Image description

ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র দীর্ঘদিন একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক ব্যবস্থার মধ্যে বন্দি ছিল। বর্তমানে জনগণের ভোটের মাধ্যমে নিজেদের নেতা নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।’ তিনি কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা প্রলোভনের কাছে নতি স্বীকার না করে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিসংলগ্ন ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় ১১ জানুয়ারি এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশের পরিস্থিতি এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের তাৎপর্য ও গুরুত্ব নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তাঁরা অভিমত পোষণ করেন, বাংলাদেশ বর্তমানে কঠিন সময় অতিবাহিত করছে; যা থেকে পরিত্রাণে দেশ ও প্রবাসের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ড্যান মজিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থার জন্য জুলাই গণ অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী শক্তিগুলোর কৃতিত্ব রয়েছে। এ অভ্যুত্থান না হলে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন সম্ভব হতো না।’ তিনি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভার্জিনিয়ার স্টেট সিনেটর সাদ্দাম সেলিম বলেন, ‘বাংলাদেশ উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে।’

বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী হিসেবে তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর সর্বদা গভীর নজর রাখার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘কংগ্রেশনাল কমিটিতে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, ছাত্র আন্দোলন, ড. ইউনূস সরকারের বিভিন্ন সাফল্য এবং আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেছি।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী নির্বাচন হবে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন এবং এতে গঠিত সরকার জনগণের কথা শুনবে। পাশাপাশি তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মার্কিন রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠন ইউএস বাংলাদেশ অ্যাডভোকেসি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান লেখক ও সংগঠক সামছুদ্দীন মাহমুদ। সঞ্চালনা করেন মানবাধিকারকর্মী হাসান চৌধুরী।

শীর্ষনিউজ