Image description

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে ও দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

টানা দুই দিন বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচির পর মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাত থেকে ২৮টি বিভাগের শিক্ষার্থীরা আলাদা আলাদা বিবৃতিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, চেম্বার জজ আদালত শাকসু নির্বাচনের অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেবেন না।

এদিকে বুধবার (২১ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে শিবির-সমর্থিত প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির বলেন, ‘গতকাল আমাদের ভোট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটি দলের প্ররোচনায় দুজন প্রার্থী ও একজন ভোটার হাইকোর্টে রিট করেন। এর ফলে প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থীর গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দাবি জানাচ্ছি, হাইকোর্ট যেন দ্রুত শিক্ষার্থীদের পক্ষে রায় দেন। অন্যথায় আমরা ক্যাম্পাসে সম্পূর্ণ শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবো।’

সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী ফয়সাল হোসেন বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ২১ দিনের মধ্যে অন্যকোনো নির্বাচনের অনুমোদন না দেওয়ার বিধান রয়েছে। আমরা চাই, শাকসু নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই বিধান বাধ্যবাধকতার বাইরে রাখা হোক। আমাদের নির্বাচনের তপশিল অনেক আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। তাই যেকোনো মূল্যে আমরা শাকসু নির্বাচন চাই। কোনো ধরনের চাপ আমরা মেনে নেব না।’

এর আগে, নির্বাচন স্থগিতসংক্রান্ত উচ্চ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার জজ আদালতে জরুরি শুনানির জন্য মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) আবেদন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে পূর্ণাঙ্গ আদেশের অনুলিপিসহ নিয়মিত আপিল দায়েরের নির্দেশ দেওয়ায় ওই আবেদন তাৎক্ষণিকভাবে শুনানির জন্য গৃহীত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যানেল আইনজীবী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য, তিন প্রার্থীর করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার হাইকোর্ট চার সপ্তাহের জন্য শাকসু নির্বাচন স্থগিত করেন। দীর্ঘ ২৮ বছর পর মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।