Image description

রাষ্ট্রীয় কাঠামো, অর্থনীতি, শিক্ষা ব্যবস্থাসহ সবকিছুর ওপরই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের দৃশ্যমান কিংবা অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ ছিল। তিনি ঔপনিবেশিক আধিপত্যবাদের কর্তৃত্বকে প্রতিস্থাপনের চেষ্টা হিসেবে এক ধরনের বিকল্প সাংস্কৃতিক নেতৃত্বের ভাবনা শুরু করেছিলেন।

বিশ শতকের গোড়ায় মুসলিম বিশ্বে একটি মৌলিক বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক টানাপড়েন ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদ যে রাষ্ট্রকাঠামো, অর্থনৈতিক শৃঙ্খল ও সাংস্কৃতিক কর্তৃত্ব চাপিয়ে দিয়েছিল, তার ভেতরে মুসলিম সমাজ স্থায়ীভাবে পরাধীন থাকবে, নাকি সেই আধিপত্যের বিরুদ্ধে নিজস্ব রাজনৈতিক ভিত্তি দাঁড় করাতে পারবে—এ প্রশ্নের ভেতর দিয়েই নতুন চিন্তার ধারা গড়ে উঠেছিল। যার অগ্রগামী ছিলেন মিসরে মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতিষ্ঠাতা হাসান আল বান্না। উপনিবেশবাদ যে ‘স্বাভাবিকতা’ চাপিয়ে দিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে তিনি ইসলামকে নিছক ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একটি বিকল্প সংস্কৃতির উত্থান হিসেবে সামনে আনেন। লক্ষ্য ছিল স্বাধিকারবোধ প্রতিষ্ঠা। হাসান আল বান্না যে সময় মুসলিম ব্রাদারহুড প্রতিষ্ঠা করেন, মিসর তখন আধা-উপনিবেশ। রাষ্ট্রীয় কাঠামো, অর্থনীতি, শিক্ষা ব্যবস্থাসহ সবকিছুর ওপরই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের দৃশ্যমান কিংবা অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ ছিল। তিনি ঔপনিবেশিক আধিপত্যবাদের কর্তৃত্বকে প্রতিস্থাপনের চেষ্টা হিসেবে এক ধরনের বিকল্প সাংস্কৃতিক নেতৃত্বের ভাবনা শুরু করেছিলেন। তার কৌশল ছিল সমাজকে পুনর্গঠন করা। শিক্ষা, দাতব্য, সামাজিক সেবা, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক জীবনের মধ্য দিয়ে এক ধরনের সাংস্কৃতিক নেতৃত্ব তৈরি করা। এ রাজনৈতিক-সাংগঠনিক ধারার গভীর দার্শনিক ভিত নির্মাণে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল। তিনি আল বান্নার মতো সংগঠক ছিলেন না; কিন্তু আধিপত্যের প্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে তিনি আরো সূক্ষ্ম ও অস্তিত্বমুখী। ইকবাল পাশ্চাত্যের জ্ঞান ও বিজ্ঞানের বিরোধিতা করেননি; তিনি বিরোধিতা করেছেন সাম্রাজ্যবাদের সাংস্কৃতিক-মানসিক আধিপত্যের। তার ‘খুদি’ দর্শন ছিল ঔপনিবেশিক মানসিক দাসত্ব ভাঙার আহ্বান। এ ভেতরগত মুক্তির ভিত্তিতেই তিনি ইসলামকে এক ধরনের ‘আত্মিক গণতন্ত্র’ হিসেবে কল্পনা করেছিলেন। আল বান্নার সাংগঠনিক ইসলাম ও আল্লামা ইকবালের আত্মিক মুক্তির দর্শন মিলেই আধিপত্যবাদবিরোধী ইসলামের একটি শক্ত বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি তৈরি হয়, যা পরে বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নতুন রূপ নেয়। বাংলাদেশেও সাম্প্রতিক সময়ে যে ইসলামমুখী সাংস্কৃতিক প্রবণতা চোখে পড়ছে, সেটিকে অনেকেই সে ধারার একটি স্থানীয় প্রকাশ হিসেবে দেখেন।

