক কর্মীদের প্রবেশে বাধা দেওয়ায় জমে থাকা বর্জ্যে মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। জনপ্রতিনিধি না থাকায় আমরা ঠিকভাবে কাজ করতে পারছি না। মশার উপদ্রব বাড়লেই বাসিন্দারা মশক কর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।’
ঢাকা উত্তরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের মশক সুপারভাইজার আনোয়ার শাদাৎ বলেন, এই ওয়ার্ডের খালগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় এবং ভবনের আশপাশে জমে থাকা বর্জ্যের কারণে মশার বংশবিস্তার বেশি হচ্ছে। এসব জায়গায় কীটনাশক প্রয়োগ করেও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না। জনপ্রতিনিধি না থাকা এবং বর্জ্য সঠিকভাবে অপসারণ না হওয়ার কারণে মশা নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হচ্ছে।
ঢাকায় ১০ বছরে হাজার কোটি টাকা ব্যয়েও সুফল কম: গত ১০ বছরে মশানিধন কর্মসূচি ও কীটনাশক কেনায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ—এ দুই সিটি করপোরেশন মোট ১ হাজার ১২ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। তবুও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঢাকায় মশা নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি।
বার্ষিক বাজেট পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যয় করেছে ৬৮৮.৩৯ কোটি টাকা এবং ঢাকা দক্ষিণ ব্যয় করেছে ৩২৩.৬৩ কোটি টাকা। এই ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ গেছে কীটনাশক কেনায়।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মশা নিয়ন্ত্রণে ১৮৭.৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যার মধ্যে ৮০ কোটি টাকা কীটনাশক কেনায় ব্যয় হবে। এ ছাড়া আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনায় ৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এ খাতে ৫৩.৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যার মধ্যে ৪৫ কোটি টাকা কীটনাশক কেনায় ব্যয় হবে।
সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের কীটনাশক ও যন্ত্রপাতি কেনা সম্পন্ন হয়েছে। তবে এবারের মশকনিধনে বরাদ্দের চেয়েও বেশি ব্যয় হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অন্য কোনো সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা মশা নিয়ন্ত্রণে ঢাকার মতো এত ব্যয় করে না। তবুও ঢাকার বাসিন্দারা এর সুফল পাচ্ছেন না।
মশা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা ঢাকার নবনিযুক্ত দুই প্রশাসকের: ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক যোগদানের পর বুধবার মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিদর্শনে বের হন। তারা দুই সিটির মশকনিধনের কীটনাশক সংরক্ষণাগার পরিদর্শন করেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির নবনিযুক্ত প্রশাসক আব্দুস সালাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঢাকা শহর পরিষ্কার রাখতে হবে; সামনে মশার উপদ্রব বাড়বে। এখন থেকেই কীভাবে মশা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। একই সঙ্গে ঢাকা পরিষ্কার রাখতে বর্জ্য থেকে কীভাবে বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদন করা যায়, সে বিষয়েও পরিকল্পনা নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘নগরে মশার যে সমস্যা, বলা যায় প্রতিটি মহানগরই অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন। তাই মশাসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধান করে দ্রুত জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছে অর্পণ করা হবে। মশা নিয়ন্ত্রণ শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। জনগণকেও সচেতন হতে হবে। নাগরিকরা সচেতন না হলে শুধু সিটি করপোরেশনের পক্ষে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।’
ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘অনেক এলাকায় সিটি করপোরেশনের উন্নয়নকাজ এখনো শেষ হয়নি। দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। যেখানে যেখানে অব্যবস্থাপনা রয়েছে, সেগুলো খতিয়ে দেখা হবে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব।’
তিনি বলেন, ‘শুধু মশার ওষুধ দিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। কার্যকরভাবে মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য সামাজিক সচেতনতা ও মনিটরিং বৃদ্ধি করতে হবে।’ মশককর্মীদের সময়মতো ও আন্তরিকভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন প্রশাসক।