Image description

যশোরের চৌগাছায় গ্রেপ্তারের পর বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গুলি করার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পাঁচজনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা ও তিনজনকে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যরা।

এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট যশোরের চৌগাছায় রুহুল আমিন ও ইসরাফিল নামের দুই ছাত্রনেতাকে মিথ্যা মামলায় আটক করে পুলিশ। কিন্তু আদালতে না তুলে পরপর দুই রাত তাদের নির্যাতন করা হয়। এরপর অধীনস্থ পুলিশদের দিয়ে দুজনের পায়ে গুলি করান তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমান। এছাড়া ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে মিথ্যা মামলায় চালান দেওয়া হয় দুজনকে। পরবর্তীতে অস্ত্র মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগীদের পায়ে বালু ঢোকানোর কারণে পচন ধরে। পরবর্তীতে তাদের পা কেটে ফেলতে হয়েছে। এই নিষ্ঠুরতম ঘটনায় যশোরের সেই সময়ের এসপি আনিসুর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে আজ অভিযোগ আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পাশাপাশি ১৬ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন তিনজন। তারা হলেন- চৌগাছা থানার তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরুল হক। তারা তিনজনই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে সরাসরি গুলি চালিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন।

আনিসুর ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- চৌগাছা থানার তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল ও এসআই মাজেদুল। তাদের গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করা হয়।

শীর্ষনিউজ