Image description
 

কুমিল্লায় মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরত্বের ব্যবধানে পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজারে লেবু-বেগুন এবং অধিকাংশ সবজির দাম তিনগুণ বেশি আদায় করা হচ্ছে। জেলার নিমসার পাইকারি বাজার থেকে এসব কাঁচা সবজি নিয়ে নগরীর বাজার গুলোতে ভোক্তাদের কাছ থেকে তিনগুণ বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

 

এদিকে ভোক্তা অধিকার এবং জেলা প্রশাসনের অভিযানে বাজার কারসাজি নিয়ন্ত্রণে না আসায় সাধারণ নাগরিকদের মাঝে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। 

সরেজমিন বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকা। অথচ নিমসার পাইকারি বাজারে লেবুর হালি ৪০-৫০ টাকা। কালো বেগুন কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকা। নিমসার পাইকারি বাজারে একই বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি দরে।  

নগরীর রাজগঞ্জ, রাণীর বাজার, টমছম ব্রিজ বাজার, বাদশা মিয়া বাজার ও চকবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাহে রমজানকে কেন্দ্র করে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে লেবু এবং বেগুনের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া ধনেপাতা, কাঁচা মরিচ, সিম, টমেটোসহ অধিকাংশ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। 

নগরীর রাজগঞ্জ বাজারের লেবু ব্যবসায়ী হোসেন মিয়া জানান, এখন লেবুর মৌসুম নয়। গাছে নতুন ফুল ও ছোট আকারের লেবু আছে। বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় লেবুর দাম বেড়েছে। লেবুর দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা হচ্ছে।

বাদশা মিয়ার বাজারের কাঁচা মাল ব্যবসায়ী আবদুল আজিজ বলেন, কালো বেগুনের চাহিদা অনুসারে বাজারে সরবরাহ কম। তাই রোজা উপলক্ষে দাম তিনগুণ বেড়েছে।  এটা আমাদের কিছু করার নেই।  আমরা ১০-২০ টাকা লাভ করি। পাইকারি বাজারের পর এখানে আড়তদার সিন্ডিকেট রয়েছে। 

রাজগঞ্জ বাজারের ক্রেতা আবু সাঈদ বলেন, তিন চারদিন আগেও লেবু ৪০ টাকা হালি ছিল। কালো বেগুন ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। এখন লেবু ১২০ থেকে ১৫০ টাকা হালি। কালো বেগুন ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি। তাছাড়া অধিকাংশ সবজির দাম দ্বিগুণ বেড়েছে। রমজান আসলেই ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের জিম্মি করে দিগুন অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। 

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. কাউছার মিয়া বলেন, এই মুহূর্তে লেবু এবং বেগুনের দাম একটু চড়া। এই সময়টাতে লেবুর উৎপাদন কম, যার কারণে লেবুর দামটা বেশি বলছেন ব্যবসায়ীরা। তারপরও আমরা ব্যবসায়ীদের বলেছি বেশি মুনাফা করা যাবে না। রমজান উপলক্ষে নগরীর বিভিন্ন বাজারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো কিছু পরিলক্ষিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

যুগান্তর

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, অতিরিক্ত মুনাফাখোর দিকে আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি। ইতোপূর্বে ক্যাব এবং ভোক্তা অধিকারসহ সব ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। সব ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে যেন রমজান উপলক্ষে বাড়তি দাম নেয়া না হয়। ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া আছে প্রতিনিয়ত বাজার মনিটরিং করার জন্য।