Image description

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে সাধারণ মানুষ বিএনপির কোনো নেতাকে পায়নি বলে মন্তব্য করেছেন দলের বহিষ্কৃত সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে নিজ বাসভবনের সামনে নির্বাচনী অফিস উদ্বোধনকালে তিনি এমন কথা বলেন। রুমিন ফারহানা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান সবই সাধারণ মানুষের রক্ত দিয়ে তৈরি। ২৪-এর ৫ আগস্ট রাজপথে সাধারণ মানুষ আমার বাইরে আমার দলের আর কোনো নেতাকে দেখেনি। তাই বলি— যখন তোমার কেউ ছিলোনা তখন ছিলাম আমি, এখন তোমার সব হয়েছে পর হয়েছি আমি।

তিনি আরও বলেন, আমি কোনো দলের, কোনো গোষ্ঠীর বা কোনো স্বার্থন্বেষী মহলের আপন নই। কারণ আমি আমার মাটির মানুষের আপন। তাদের মুখের দিকে তাকিয়েই আমি জীবনকে বাজি ধরেছি। যারা কিছুদিন আগেও কচুক্ষেতের তলায় ছিলো, হ্যাজেক বাতি দিয়েও খুঁজে পাওয়া যেত না, তারা এখন আমার নেতাকর্মীকে মামলার ভয় দেখায়। ১৫ মাসে এত চর্বি হয়েছে যে, আমার নেতাকর্মীদের হুমকি দেয়।

‘শেখ হাসিনার মতো শক্তিশালী প্রশাসনকে এক মুহূর্তের জন্য ভয় পাইনি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ওয়াদা হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন। তাই ব্যালট বাক্স ভরে কোনো বিশেষ মার্কাকে জয়ী করার সুযোগ নেই। কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীর গায়ে টোকা দেওয়ার আগে আমার মতো প্রার্থীকে জবাব দিয়ে যেতে হবে।

জনগণ আমার পাশে আছে বলেই শত প্রতিকূলতার মাঝে নির্বাচনে দাঁড়ানোর সাহস পেয়েছি উল্লেখ করে ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানা বলেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন কোনো নেতা বা জমিদার করেনি, সেই আন্দোলন করে কিছু ছাত্র ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, যাদের মধ্যে আমার বাবা অন্যতম। তাদের আত্মত্যাগেই ছিলো বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, যে আন্দোলনে গণমানুষের দাবি জয় লাভ করে।

নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন শেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠানে সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আবজাল হোসেন, সরাইল সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি মো. ওসমান, সরাইল উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আকবর হোসেন, শাহবাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক জানুয়াদে খানসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন। দোয়া পরিচালনা করেন শাহবাজপুর পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মুফতি শহিদুল ইসলাম।