Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি। এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন। সংবিধান অনুযায়ী এসব আসনে তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রয়াত তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে উপস্থিত থেকে এক সময় আলোচনায় আসা ছাত্রদল নেত্রী অ্যাডভোকেট ডালিয়া রহমান আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে।

 
এবার তিনি জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।
 

দলীয় সূত্র জানায়, ডালিয়া দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিভিন্ন দুঃসময়ে রাজপথের কর্মসূচিতে তার সক্রিয় উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

২০০৮ সালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ব্যাচে বিবিএর হিসাববিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন ডালিয়া।

 
তবে ছাত্রদলের রাজনীতি করার কারণে ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগের অব্যাহত হুমকির মুখে ২০১০ সালে তিনি ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য হন। পরবর্তীতে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে এলএলবি (অনার্স)-এ ভর্তি হয়ে ফের ছাত্রদল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হন। ২০১২ সালে ছাত্রদল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান।

 

বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরা, বিভিন্ন সাংগঠনিক সফর ও দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামের সময় তাকে নিয়মিত দেখা গেছে।

 
সে সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিও তাকে তৃণমূল পর্যায়ে পরিচিত করে তোলে।

বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আন্দোলনের কঠিন সময়ে অনেকেই আড়ালে থাকলেও ডালিয়া রাজপথ ছাড়েননি। গুম-ভয়-নির্যাতনের শঙ্কা উপেক্ষা করে তিনি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। তাদের ভাষায়, ‘এমন সাহসী ও পরীক্ষিত কর্মীদের মূল্যায়ন হওয়া উচিত।’

দলীয় সূত্র আরো জানায়, ডালিয়ার পরিবারও দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

 
পারিবারিকভাবে জাতীয়তাবাদী আদর্শে বেড়ে ওঠা ডালিয়া ছাত্রজীবন থেকেই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন। আন্দোলন-সংগ্রামে পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ততাও তাকে রাজনৈতিকভাবে অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানান ডালিয়া। 

ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন ডালিয়া। ২০২২ সাল পর্যন্ত  তিনি ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ সাধারণ সম্পাদক এবং সহ-সম্পাদকের  দায়িত্ব পালন করেছেন।

ডালিয়া রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, স্বৈরাচার আওয়ামী সরকার বিরোধী সব আন্দোলন-সংগ্রামে সহযোদ্ধা ভাই-বোনদের সঙ্গে সক্রিয় ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রীর ভালোবাসা পাওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে অর্জন। 

তিনি আরো বলেন, দলীয় সব কর্মকাণ্ডে, আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা ও নিজের জীবনকে তুচ্ছ মনে করে মাতৃতুল্য প্রিয় নেত্রীর নিরাপত্তায় সর্বদা আমিও ছিলাম। একদিন না দেখলে যিনি তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত অথবা ব্যক্তিগত স্টাফদের কাছে খবর নিতেন ‘কি ব্যাপার, আজ ডালিয়া আসেনি? ওর কোনো সমস্যা? চেয়ারপার্সন সিকিউরিটি ফোর্সের (সিএসএফ) দায়িত্ব পালন করা একাধিক সদস্য এ প্রতিবেদককে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন।

রাজনীতির পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনেও সক্রিয় তিনি। জাতীয় পর্যায়ের একটি টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হয়ে ডাবলসে অংশ নিচ্ছেন। গত ডিসেম্বরে দক্ষিণ এশীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বও করেছেন। রাজনৈতিক ও ক্রীড়া—দুই অঙ্গনে তার উপস্থিতি তাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।
সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ঘিরে বিএনপির ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ের সক্রিয় ও পরীক্ষিত নেত্রী হিসেবে ডালিয়া রহমানের নাম এখন উচ্চারিত হচ্ছে জোরালোভাবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে দলীয় উচ্চপর্যায়ের বিবেচনার ওপর।