দুটি আসনে বিজয়ী হওয়ার পর শপথ গ্রহণের আগের দিন বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর ফলে ওই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেনি। বিষয়টি নিয়ে বগুড়াসহ জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
বগুড়া-৬ আসনটি বহুদিন ধরে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয়লাভ করেন।
১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ধানের শীষ প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পান তারেক রহমান।
উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন কে পাবেন—তা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। আলোচনায় রয়েছে তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানের নাম।
এ ছাড়া স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কয়েকজন নেতাকেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র রেজাউল করিম বাদশা, সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র একেএম মাহবুবুর রহমান, সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম, বগুড়া-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার এবং বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল।
বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন, এখনো উপনির্বাচনের প্রার্থী নির্ধারণ হয়নি। তফসিল ঘোষণার পর দলের হাইকমান্ড বিষয়টি বিবেচনা করে যথাসময়ে সিদ্ধান্ত জানাবে।
দলীয় সূত্রের দাবি, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসন জিয়া পরিবারের ঐতিহ্যবাহী এলাকা হিসেবে পরিচিত। আসন্ন উপনির্বাচনে পরিবারের কেউ মনোনয়ন পাবেন, নাকি স্থানীয় কোনো নেতা সুযোগ পাবেন—সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারম্যান।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়ন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।