বাংলাদেশে ইসলামমুখী সাংস্কৃতিক যে উত্থানটি চোখে পড়ছে, তার একটি বড় অংশ গড়ে উঠছে এমন তরুণদের মধ্যে, যারা হাসান আল বান্না কিংবা আল্লামা ইকবালের নাম জানেন কিন্তু তাদের দর্শনগুলোকে গভীরভাবে বোঝেন না। কিন্তু এখন তারা বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করছেন। এ জায়গা থেকেই ইসলাম সম্পর্কে যে বোঝাপড়া তৈরি হচ্ছে, তা অনেকটাই অর্গানিক অর্থাৎ সংগঠিত রাজনৈতিক শিক্ষা বা দলীয় মতাদর্শের কাঠামো থেকে নয়, বরং সামাজিক অভিজ্ঞতা, পরিচয়ের খোঁজ এবং দৈনন্দিন সাংস্কৃতিক চর্চা থেকে। এ প্রবণতাকে শক্তি দিচ্ছে মূলত নবগঠিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী, যাদের একটি অংশ ধর্মীয় পরিচয়কে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করতে চাইছে। একই সঙ্গে ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও সাংস্কৃতিক কর্তৃত্বের ধারণাটাকেও বুঝতে চাইছে। এ নবগঠিত মধ্যবিত্ত পরিসরের ভেতরেই ছোট কিছু প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগ গড়ে উঠেছে। সেখানে মুক্ত আলোচনা হচ্ছে, নতুন নতুন প্রকাশনা হচ্ছে। জমজমাট ইসলামিক বইমেলা হচ্ছে, ইসলামিক গানের প্রবণতাও বাড়ছে। সব মিলিয়ে একটি বিস্তৃত বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। যার মধ্য দিয়ে ধর্মীয় পরিচয়কে বোঝা এবং সেই পরিচয়ের ভেতর দিয়ে আধিপত্যের প্রশ্নগুলোকে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা দেখা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নিউ অরলিন্সের অধ্যাপক ড. কবির হাসান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘হাসান আল বান্না ও আল্লামা ইকবালের চিন্তা তরুণদের মানসিক কাঠামোকে অবশ্যই কোনো না কোনোভাবে প্রভাবিত করছে।’ তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আজকের প্রেক্ষাপটে তরুণদের চালিকাশক্তি কেবল ঐতিহাসিক চিন্তাধারা নয়, তারা চায় স্বাধিকার, চায় সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা। এটা যদি আধিপত্যবাদবিরোধিতা হয়, তবে তাই। তরুণরা প্রতিদিন তাদের সামনে যা ঘটতে দেখছে—রাষ্ট্রের আচরণ, সমাজের বাস্তবতা, বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহ—এসবই তাদের অবস্থানকে বেশি প্রভাবিত করছে। কেউ কেউ এ প্রবণতার কৃতিত্ব নিতে চাইবে, কিন্তু বাস্তবে মূল বিষয়টা হলো তরুণরা বাস্তবতা বুঝতে শিখছে; সেই বোঝাপড়াই তাদের নতুন দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’

 

বিশ্লেষকদের মতে, ঐতিহাসিক ভিত্তি মাথায় রাখলে বাংলাদেশে যে ইসলামমুখী সাংস্কৃতিক উত্থান বিভিন্ন রূপে দৃশ্যমান তা ব্যাখ্যা করা যায়। এখানে ‘ইসলামপন্থা’কে শুধু দলীয় রাজনীতির কৌশল হিসেবে না দেখে বোঝা দরকার—কোন অভিজ্ঞতা থেকে একটি প্রজন্ম এমন এক পরিচয়ের দিকে ঝুঁকছে, যা তাদের কাছে আধিপত্যবাদবিরোধী প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠছে। তাদের মতে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বাস্তবতায় সুশাসনের ঘাটতি, বিচারহীনতা, পশ্চিমা কিংবা ভারতীয় আধিপত্যবাদ তরুণদের মধ্যে এমন এক অসন্তোষ তৈরি করেছে, যেখানে প্রচলিত ন্যারেটিভ আর বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না। ইসলামিক সংস্কৃতি এ প্রেক্ষাপটে একটি বিকল্প নৈতিক কাঠামো হিসেবে হাজির হয়। তরুণদের কাছে এটি নিছক ধর্মীয় আশ্রয় নয়; বরং ভারতীয় ও পশ্চিমা আধিপত্যের আরোপিত ‘স্বাভাবিকতা’কে অস্বীকার করে মর্যাদা ও স্বাধিকারবোধের একটি আধিপত্যবাদবিরোধী ভাষা।

 

তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ এখন প্রতিবেশী দেশের আধিপত্যের বিরুদ্ধেও প্রকাশ্যে সোচ্চার হচ্ছে। সীমান্ত হত্যা, পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়া কিংবা রাজনীতিতে বাইরের প্রভাব—এসব অভিজ্ঞতা তাদের কাছে শুধু কূটনীতির বিষয় নয়, বরং মর্যাদা ও ন্যায়ের প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। এ অনুভূতি থেকেই অনেক তরুণ বৃহত্তর পরিচয় ও স্বাধিকারবোধের ভাষা খুঁজছে, যেখানে ইসলাম ধীরে ধীরে একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক চিহ্নে পরিণত হচ্ছে। সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি দিক হলো ইসলামী প্রকাশনা সংস্থাগুলো ধীরে ধীরে একাডেমিয়ার দিকে ঢুকছে। শুধু ধর্মীয় বই নয়, অনুবাদ, তাত্ত্বিক রচনা, ইতিহাস, দর্শন—এ ধরনের বই তারা প্রকাশ করছে। বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা, বই বা আলোচনার অনুবাদও পাঠকের সামনে আসছে, যা ইসলামমুখী পরিসরে এক ধরনের ‘পড়াশোনাভিত্তিক’ সংস্কৃতি তৈরির দিকে ইঙ্গিত দেয়। ঢাকায় আল্লামা ইকবাল সংসদের উদ্যোগে নিয়মিত সেমিনার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যেখানে পাঠ, বক্তৃতা, তর্ক-বিতর্কের মাধ্যমে ইকবালকে সমকালীন বাস্তবতায় টানার চেষ্টা দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইকবাল ও কাজী নজরুল ইসলামের চিন্তাধারা নিয়ে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ধরনের আয়োজনকে অনেকে ইসলামমুখী বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসর বিস্তারের ইঙ্গিত হিসেবে দেখেন। এটি সেমিনারভিত্তিক পাবলিক স্ফিয়ারে ইসলামী চিন্তার আলোচনা ও সাংস্কৃতিক উপস্থিতিকে দৃশ্যমান করে।

