গাজার শাসনভার একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক কমিটির কাছে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত বলে বুধবার জানিয়েছে হামাস। তবে একই সঙ্গে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুরোপুরি পুনরায় খুলে দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে তারা।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম এএফপিকে বলেন, ‘প্রোটোকল প্রস্তুত, নথিপত্র সম্পূর্ণ, এবং গাজা উপত্যকার সব খাতে শাসনভার টেকনোক্র্যাটিক কমিটির কাছে সম্পূর্ণভাবে হস্তান্তরের তদারকির জন্য প্রয়োজনীয় কমিটিগুলো গঠন করা হয়েছে।’
১৫ সদস্যের ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি) যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে গঠিত একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের দল।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক উপমন্ত্রী আলি শাথের নেতৃত্বাধীন এনসিএজির সদস্যরা গাজায় প্রবেশ করবেন মিসরের সঙ্গে সীমান্তবর্তী রাফাহ ক্রসিং পুনরায় চালু হলে।
কাসেম বলেন, রাফাহ ক্রসিং ‘উভয় দিকেই খুলে দিতে হবে এবং গাজা উপত্যকায় প্রবেশ ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে, কোনো ধরনের ইসরায়েলি বাধা ছাড়া।
রাফাহ হলো গাজার একমাত্র বহির্বিশ্বের সংযোগপথ যা ইসরায়েলের দিকে যায় না এবং এটি মানুষ ও পণ্য প্রবেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।
২০২৪ সালের মে মাসে ইসরায়েলি বাহিনী নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে রাফাহ ক্রসিংটি বন্ধ রয়েছে। ২০২৫ সালের শুরুতে সীমিতভাবে এটি খোলা হয়েছিল, তবে পুনরায় চালুর অন্যান্য উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।
এনসিএজির প্রধান আলি শাথ গত সপ্তাহে ঘোষণা দেন, পরবর্তী সপ্তাহে রাফাহ ক্রসিং উভয় দিকেই খুলে দেওয়া হবে।
কাসেম বলেন, ‘স্বাধীন জাতীয় কমিটির রাফাহ ক্রসিং খোলার ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি যোগ করেন, ‘এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো—এই কমিটি নাগরিকদের যাতায়াত পূর্ণ স্বাধীনতায় পরিচালনা করছে কি না, চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলি শর্ত অনুযায়ী নয়—সেটি পর্যবেক্ষণ করা।’
ইসরায়েল জানিয়েছে, শেষ জিম্মি রান গিভিলির মরদেহ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের তথাকথিত ‘সীমিত পুনরায় খোলা’র আওতায় কেবল পথচারীদের চলাচলের অনুমতি দেবে।
ইসরায়েলি বাহিনী সোমবার গিভিলির মরদেহ উদ্ধার করে এবং বুধবার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মেইতারে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।
কাসেম বলেন, ‘এতে স্পষ্ট যে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ বন্ধের চুক্তির প্রতি হামাস প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, ‘প্রথম ধাপে যা যা করার প্রয়োজন ছিল, হামাস সবই করেছে এবং দ্বিতীয় ধাপের সব পথে প্রবেশ করতে প্রস্তুত।’
টেকনোক্র্যাটিক কমিটি গঠন এবং গাজায় থাকা শেষ জিম্মির মরদেহ ইসরায়েলে ফেরত দেওয়ার পর যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলের গাজা থেকে প্রত্যাহার।
যদিও গিভিলির মরদেহ ফেরত দেওয়াকে হামাস চুক্তির প্রতি তাদের অঙ্গীকারের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে, তবুও তারা এখনো অস্ত্র সমর্পণ করেনি।
হামাস বারবার বলেছে, নিরস্ত্রীকরণ তাদের জন্য ‘রেড লাইন’। তবে একই সঙ্গে তারা ইঙ্গিত দিয়েছে, কোনো ফিলিস্তিনি শাসন কর্তৃপক্ষের কাছে অস্ত্র হস্তান্তরের বিষয়ে তারা আলোচনায় বসতে পারে।
তবে ইসরায়েল বা হামাস—কেউই এখনো প্রত্যাহার বা নিরস্ত্রীকরণের নির্দিষ্ট সময়সূচি কিংবা কৌশল স্পষ্ট করেনি।