Image description

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেছেন, গত ৫৫ বছরে দেশের পররাষ্ট্রনীতি ছিল নতজানু। বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার তাদের মেয়াদের একেবারে শেষ সময়ে এসে আমেরিকার সঙ্গে একটি গোপন বাণিজ্য চুক্তি করে, যার ফলে আগামী ৫ বছরে দেশ থেকে ৪২ হাজার কোটি টাকার মার্কিন কৃষিপণ্য আমদানি করতে হবে। এটি দেশের কৃষি ও কৃষককে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে।

 

গত ৫৫ বছরে ভারত, আমেরিকা ও জাপানের সঙ্গে হওয়া সব আন্তর্জাতিক চুক্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করার এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের কার্যক্রম নিয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের জন্য নতুন সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।

 

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা প্রথম ১০০ দিনের অগ্রাধিকার’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদ।

বজলুর রশিদ বলেন, শুধু নির্বাচন মানেই গণতন্ত্র নয়। হিটলার বা মুসোলিনিও নির্বাচনের মাধ্যমে এসে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল। নির্বাচিত সরকার কতটুকু গণতান্ত্রিক, তা নির্ভর করে জনগণের ক্ষমতায়ন ও মৌলিক অধিকার রক্ষার ওপর।

তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা ‘দাসখত’ দিয়ে তাদের দাসত্ব স্বীকার করেছিলেন। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী বদলানো সম্ভব নয়, তাই সমমর্যাদা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়তে হবে। 

তিনি অভিযোগ করেন, ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান দিলেও আদানির সঙ্গে হওয়া জাতীয় স্বার্থবিরোধী ভয়াবহ বিদ্যুৎ চুক্তি বাতিলের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ২০২৬ সালে গঙ্গার পানি চুক্তির নবায়ন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন বর্তমান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাচন প্রসঙ্গে বজলুর রশিদ বলেন, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩৬ জনই কোটিপতি। এটি কার্যত একটি কোটিপতিদের ক্লাবে পরিণত হয়েছে। যেখানে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ রক্ষা হওয়া কঠিন। নির্বাচন সংস্কার কমিশন যেসব প্রস্তাব দিয়েছিল, তার একটিও মানা হয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত দাবি করে তিনি বলেন, ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি এবং আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে ১৪ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে, নতুন সরকারের উচিত তা তদন্ত করা। এছাড়া শেখ হাসিনার বিচার ছাড়া অন্য কারো বিচার তেমনভাবে এগোয়নি।

তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরদের মধ্যে সিন্ডিকেট ও রাজসাক্ষী কেনাবেচার অভিযোগেরও তদন্ত দাবি করেন।

জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার এবং আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অনেক আহত মানুষ এখনো হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন, অথচ সরকার তাদের যথাযথ দায়িত্ব নেয়নি। পুকুরভিত্তিক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে ২ কোটি মানুষের ভাগ্য বদলের পরিকল্পনা করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি শেখ আবদুন নূরের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তৃতা করেন সাংবাদিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব সোহরাব হাসান, মনজুরুল ইসলাম, আশরাফ কায়সার, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক প্রমুখ।