জুলাই গণহত্যার বিষয়ে, বিচারের ব্যাপারে বিএনপি তাদের পজিশন (অবস্থান) কী এখনো পর্যন্ত উপস্থাপন করতে পারে নাই। গণ-অভ্যুত্থান ও গণভোট এবং জুলাই আদেশের মধ্য দিয়ে এই সরকার গঠন হয়েছে। যদি জুলাই সনদের আদেশ বিএনপি সরকার পরিপালন না করে এই বাংলাদেশের জনগণ বিএনপির সরকারের সাথে থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন ১১ দলের সমর্থিত রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন।
আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রংপুরের কাউনিয়া মোফাজ্জল হোসেন মডেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ১১ দলের আয়োজনে গণসংবর্ধনা ও গণ-ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে আখতার হোসেন এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘২৪ শের আগপর্যন্ত বিএনপির সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা গণতন্ত্রের কথা বলেছি। কিন্তু ১২ তারিখের পর থেকে বিএনপি বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার সাথে প্রতারণা করছে। বিএনপি বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি শুরু করেছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিএনপির সন্ত্রাসীরা তাণ্ডব শুরু করেছে।’
আখতার হোসেন আরও বলেন, বিএনপি সরকারকে যে পরিমাণ মানুষ ভোট দিয়েছে, তার থেকে দ্বিগুণ মানুষ গণভোটের পক্ষে বলেছে। যে পরিমাণ মানুষের সমর্থনে বিএনপি সরকার, তার থেকে বেশি সমর্থনের গণভোটকে যদি উপেক্ষা করার চেষ্টা করা হলে বাংলাদেশের মানুষ বিএনপি সরকারকেও ছাড় দেবে না।
গণভোট প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের জনগণের সবার অভিপ্রায়ে গণভোট পাস হয়েছে। সেই গণভোট নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বাংলাদেশের মানুষ কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেবে না। গণভোটের ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে গণভোটের রায়, সংস্কার বাস্তবায়নের পক্ষে বিএনপি সরকারকে কাজ করতে হবে। যদি সংস্কার বাস্তবায়ন করা না হয় এই বাংলাদেশের মানুষ ২৪ শের মতো করে আবারও রাজপথে নেমে আসবে।
কাউনিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুস সালাম সরকারের সভাপতিত্বে গণসংবর্ধনা ও গণ-ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের উপজেলা শাখার আমির মো. আব্দুর রহিম, নায়েবে আমির শেখ নজরুল ইসলাম, এনসিপি জেলা শাখার সংগঠক মো. মোস্তাইন বিল্লাহ, সংগঠক মো. রেজা আহমেদ, এনসিপি উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী মো. সাইদুল ইসলাম, যুগ্ম সমন্বয়কারী মো. জিল্লুর রহমান, সংগঠক মো. রায়হান আহমেদ প্রমুখ।