অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান বলেছেন, দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ সড়কে চাঁদা আদায়।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
পোস্টে সায়ের লিখেছেন, দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো মহাসড়কে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নামে চাঁদা আদায়। ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজে যাচাই করে দেখেছি দেশের সকল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ক্ষমতাসীন দল বা শক্তিশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মদদে এই চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে চলছে যুগের পর যুগ ধরে।
তিনি লেখেন, এই পুরো ব্যাপারটা সম্পূর্ণভাবে অনৈতিক এবং এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। আর এসব অর্থের ১৫-২০ শতাংশও যদি সাধারণ শ্রমিকদের উন্নয়নে ব্যয় করা হতো তাহলে দেশের শ্রমিকদের বহু সমস্যার নিরসন ঘটত। যেমন ধরুন শ্রমিকদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, কিংবা তাদের সন্তানদের বিদেশে উচ্চশিক্ষায় পাঠানো অথবা পেনশন।
পোস্টে তিনি আরও লেখেন, কিন্তু বাস্তবে যে সেটা হয় না, সেটা সদ্য মন্ত্রী হওয়া রবিউল সাহেব সম্ভবত জেনেও না জানার ভান করছেন। আর সে কারণেই তিনি এমন অর্বাচীনের মতো মন্তব্য করেছেন যে, ‘সড়কে পরিবহনের চাঁদা যেটা বলা হয়, সেভাবে আমি চাঁদা দেখি না। মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি আছে, তারা তাদের কল্যাণে এটা ব্যয় করে। এটা অলিখিত বিধির মতো। চাঁদা আমি সেটাকে বলতে চাই, যেটা কেউ দিতে চায় না বা বাধ্য করা হয়।’
‘এটা একেবারেই কাণ্ডজ্ঞানহীন আলাপ, কারণ পণ্যবোঝাই কোনো ট্রাককে যখন গন্তব্যে পৌঁছার পূর্বে ৫-৭টি স্পটে থামিয়ে ৫০০/৭০০ টাকা বা এর বেশি আদায় করা হয় তখন ওই অতিরিক্ত খরচের বোঝা বহন করতে হয় গ্রাহককে। আর সে জন্য সরকার বা শ্রমিক সংগঠন গ্রাহককে কোনো ভর্তুকি প্রদান করে না।’
সবশেষ তিনি লিখেছেন, আপনি যদি মহাসড়কে টোকেন মানির নামে এই চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারেন তাহলে দেশব্যাপী পণ্য মূল্য নেমে আসবে। পাশাপাশি আড়তের চাঁদাবাজিও বন্ধ করতে হবে। জনগণের ম্যানডেট নিয়ে যেই আসনে বসেছেন সেটার সঠিক মূল্যায়ন করুন জনাব রবিউল। এত জলদি পেছনে গদির গরম লেগে গেলে তো সমস্যা।