রংপুরের পীরগাছায় পুলিশের হেফাজত থেকে শহীদ আবু সাইদ হত্যা মামলার আসামি রংপুর জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদ হাসান লিটন হ্যান্ডকাফ নিয়ে পলায়নের পর পীরগাছা উপজেলা যুবদলের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলমের মাধ্যমে হ্যান্ডকাফ থানায় ফেরৎ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় পুরো উপজেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এই ঘটনার পর থেকেই এলাকাজুড়ে শুধু একটাই আলোচনা, পুলিশের হাত থেকে কীভাবে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় একজন আসামি প্রকাশ্যে পালিয়ে গেল।
গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় পীরগাছা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে শহীদ আবু সাইদ হত্যাসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি নাহিদ হাসান লিটনকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পীরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল হান্নানের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গ্রেপ্তারের পরপরই লিটনের হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়। ঠিক সেই সময়ই তার পরিবারের সদস্যসহ কয়েকজন নারী পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। কথাকাটাকাটির মধ্যেই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ১০-১৫ জন নারী একসঙ্গে পুলিশকে ঘিরে ধস্তাধস্তিতে লিপ্ত হলে পুরো এলাকা রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সেই সুযোগে বাড়ির পেছনের দিক দিয়ে পালিয়ে যায় লিটন।
স্থানীয়দের দাবি, পালানোর সময় লিটনের শরীরে কোনো কাপড় ছিল না এবং তিনি হ্যান্ডকাফ পরিহিত অবস্থাতেই পালিয়ে যান। তবে পুলিশের দাবি, তার শরীরে শ্যাম্পু মাখানো ছিল এবং পরনে হাফপ্যান্ট ছিল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী দম্পতি জানান, মাগরিবের নামাজের পরপরই কয়েকজন পুলিশ সদস্য লিটনের বাড়িতে যান। এ সময় কোলাহল শুনে তারা বাড়ির সামনে গিয়ে দেখেন পুলিশ লিটনকে ধরে রেখেছে এবং তার হাতে হ্যান্ডকাফ রয়েছে। এ সময় পুলিশের সামনে ১০-১৫ জন নারী বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত ছিলেন। একপর্যায়ে এক নারী, পুলিশ সদস্যের হাতে কামড় দিলে হ্যান্ডকাফ পরিহিত অবস্থায় লিটন পালিয়ে যায়।
স্থানীয় শাহ আলম বলেন, হ্যান্ডকাফ পরিহিত অবস্থায় লিটন পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে যায়।’
পলাতক লিটনের বাবা আব্দুল হান্নান বলেন, ‘আমার ছেলে ফুটবল খেলে বাড়িতে এসে বাথরুমে গোসল করার সময় পুলিশ এসে গ্রেপ্তার করে। এরপর মহিলারা পুলিশকে ঘিরে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সে পালিয়ে যায়।’
পলাতক লিটনের চাচা ছফির উদ্দিন বলেন, ‘পুলিশকে জুতা আর ঝাড়ু পিটা করে লিটনকে হ্যান্ডকাফসহ ছাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ বাধ্য হয়ে হ্যান্ডকাফের চাবি দিলে পীরগাছা উপজেলা যুবদলের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলমের মাধ্যমে হ্যান্ডকাফ ফেরৎ দেওয়া হয়েছে। ওয়াকি-টকিটি তৎক্ষণাৎ নুর ইসলামের মাধ্যমে ফেরৎ দেওয়া হয়েছে এবং তার ভিডিও সংরক্ষণে রাখা হয়েছে।’
অবসরপ্রাপ্ত অডিটর শামসুল আলম বলেন, ‘লিটনকে গ্রেপ্তার করে হ্যান্ডকাফ পড়ানোর সময় স্থানীয় এক মহিলা পিছন থেকে পুলিশকে জাপটে ধরলে অপর এক মহিলা পুলিশের হাতে কামড় দেয় ও চোখে বালু ছিটায়। এ সময় লিটন হ্যান্ডকাফসহ পালায়।’
স্থানীয় পারুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমি আজ স্কুলে এসে শুনি লিটনকে গ্রেপ্তারের সময় অনেক নারী-পুরুষের আক্রমণে পুলিশ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।’
পলাতক যুবলীগ নেতার হাতে পড়ানো হ্যান্ডকাফ থানায় ফেরতের বিষয়ে, পীরগাছা উপজেলা যুবদলের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার এলাকায় হট্টগোল করে লিটনকে ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা সত্য। তবে আমি হ্যান্ডকাফ উদ্ধার করে থানায় ফেরত দিয়েছি এটা গুজব।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পীরগাছা থানার ওসি (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম, ওসি একেএম খন্দকার মহিব্বুল ইসলাম আসামি পালানোর ঘটনাটি স্বীকার করেন। তবে তিনি হ্যান্ডকাফ পরিহিত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘হ্যান্ডকাফের বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব।’ এ বিষয়ে রংপুরের পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি না, খোঁজ নিয়ে দেখছি।
