Image description

‘অস্ট্রেলিয়ান অব দ্য ইয়ার’ খেতাবপ্রাপ্ত গ্রেস তামের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। যিনি কিশোরী বয়সে শিক্ষকের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন।

 

গ্রেসকে একটি এক শব্দের কুইজ খেলায় উপমা দিয়ে ‘কঠিন’ বলে উল্লেখ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

 

২০২১ সালের ‘অস্ট্রেলিয়ান অব দ্য ইয়ার’ খেতাবপ্রাপ্ত হন গ্রেস। শিশু যৌন নির্যাতনের শিকারদের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকার জন্য গ্রেস এ সম্মাননা পান। তাকে বর্ণনা করতে ‘কঠিন’ শব্দটি ব্যবহার করেন প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ।

৩১ বছর বয়সি গ্রেস বলেন, এইরকম বর্ণনা একজন নারীর প্রতি বিদ্বেষমূলক কোড। এখানে চুপ করে থাকা যায় না।

এ ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেন, ‘যদি কোনো ভুল ব্যাখ্যা হয়ে থাকে, তবে আমি দুঃখিত। টেম খুব কঠিন জীবন পার করেছেন, তবে তিনি সেটিকে অন্যদের উপকারে রূপান্তরিত করার জন্য বড় কৃতিত্বের দাবিদার।’

কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর গ্রেস টেম তার ইনস্টাগ্রামে লেখেন, ‘এই পিতৃতান্ত্রিক ভঙ্গিতে কথা বলা বন্ধ করুন। আমরা সবাই জানি আপনি কী বোঝাতে চেয়েছেন।’

 

গ্রিনস নেতা লারিসা ওয়াটার্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, টেমকে ‘কঠিন’ বলা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। নারীদের ‘কঠিন’ তকমা দিয়ে আমাদের চুপ করানো যাবে না। পরেরবার ‘অদম্য’, ‘যোদ্ধা’ বা ‘তেজস্বী’ বলার চেষ্টা করুন প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার দ্রুত প্রতিক্রিয়া কুইজে প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ আরও কিছু এক-শব্দের মন্তব্য করেন। যেমন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বলেন ‘প্রেসিডেন্ট’, বিরোধী জোটের নতুন নেতা এনগাস টেইলরের জন্য বলেন ‘নেতা’, এবং অভিবাসনবিরোধী দল ‘ওয়ান নেশন’-এর প্রধান পলিন হ্যানসনকে বলেন ‘বিভাজনমূলক’।

টেমকে ‘অস্ট্রেলিয়ান অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননা দেওয়া হয়েছিল তাসমানিয়া অঙ্গরাজ্যে এমন আইন বাতিলের প্রচেষ্টার জন্য, যা যৌন নির্যাতনের শিকারদের নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে বলতে নিষিদ্ধ করত।

১৫ বছর বয়সে টেম তার ৫৮ বছর বয়সি গণিত শিক্ষক নিকোলাস অক্কার্ট বেস্টারের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় ২০১১ সালে বেস্টার দোষী সাব্যস্ত হন এবং এক বছর নয় মাস কারাদণ্ড ভোগ করেন।

সূত্র- বিবিসি