বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, কথা কম বলতে চাই, কাজ বেশি করব। বৃহস্পতিবার সকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যালয়ে আসার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিজের প্রতিক্রিয়ায় এ মন্তব্য করেন তিনি। এসময় তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ও প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভবনে আসার পর প্রথমে ওপরে গিয়ে ডেপুটি গভর্নরদের সঙ্গে বৈঠক করেন নতুন গভর্নর। এরপর তিনি নির্বাহী পরিচালকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে বেলা ২টায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে গভর্নরের বরাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর গভর্নর কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগে সক্রিয় সহযোগিতার কথা বলেছেন। অর্থনীতিকে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানমুখী করতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আরিফ হোসেন খান বলেন, গভর্নর পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ম্যাক্রো-অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি সেই স্থিতিশীলতাকে ভিত্তি করে অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনতে কাজ করবেন বলে জানান।
বিশেষ করে গত দেড় বছরে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে নীতিগত সহায়তা, প্রয়োজনীয় প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং খাতে সমন্বয় জোরদার করার কথা বলেন। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আরিফ হোসেন খান বলেন, সভায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন গভর্নর। একই সঙ্গে বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে এমন উচ্চ সুদের হারের বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
মুখপাত্র বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া পুরোপুরি নিয়ম-ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন করা হবে বলে গভর্নর জানান। কাজের গতি বাড়াতে ‘ডেলিগেশন অব অথরিটি’ বা ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ানো কথা বলেন তিনি।