Image description

স্বামীর পরকীয়া সম্পর্ক ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দীর্ঘদিনের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আট বছরের মেয়েকে নিয়ে খালে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এক নারী। এতে পানিতে ডুবে মারা গেছে শিশু মেয়েটি। গুরুতর অবস্থায় মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার খাদ্য গুদামের পাশের ইছামতী খালে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। 

স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আট বছর বয়সী শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শিশুর নাম রাইছা (৮)। সে উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের সৈয়দ কুচাইয়া এলাকার বাসিন্দা প্রবাসী কায়সারের মেয়ে। তিন সন্তানের মধ্যে রাইছা ছিল সবার ছোট। সে চট্টগ্রাম সদরের একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের কেজি শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার মা জান্নাতুল ফেরদৌস (৩২) চাতরী ইউনিয়নের সুজারমল্লা পাড়ার আব্দুল লতিফের মেয়ে।

উদ্ধারকারী ফায়ার সার্ভিসের সাব অফিসার মো. আব্দুল্লাহ বলেন, ‘একজন ভ্যানচালকের কাছ থেকে খবর পেয়ে দুপুর পৌনে ১টার দিকে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মা ও মেয়েকে খাল থেকে উদ্ধার করি। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শিশুটিকে বাঁচানো যায়নি।’

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মুছাররাত বলেন, ‘হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় শিশুটির মৃত্যু নিশ্চিত হয়। তার মা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, জান্নাতুল ফেরদৌস দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর পরকীয়া ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌসের মা খদিজা আক্তার বলেন, ‘আমার মেয়েকে তার শাশুড়ি ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন নিয়মিত নির্যাতন করত। সেই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে সে নিজের মেয়েকে নিয়ে খালে ঝাঁপ দেয়। এই ঘটনার জন্য পুরো শ্বশুরবাড়ি দায়ী।’

জান্নাতুল ফেরদৌসের মামা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘স্বামীর পরকীয়া আর শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনে ও মানসিক চাপে আমার ভাগনি চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। স্বামী কাউসারের ভাগনে মহিন বলেন, ‘এই অভিযোগ সত্য নয়। এরকম যদি কোনো ঘটনা ঘটে থাকে, তারা এতদিন কাউকে কিছু জানায়নি কেন এবং থানায়ও অভিযোগ করেনি। বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে যায়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা বাচ্চা ও বাচ্চার মাকে উদ্ধার করে। মা চিকিৎসাধীন আছে চমেক হাসপাতালে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’