Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড় ১ আসনের প্রার্থী বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির নির্বাচনের পাশাপাশি গাজায় ইসরাইলী আগ্রাসনের প্রতিবাদ ও ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সহমর্মিতা জানাচ্ছেন। প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে তিনি সবসময় ইসলামিক স্কার্ফ পড়ছেন। তিনি এই স্কার্ফ পরে পঞ্চগড়ের সাধারণ মানুষের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কুশল বিনিময় করছেন।  গত অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে যুদ্ধ বিরোধী সারা বিশ্বের মানুষ এই স্কার্ফ পড়ে যুদ্ধের প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। ফিলিস্থিনি ভাষায় এই স্কার্ফকে বলা হয় কেফিয়াহ। বিশ্বব্যাপী যত দেশে বা শহরে বিক্ষোভকারীরা যারা ফিলিস্তিনের মানুষের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন তারা সকলে সাদা কালো এই স্কার্ফ বা কেফিয়াহ পরেই প্রতিবাদ আর সংহতিতে অংশ নিয়েছেন। অক্টোবরে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কুফিয়া নামে পরিচিত এই সাদা-কালো স্কার্ফটি ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভগুলিতে দৃশ্যমান হয়েছে। অস্ট্রেলীয় রাজনীতিবিদ মেহরিন ফারুকী ও লিডিয়া থর্প সংসদে এই স্কার্ফ পরিধান করেছেন এবং ওয়াশিংটনে বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের ভাস্কর্যও এই স্কার্ফ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। গত দুই মাস ধরেই অস্ট্রেলিয়া এবং সারা বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনপন্থী সমাবেশগুলিতে অংশগ্রহণকারীদের পরনে কয়েক ধরণের সাদা-কালো স্কার্ফ দেখা গেছে। কুফিয়া নামের এই স্কার্ফ লাল-সাদা বা শুধু সাদা রঙেরও হয়ে থাকে। অনেক সময় এগুলিতে বিভিন্ন ধরণের এমব্রয়ডারির কাজ বা সূচিকর্মও দেখা যায়। কেউ এটিকে ঘাড়ের চারপাশে, কেউ মাথা ঢেকে আর কেউ কেউ মুখের চারপাশে মুড়িয়ে এই স্কার্ফ পরে থাকেন।  

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির জানান, আমরা যখন ফ্যাসিস্ট হটিয়ে গণতন্ত্রের দিকে অগ্রসর হচ্ছি তখন ফিলিস্তিনি মুসলিম সমাজ দীর্ঘকাল থেকে তাদের স্বাধীনতার আন্দোলন করে যাচ্ছে। লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। হাজার হাজার নারী শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি জনগণ যে নির্যাতনের শিকার তা অত্যন্ত নির্মম। বাংলাদেশ ফিলিস্তিনি মানুষের উপর এই নির্মমতার প্রতিবাদ করে আসছে। ফিলিস্তিনিদের আত্ম-পরিচয়ের সঙ্গে কুফিয়ার একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এই স্কার্ফ বা কুফিয়া ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিরোধ আর স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। ব্যক্তিগতভাবে আমিও তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে সাদাকালো স্কার্ফ পরেই আমার নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছি। 

শুধু নওশাদ জমির নয় তার ছোট ভাই লেখক ও গবেষক ব্যারিস্টার নওফেল জমিরও ফিলিস্তিনি কুফিয়া গলায় ঝুলিয়ে নির্বাচনের কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। 
কুফিয়ার ইতিহাস ঘেটে জানা গেছে, এই পোশাকটি সাধারণত আরব বিশ্বের কৃষকরাই বেশিরভাগ সময় পরিধান করতেন। ১৯৩৬ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে আরব বিদ্রোহের সময় এটি মূলত ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে শুরু করে। এরপর নাকবা সংঘটিত হয়, আরবি ভাষায় নাকবা শব্দের অর্থ "বিপর্যয়"। ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরায়েলি যুদ্ধের সময় ফিলিস্তিনের মানুষদের ব্যাপকভাবে তাদের বাড়িঘর থেকে বিতরণের শিকার হতে হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৬০-এর দশকে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন আরও শক্তিশালী হয়।

ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষে কুফিয়া পরিধান করাটা প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে ওঠে। তৎকালীন ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাত মূলত কুফিয়াকে বিশ্বব্যাপী মানুষের কাছে জনপ্রিয় করতে সহায়তা করেছিলেন। ইয়াসির আরাফাত ছিলেন একজন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নেতা, যিনি ১৯৯৪ সালে ইসরায়েলি সরকারের সাথে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনকে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।