ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিরোধে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। দেশীয় অস্ত্র, ইট-পাটকেল নিয়ে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় নারীসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের বাবলাতলা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চুমুরদী ইউনিয়নের বাবলাতলা গ্রামের ইসরাফিল মোল্লা ও প্রতিবেশী শাহাবুদ্দীন মোল্লার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় আধিপত্য ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। উভয় পক্ষই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
অভিযোগ রয়েছে, বক্তব্য দীর্ঘ হওয়াকে কেন্দ্র করে শাহাবুদ্দীন মোল্লার পক্ষের এক ব্যক্তি তাকে কটাক্ষ করেন। এতে বৈঠকস্থলেই দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ফলে কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আহত জাহিদ মোল্লা (৩৭), ইয়াদ আলী মোল্লা (৩৫), জাকারিয়া মোল্লা (৩৭) ও লাভলী বেগম (৩৫) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইসরাফিল মোল্লার ছেলে জাকারিয়া মোল্লা (৩৮) অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনী উঠান বৈঠকে আমার বাবাকে অপমান করা হয়।
অপরদিকে, শাহাবুদ্দীন মোল্লার পক্ষের আহত ইয়াদ আলী মোল্লা (৩৫) পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ইসরাফিল মোল্লার লোকজন আমাদের আত্মীয়ের চলাচলের পথ আটকে দেয়। আমরা বাধা দিতে গেলে তারা আমাদের ওপর হামলা করে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আলিম বলেন, সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।