Image description

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন বলেছেন, নির্বাচনী প্রচারে একটি রাজনৈতিক দল ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

এ সময় মাহদী আমিন বলেন, ২০০১-২০০৫ সাল পর্যন্ত যে দলটি নিজেই সরকারের অংশ ছিল। এখানে তাদের দুটো মন্ত্রী ও বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য ছিল। সরকারে থাকা অবস্থায় তখন দুর্নীতির বিষয়ে তাদের কোনো মন্তব্য শোনা যায়নি। কিন্তু বর্তমানে তারা নির্বাচনী মাঠে এসে ফ্যাসিবাদী প্রোপাগান্ডার সেই ধারাবাহিকতাকে ধরে রেখেছে। আমরা এই ভূমিকাকে রাজনৈতিক দ্বিচারিতা হিসেবে দেখছি।

তিনি বলেন, উপরন্তু এটি আজ স্পষ্ট যে— ভোট চাইতে গিয়ে সেই নির্দিষ্ট দলটি ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার, জান্নাতের প্রলোভন, কোরআন শরিফের শপথ করানো, এমনকি বিকাশ নম্বরে টাকা দেওয়ার বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়ে বেড়াচ্ছে। ফলে যারা নিজেরাই টাকা দিয়ে ভোটারদের ভোট কেনার চেষ্টা করছে আবার তারাই যখন দুর্নীতির গল্প শোনাচ্ছে সেটি তাদের তথাকথিত সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

নির্বাচন আচরণবিধি মেনে চলার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মাহাদী আমীন।

‘মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’ প্রসঙ্গে মাহাদী আমীন বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি— একটি নির্বাচনী জনসভায় সেই রাজনৈতিক দলটির আমির বগুড়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন। বাস্তবতা হলো এ দুটি বিষয়ই ইতোমধ্যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অনুমোদিত এবং এ লক্ষ্যে প্রশাসনিক কার্যক্রম বহমান রয়েছে। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগও সম্পন্ন করেছে। অতএব, বিদ্যমান একটি সরকারি সিদ্ধান্তকে নতুন করে দলীয় প্রতিশ্রুতি হিসেবে উপস্থাপন করে বগুড়াবাসীকে বিভ্রান্ত করার যে অপচেষ্টা কেন সেটা প্রশ্ন জাগাচ্ছে।

তারেক রহমানের নির্বাচনী সভা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করে ধানের শীষের পক্ষে এক ঐতিহাসিক গণজোয়ার সৃষ্টি করেছেন। বিপুল জনসমাগমের কারণে সফরসূচিতে কিছুটা বিলম্ব ঘটেছে। তবুও গভীর রাত পর্যন্ত সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ও উৎসবমুখর উপস্থিতি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, তারেক রহমানই আজ বাংলাদেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। এ অভূতপূর্ব জনসমর্থন একটি গণতান্ত্রিক, সমতাভিত্তিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রগঠনে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নতুন করে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

মসজিদে মুয়াজ্জিনকে অব্যাহতির নিন্দা জানিয়ে মাহদী আমীন বলেন, আমরা জানতে পেরেছি— নওগাঁর সাপাহার উপজেলার একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন আল আমিন চৌধুরীকে শীষের পক্ষে প্রচারে অংশ নেওয়ার কারণে একটি নির্দিষ্ট দলের নেতাকর্মীদের চাপে সেই চাকরি থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। এটি নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের একটি বাজে দৃষ্টান্ত। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং প্রত্যেককে যার যার পেশা, যার যার ধর্ম বা স্বাধীনতা সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ন থাকে সে নিশ্চিতের জন্য অবিলম্বে তাকে পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, এ ছাড়া গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে সিলেটে একজন প্রার্থীর বক্তব্য শোনা যাচ্ছে সেই রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি বলেন— নির্বাচিত হলে তাকে জিজ্ঞাসা না করে কারও বাড়িতে যেতে পারবে না পুলিশ। এটি নিঃসন্দেহে অসাংবিধানিক এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি। একজন সংসদ সদস্য প্রার্থী যদি এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পান তাহলে প্রশ্নের সৃষ্টি করে।

তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে কাউকে বিনা অপরাধে গ্রেপ্তার করা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। কিন্তু তাই বলে গ্রেপ্তার করতে হলে কোনো একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর বা সংসদ সদস্যের অনুমতি লাগবে এ ধরনের বক্তব্য সেই ফ্যাসিবাদী মনোভাবেরই শামিল। আমরা এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছি।