Image description

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করতে বিভাগীয় শহরগুলোতে গণজমায়েত কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে দেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সংসদ’।

এই প্ল্যাটফর্মে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু)।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এসএম ফরহাদ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ দায়িত্বশীল ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এসেছে। তারই ধারাবাহিকতায় পাঁচটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ সম্মিলিতভাবে ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সংসদ’ ব্যানারে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে গণসচেতনতা গড়ে তুলতে বিভাগীয় শহরগুলোতে গণজমায়েত কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে।

তিনি জানান, এই গণজমায়েতের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উপায়ে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হবে। তাদের মতে, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের কাছে গণভোটের গুরুত্ব স্পষ্ট করা, বিভ্রান্তি ও ভয়ের রাজনীতির অবসান ঘটানো এবং রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে একটি সুসংহত গণসচেতনতা তৈরি করা।

সংবাদ সম্মেলনে এসএম ফরহাদ আরো বলেন, গণভোট শুধু একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়; এটি জনগণের সরাসরি মত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার। তবে এই অধিকার তখনই অর্থবহ হয়, যখন জনগণ ভয়মুক্ত ও সচেতন পরিবেশে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পায়।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। পুরোনো ও বৈষম্যমূলক রাষ্ট্রকাঠামো বিলুপ্ত করে ন্যায়ভিত্তিক, নিরাপদ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের যে আকাঙ্ক্ষা জুলাইয়ের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জনগণ প্রকাশ করেছে, গণভোট সেই আকাঙ্ক্ষাকে সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক স্বীকৃতি দেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।

তাদের দাবি, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে জুলাইয়ের অসমাপ্ত বিপ্লবে ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত সংগ্রাম একটি স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। ‘হ্যাঁ’ মানে শুধু একটি ভোট নয়; বরং একটি নিরাপদ বাংলাদেশ, বৈষম্যহীন সমাজ এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় সিলেটের বন্দরবাজারের কোর্ট পয়েন্টে বিভাগীয় গণজমায়েতের মাধ্যমে এই প্রচারণা শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব বিভাগীয় শহরে একই ধরনের গণজমায়েত আয়োজন করা হবে।

এই গণজমায়েতগুলোতে পাঁচটি ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের পাশাপাশি জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধা, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, ব্যবসায়ী সমিতি, প্রেস ক্লাব, শিল্পকলা একাডেমি ও ক্রীড়া সংস্থার সভাপতিরা, শ্রমিক সমাজের প্রতিনিধি এবং শিক্ষক ও চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণির প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এসএম ফরহাদ, এজিএস মহিউদ্দিন খান, চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব, জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম, এজিএস ফেরদৌস আল হাসান, জকসুর জিএস আবদুল আলীম আরিফসহ সংশ্লিষ্ট ছাত্র সংসদগুলোর নেতারা।

এ সময় দলমত নির্বিশেষে সারাদেশের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনগণকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানানো হয়।