চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা। এনবিআরের আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস তিনটি অনুবিভাগের সবচেয়ে বেশি ঘাটতি তৈরি হয়েছে আয়কর খাতে। আলোচ্য সময়ে আয়কর খাতে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। তবে বড় ঘাটতির মধ্যেও এনবিআরের গড় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১৪ দশমিক ১৯ শতাংশ। এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে এনবিআরের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ২০৫ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে এনবিআর আদায় করেছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ২২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে এনবিআর অনলাইন থেকে শুরু করে নানা ধরনের উদ্যোগ নিলেও কার্যত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মতো রাজস্ব আসছে না বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও এনবিআরের আন্দোলনের জেরও রাজস্ব আহরণে পিছিয়ে থাকার অন্যতমও কারণ বলে মনে করেন এনবিআর কর্মকর্তারা।
এনবিআরের সর্বশেষ হিসাবে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আয়কর খাতে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৫ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে আয়কর আদায় হয়েছে ৬১ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ আয়কর খাতে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা, যা মোট রাজস্ব ঘাটতির অর্ধেকেরও বেশি। এ ছাড়া শুল্ক খাতে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৫ হাজার কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে শুল্ক আদায় হয়েছে ৫২ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা। অর্থাৎ শুল্ক খাতে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে ভ্যাট আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮০ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে ভ্যাট আদায় হয়েছে ৭০ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ ভ্যাটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাজস্ব আহরণে এই প্রবৃদ্ধি থাকলেও তা লক্ষ্যমাত্রা পূরণে যথেষ্ট নয়। সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধীরগতি, করজালের সীমিত বিস্তার এবং রাজস্ব প্রশাসনের কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। পাশাপাশি অর্থবছরের মাঝপথে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা এক ধাক্কায় বাড়িয়ে দেওয়ায় বাস্তবতার সঙ্গে ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়েছে বলেও মনে করেন তারা।