খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনটি ছিল বিএনপির শতভাগ কনফার্ম সিটের মধ্যে একটি। এই আসনে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও নির্বাচন করেছিলেন। এমন নিশ্চিত আসনে প্রার্থীও করা হয়েছিল দলের দীর্ঘদিনের কান্ডারি জনপ্রিয় নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে। ২০০৮ সালে দলের ভরাডুবির সময়ও এই আসনে ধানের শীষের জয় এনে দিয়েছিলেন তিনি। অথচ এবার পারলেন না।
দলীয় কোন্দলে খুলনার বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে বিরোধের জেরে মঞ্জুকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন খুলনার মানুষ। জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত না হলেও তাই খুলনার উন্নয়নে মঞ্জুকেই বেছে নেওয়া হলো। খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাকে।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। ওই চিঠিতে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে খুলনা সিটি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এবারের সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি দোষারোপের প্রবণতা বাড়তে থাকে। দলটির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত খুলনা-২ আসনে ভবিষ্যতে বিএনপি ঠিকমতো ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলে। আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী কে হতে পারেন, তা নিয়েও নানা গুঞ্জন শুরু হয়। দলীয় কোনো পদ-পদবি না থাকা নজরুল ইসলাম মঞ্জুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। এসব আলোচনার মধ্যেই খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেলেন তিনি।