পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে জরুরি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ লক্ষ্যে বন্দরকে সপ্তাহের সাতদিন ২৪ ঘণ্টা অপারেশন মোডে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে অনুষ্ঠিত দুটি কৌশলগত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান। বৈঠকে কাস্টম হাউস, বাংলাদেশ রেলওয়ে ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খেজুর, ফলমূল, মসলা, চিনি ও ভোজ্যতেলের মতো রমজানকেন্দ্রিক পণ্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুল্কায়ন ও খালাস নিশ্চিত করা হবে। কাস্টমস ২৪ ঘণ্টা আমদানি পণ্যের শুল্কায়ন এবং রপ্তানি পণ্যের জাহাজীকরণ কার্যক্রম চালু রাখবে। একইসঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষও সার্বক্ষণিক অপারেশন পরিচালনা করবে।
বন্দরে আটকে থাকা প্রায় দুই হাজার ঢাকামুখী কনটেইনার দ্রুত পরিবহনের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের মাধ্যমে বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ শুরু করা হয়েছে। এছাড়া অপারেশনাল কার্যক্রম ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের জন্য দুটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
বন্দর এলাকায় স্ক্যানারসংক্রান্ত জটিলতা ও যানবাহনের সারি কমাতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে দ্রুত স্ক্যানার মেরামত ও আধুনিকায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বন্দরের প্রতিটি যন্ত্রপাতি সচল রাখতে একটি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ও গঠন করা হয়েছে।
বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে সরবরাহ শৃঙ্খলে কোনো বিলম্ব বরদাস্ত করা হবে না। সাপ্লাই চেইনে বিলম্বের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিন বন্দরের অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়াতে সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আরিফ আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে পৃথক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বিএফএফএ, বিকডা, চিটাগাং চেম্বার, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, কাস্টমস প্রতিনিধি, রেলওয়ে প্রতিনিধি ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বৈঠকে অংশীজনেরা সপ্তাহে সাতদিন ২৪ ঘণ্টা অপারেশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অতিরিক্ত জনবল ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।