ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে ভোটারসহ সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে যৌথ বাহিনী। মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব ও বিজিবি’র সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর এক বিশেষ ‘ফুট পেট্রোল’ মহড়া চালিয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় টহল ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। ভোটকেন্দ্র ও এর আশপাশের এলাকায় নিñিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফেরাতে এই বিশেষ টহল কার্যক্রম সারা দেশেই জোরদার করা হয়েছে।
মহড়াটি ধানমণ্ডির আবাহনী মাঠ এলাকা থেকে শুরু হয়ে ধানমণ্ডি-১০ আসনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা ও ভোটকেন্দ্রগুলো প্রদক্ষিণ করে। টহল শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুন খন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, বিগত সময়ের তুলনায় এবারের নির্বাচন অনেক বেশি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল হবে। এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থী বা ভোটারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, বর্তমানে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার শঙ্কা নেই এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্বাচনের আমেজ বিরাজ করছে। একটি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা যেন কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সেটি নিশ্চিত করাই এই মহড়ার মূল উদ্দেশ্য।
সূত্র মতে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে ১ লাখ সেনাসদস্য, ৫ হাজার নৌ-সদস্য, ৩ হাজার ৭৩০ জন বিমান বাহিনীর সদস্য, ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩ জন পুলিশ সদস্য, ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪ জন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য, ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন বিজিবি সদস্য, ৩ হাজার ৫৮৫ জন কোস্ট গার্ড সদস্য, ৭ হাজার ৭০০ জন র্যাব সদস্য এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ১৩ হাজার ৩৯০ জন ফায়ার সার্ভিসের সদস্য মোতায়েন করা হবে। এ ছাড়া আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এবার ভোটের মাঠে বিপুল পরিমাণ ড্রোন ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্য শনাক্তে ভোটের মাঠে বড় পরিসরে ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করা হবে। বিজিবি তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সীমান্ত এলাকায় ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করবে। এ ছাড়া র্যাব ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে এবং ডিএমপি ও সিএমপি পৃথকভাবে ডগ স্কোয়াড নিয়োজিত রাখবে। দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় ব্যালট পেপার ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পৌঁছাতে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।
এর আগে গত ৮ই ফেব্রুয়ারি থেকে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, যা আগামী ১৪ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ৭ দিন অব্যাহত থাকবে। পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি’র পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাঠে থেকে নিরাপত্তা তদারকি করছেন। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নাশকতা মোকাবিলায় যৌথ বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।