Image description
প্রাথমিকে তড়িঘড়ি নিয়োগ সম্পন্ন চায় মন্ত্রণালয়

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মুহূর্তে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। নির্বাচনের আগেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সব কাজ শেষ করতে চায় মন্ত্রণালয়। অথচ ৫ আগস্টের পর নতুন পরিবেশে শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে অনেক পরিবর্তনের দাবি উঠলেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। অনিয়ম ও দুর্নীতি দূরীকরণে বিশেষ কোনো উদ্যোগও দৃশ্যমান হয়নি। সম্প্রতি প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে প্রাথমিকের হিসাব সহকারী পদের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এতসব সমস্যার মধ্যে সবকিছু এড়িয়ে নিয়োগ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে প্রশ্নফাঁস, জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। রোববার মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ঘেরাও করে সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। পরীক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবি না আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এ সময় তাদের হাতে ‘প্রশ্নফাঁস চলবে না, চলবে না’; ‘প্রশ্নফাঁস হটাও, শিক্ষা বাঁচাও’; ‘মেধাবীরা বঞ্চিত কেন, ডিপিই জবাব চাই’; ‘পরিশ্রমের মর্যাদা নেই’ প্রভৃতি লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এসে তাড়াহুড়ো করে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি সত্য নয়। এটা আমাদের নিয়মিত কার্যক্রম। এছাড়া সরকারি প্রাথমিক স্কুলে অনেক শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের পরীক্ষা বাতিলের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা কারিগরি অভিজ্ঞদের দিয়ে তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা স্বচ্ছতার সঙ্গে পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করেছি। কেন্দ্রে যথেষ্ট নিরাপত্তা ছিল।

বিক্ষোভকারীদের দাবিগুলো হলো-সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে দ্রুত পরীক্ষা নিতে হবে; সব চাকরির পরীক্ষা ঢাকায় নিতে হবে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে ডিভাইস চেকার ও নেটওয়ার্ক জ্যামার রাখতে হবে; স্বতন্ত্র কমিটি গঠন করতে হবে এবং তার আওতায় সব পরীক্ষা নিতে হবে। একই দিনে একই সময়ে একাধিক পরীক্ষা নেওয়া যাবে না; যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের রেকর্ড আছে, তাদের কোনোভাবেই প্রশ্ন প্রণয়ন করার দায়িত্ব দেওয়া যাবে না; প্রশ্নফাঁস হওয়ার তথ্য প্রমাণিত হলে জড়িত সবাইকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং প্রশ্ন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান প্রধানকে স্বেচ্ছায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে।

জানা যায়, গত ৯ জানুয়ারি সারা দেশে একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার্থী ছিলেন ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি। পরীক্ষার কয়েকদিন আগে থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষার দুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নের একটি অংশ থেকে হুবহু কয়েকটি প্রশ্ন পরীক্ষায় এসেছে। এতে প্রশ্নফাঁসের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। ২৫ ডিসেম্বর প্রশ্নপত্র জেলা পর্যায়ে পাঠিয়ে দিয়ে তার প্রায় দুই সপ্তাহ পর পরীক্ষা নেওয়ায় চক্রের হাতে প্রশ্নপত্র চলে গেছে বলে অভিযোগ তাদের।

অন্যদিকে এ পরীক্ষা ঘিরে সক্রিয় হয়ে ওঠে ‘ডিভাইস পার্টি’। তারা পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে মোটা অঙ্কের অর্থ চুক্তির মাধ্যমে ডিভাইসের সহায়তা দিয়েছেন। এ চক্রটি চুক্তিবদ্ধ পরীক্ষার্থীকে ডিভাইস সরবরাহ করে এবং পরীক্ষা শুরুর পরপরই প্রশ্ন ম্যানেজ করে উত্তর বলে দেয়। পরীক্ষার্থী ডিভাইসে উত্তর শুনে পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে আসেন।

পরীক্ষার্থীরা জানান, উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোয় ডিভাইস পার্টি ব্যাপকভাবে সক্রিয় ছিল। এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর উত্তরের জেলাগুলোয় পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কিছুটা তৎপর ছিলেন। এ কারণে ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষা দেওয়া শতাধিক চাকরিপ্রার্থীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছেন। তাদের মধ্যে গাইবান্ধায় ৫৩, নওগাঁয় ১৮, দিনাজপুরে ১৮, কুড়িগ্রামে ১৬, রংপুরে দুইজনসহ শতাধিক পরীক্ষার্থী জালিয়াতি করে ধরা পড়েছেন।

কোথাও কোথাও কক্ষ পরিদর্শকরাও এ চক্রের সঙ্গে যোগসাজশ করে জালিয়াতিতে সহযোগিতা করেছেন। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য জেলায় পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতা দেখাই যায়নি। ফলে সেখানে নির্বিঘ্নে জালিয়াতি-অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ চাকরিপ্রার্থীদের। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার দুই ধাপ মিলিয়ে মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি। সে হিসাবে গড়ে প্রতিটি পদের বিপরীতে লড়াই করেন প্রায় ৭৫ জন চাকরিপ্রার্থী।