ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ছাত্র রাজনীতি করতে না দিলে কলেজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন ওরফে জুয়েল। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন।
জুলফিকার হোসেন বলেন, গত ১১ জানুয়ারি ড্যাব ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ শাখার পক্ষ থেকে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে একটি দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে আমি জেলা বিএনপির পক্ষে উপস্থিত হই। দোয়া মাহফিলটি শুরু হওয়ার বেশ কিছুক্ষণ পার হয়ে গেলেও হলরুমের প্রায় অর্ধেকটাই খালি ছিল। আমি পাশে থেকে একটু জানার চেষ্টা করছিলাম, আসলে পরিবেশটা এই রকম কেন? আমি বিশ্বস্ত সূত্র ও বেশ অভিজ্ঞ লোকজনের কাছ থেকে অনেক কিছু অবগত হই। পরে আমি যখন বক্তব্য দিতে মঞ্চে উঠি, তখন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট অধ্যক্ষ ও কলেজ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণস্বরূপ কথাটা তুলে ধরি। এই রকম যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের ডাক্তার, নার্স, কর্মচারীরা রয়েছেন, যারা বিএনপিকে ভালোবাসেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে ভালোবাসেন। তাহলে সেখানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কমিটি রয়েছে, যেখানে ছাত্রবন্ধুরা রয়েছেন, অসংখ্য সমর্থক রয়েছে—তারা কোথায়? তখন জানতে পারি যে এখানে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ। তখন প্রশ্ন করলাম, একটি শোকের অনুষ্ঠানে কেন ছাত্ররা আসল না। তখন জানতে পারলাম যে হুমকি-ধমকি আছে। মেডিকেল কলেজে থাকতে হলে, পড়ালেখা করতে হলে বিএনপি-সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মসূচিতে উপস্থিত হওয়া যাবে না। যে কারণে তাদের জীবন ও লেখাপড়ার ঝুঁকির কারণে সেখানে উপস্থিত হতে পারে নাই। যার প্রেক্ষাপটেই একটি কথা আমি বলেছি।
তিনি আরও বলেন, আমার কথাটা ভুলও হতে পারে, মানুষ মাত্রই ভুল হয়—এটা আমি যত বড় নেতাই হই, ভুল তো ভুলই। এর দুই রকমের ব্যাখ্যা আমি দেবো। একটা হলো— আমি নাকি মেডিকেল কলেজ বন্ধ করে দেবো বলেছি! মেডিকেল কলেজ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত একটি প্রতিষ্ঠান। এটি ফরিদপুরের অহংকার। আমি বোঝাতে চেষ্টা করেছি, আসলে রাজনৈতিক নেতাদের কতভাবে ঘুরিয়ে একটি কথা প্লেস করতে হয়। যে একাডেমিক কাউন্সিল মেডিকেলে রাজনীতি বন্ধ করে রেখেছে, ওই কাউন্সিলের সদস্য কারা? বিগত সরকারের ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো ওই একাডেমিক কাউন্সিলে নেতৃত্ব দিচ্ছে। অধ্যক্ষ তার চেয়ার ধরে রাখার জন্য একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে আঁতাত করে ক্যাম্পাসকে নিরিবিলি রেখে যেন তিনি নেতৃত্ব দিতে পারেন—সে কারণেই তিনি (অধ্যক্ষ), ওই আওয়ামী লীগের একাডেমিক কাউন্সিল ও লুঙ্গির নিচে রাজনীতি করার অভ্যাস থেকে বের হয়ে আসতে না পারা সংগঠন মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করে রেখেছে। সে কারণেই আমি বক্তব্যে বলেছি।
জুলফিকার হোসেন বলেন, অথচ ওই ছাত্রসংগঠনটি ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সা.), তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীসহ তাদের সমস্ত কর্মসূচি তারা নিজেদের পরিচয়ে না করে ছাত্রদের ব্যানার দিয়ে করে থাকে। এতে অর্থায়ন করেন অধ্যক্ষ নিজে। যে কারণে আমি বোঝাতে চেয়েছি, দুটি সংগঠনের একটি (গুপ্ত সংগঠন) কাজ চালাচ্ছে, আরেকটি (ছাত্রদল) চালাতে পারছে না। এই দুটি সংগঠন যখন মুখোমুখি হবে, সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিতে যাবে, তখন কিন্তু স্বাভাবিক সেন্সেই ক্যাম্পাস বন্ধ রাখতে হবে। আমার সেই বক্তব্যকে তারা তাদের বাঁশেরকেল্লাসহ বিভিন্ন পেজে অপপ্রচার করে ভাইরাল করে দিয়েছে। সঙ্গে কিছু নিউজও হয়েছে।
হুমকি সংক্রান্ত বক্তব্যের দ্বিতীয় ব্যাখ্যা দিয়ে জুলফিকার হোসেন বলেন, আমার বক্তব্য বুঝতে যদি ভুল হয় দেশের মানুষের, নতুন প্রজন্মের, আমি খুব স্বাভাবিক ঘরের ছেলে, যত বড় নেতাই হই— আমি এই ঘরেরই সন্তান। যদি ভুল বুঝে থাকেন, সেটাকে সংশোধন করার জন্য বলছি, মেডিকেল কলেজ বন্ধ করে দেবো— এই শব্দ যারা বুঝেছেন, তাদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি।
প্রসঙ্গত, গত রোববার দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের মিলনায়তনে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ শাখার উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে এ প্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের প্রতিবাদ জানিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে জুলফিকার হোসেন আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ রেখে যাব—আমার জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল যদি রাজনীতি করতে না পারে, এই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে রাজনীতি বন্ধ করে দেব। ছাত্র রাজনীতি যদি বন্ধ হয়ে যায়, এই মেডিকেল কলেজ বন্ধ হয়ে যাবে।
২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এর পর থেকে এ কলেজে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ রয়েছে।