চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সাইফুল ইসলাম ওরফে বার্মা সাইফুল ও সহযোগী শিহাব উদ্দিনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সিএমপির গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আগামীকাল বুধবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ বিস্তারিত জানানোর কথা রয়েছে। বার্মা সাইফুলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র আইনে ২৭টি মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
এর আগে সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানী ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে সিএমপি একটি টিম আটক করেছে বলে বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছিলেন তার ভাই শাহীন। তিনি বলেন, আমার ভাই চিকিৎসার জন্য ঢাকা গিয়েছে। তাকে গুলশান থেকে ডিবি পরিচয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে শাহীন নিজেও একাধিক মামলার আসামি।
২০২১ সালের ১৬ জুন সিএমপির বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি টিম সাইফুল ইসলামকে তুলে নিয়ে যায় বলে তার পরিবার অভিযোগ করেন। ১৭ জুন ২০২১ পুলিশ জানিয়েছিল বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয় সাইফুল। ওই ঘটনায় সাইফুলের একটি পা কেটে ফেলা হয়েছে।
তার এক বছর পর ৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাইফুলের মা ছেনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে নালিশি মামলা দায়ের করেন। এতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ঘটনার সময়কালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামারুজ্জামান, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেহের অসীম দাশ, নুরু নবী, কে এম নাজিবুল ইসলাম তানভীর, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সাইফুল ইসলাম, মো. রবিউল হোসেন ও পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত মো. শাহজাহানকে বিবাদী করা হয়।
আদালত মামলার অভিযোগ আমলে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদমর্যাদার নিচে নয়, এমন পুলিশ কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিএমপি কমিশনারকে আদেশ দেন। মামলাটি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পায়নি মর্মে ২০২২ সালের ২৭ নভেম্বর আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন নগর পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. শহীদুল ইসলাম।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর সাইফুল ইসলাম ও তার ভাইয়েরা মিলে বায়োজিদ ও পাঁচলাইশ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।