Image description

রংপুরে ডালডা, পামওয়েল ও কৃত্রিম ফ্লেভার ব্যবহার করে ‘সিটি ঘি’ নামে নকল ঘি উৎপাদনের একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৫ মণ ভেজাল ঘি উদ্ধার করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ ঘটনায় নকল ঘি তৈরির উদ্যোক্তা মাইদুল ইসলামকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর দামোদরপুর গ্রামের প্রেসিডেন্ট মোড় এলাকায় ভাড়া নেওয়া একটি বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তার মাইদুল ইসলাম পীরগাছা উপজেলার আদম গণেশের খামার এলাকার হোসেন আলীর ছেলে

পুলিশ জানায়, প্রায় ছয় মাস আগে ওই বাড়িটি ভাড়া নিয়ে মাইদুল ইসলাম গোপনে নকল ঘি উৎপাদনের কারখানা স্থাপন করেন। কোনো ধরনের দুধ বা দুগ্ধজাত উপাদান ছাড়াই শুধু ডালডা, পামওয়েল ও কৃত্রিম ফ্লেভার ব্যবহার করে তিনি ‘সিটি ঘি’ নামে নকল ঘি তৈরি করতেন। পরে আকর্ষণীয় মোড়ক ও কৌটায় ভরে তা বাজারজাত করা হতো।

শনিবার বিকেলে মেট্রোপলিটন ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী এসব তথ্য জানান।

 
তিনি বলেন, “গ্রেপ্তার মাইদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে নকল ঘি উৎপাদন করে আসছিলেন। তার তৈরি ঘি রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সরবরাহ করা হতো।”
 

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, পবিত্র রমজান মাস ও আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে মাইদুল নকল ঘির উৎপাদন কয়েকগুণ বাড়িয়েছিলেন। কারণ এই সময় ঘি ও দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদা তুলনামূলক বেশি থাকে।

 
সাধারণ ভোক্তারা সহজেই প্রতারিত হওয়ার সুযোগ নিচ্ছিলেন তিনি।

 

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশ কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ নকল ঘি, খালি কৌটা, সিল করার মেশিন, কৃত্রিম ফ্লেভার, পামওয়েল ও অন্যান্য উৎপাদন সামগ্রী জব্দ করে। উদ্ধারকৃত নকল ঘির পরিমাণ প্রায় ৫ মণ বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, “নকল ঘি মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এ ধরনের ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 
” তিনি আরও জানান, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ‘সিটি ঘি’ নামটি ব্যবহার করে মাইদুল ইসলাম মূলত নামকরা ব্র্যান্ডের সঙ্গে মিল রেখে ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করতেন। অনেকেই এটি আসল ও মানসম্মত ঘি ভেবে কিনতেন।

এ ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্ট মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছেন, নিয়মিত বাজার তদারকি ও কঠোর নজরদারি না থাকলে এ ধরনের ভেজাল পণ্য সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠবে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার মাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও প্রতারণার অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে নকল ঘি সরবরাহের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্তে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।