এ ধরনের উদ্যোগে রাজনীতির বাইরে একটি আলাদা অংশও গড়ে উঠছে। যারা দলীয় কাঠামোর বাইরে দাঁড়িয়ে ইসলাম, পরিচয়, আধিপত্য, নৈতিকতা—এসব নিয়ে কথা বলছে। ঢাকায় আল্লামা ইকবাল সংসদকে ঘিরে হলের নাম পরিবর্তনের দাবির মতো ঘটনাগুলোও এ সাংস্কৃতিক উপস্থিতির প্রতীকী বিস্তারকে দৃশ্যমান করে। এ নতুন জনপরিসর গড়ে উঠছে মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায়—বিশেষ করে ফেসবুক ও ইউটিউবভিত্তিক চর্চাকে কেন্দ্র করে। ছোট বিভিন্ন সংগঠন ফেসবুকের গ্রুপ-পেজের মাধ্যমে আদর্শ প্রচার করছে। যেখানে পাঠ-আলোচনা, কনটেন্ট শেয়ার, বক্তৃতার ক্লিপ, বইয়ের রিভিউ—সব মিলিয়ে একটি ধারাবাহিক চর্চা চলছে। এটিকে অনেকে মধ্যবিত্তের ভেতরে গড়ে ওঠা নতুন সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া বলে মনে করছেন। যেখানে ধর্মীয় পরিচয়, আধিপত্যবাদবিরোধী বোধ এবং সামাজিক জনপরিসরের নতুন ধরনের উপস্থিতি একসঙ্গে গড়ে উঠছে।

এ বিষয়ে সেন্টার ফর ইসলামিকেট বেঙ্গলের রিসার্চ ডিরেক্টর আহমেদ দীন রুমি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিশ্বব্যাপীই আসলে ধর্মীয় পরিচয়বাদী রাজনীতির উত্থান ঘটেছে। বাংলাদেশকেও তার সমান্তরালে পাঠ করা যায়। দেশের মানুষ, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে আধিপত্যবাদ বলতে ভারতীয় আধিপত্যবাদই স্বীকৃত ও বিগত দিনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক। যেহেতু ভারতীয় আধিপত্যের ভাষা ধর্মীয়, ফলে সেই আধিপত্যবাদের বিরোধিতা বিপরীত ধর্মীয় পরিচয় ও সংস্কৃতি নিয়েই হচ্ছে, এটাই স্বাভাবিক। যেমন পাকিস্তান আমলে আধিপত্যবাদবিরোধিতার ভাষা ছিল বাঙালি সংস্কৃতি। কারণ তখন আধিপত্যবাদী ও শোষিতের ধর্মীয় পরিচয়ে পার্থক্য ছিল না। অর্থাৎ বর্তমান আধিপত্যবাদবিরোধিতা অবশ্যই একটা প্রতিরোধের ভাষা। দলীয় পরিচয় হিসেবে না নিয়ে নবগঠিত শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অভিব্যক্তি হিসেবে বোঝা যেতে পারে। এর সঙ্গে উনিশ শতকের পূর্ববাংলায় বাঙালি মুসলমান মধ্যবিত্তের বিকাশের সঙ্গে মেলানো যায়।’

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতা, ফিলিস্তিনে গণহত্যা, যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার দ্বিচারিতা, ইরান ঘিরে সংঘাত—এসব ঘটনার মধ্যে তরুণরা যে নৈতিক ফাঁকটা দেখতে পায়, তা পশ্চিমা উদারনৈতিক ব্যবস্থার নৈতিক কর্তৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এখানেই ইসলাম অনেক তরুণের কাছে বিকল্প হিসেবে হাজির হয়, যেখানে পশ্চিমা আধিপত্যের বাইরে দাঁড়িয়ে নৈতিক অবস্থান নেয়া সম্ভব বলে তারা মনে করে।

এ উত্থানকে মোটা দাগে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই দেখা যায় বলে মনে করেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রাষ্ট্রে সুশাসনের ঘাটতি, বিচারহীনতা এবং দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের সাংস্কৃতিক আধিপত্যের চাপ—সব মিলিয়ে তরুণদের মধ্যে পরিচয় ও নৈতিক অবস্থানের প্রশ্নটা নতুনভাবে তীব্র হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ফিলিস্তিনে গণহত্যা এবং ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক শক্তির অবস্থানও এ প্রবণতাকে আরো তীব্র করেছে। যারা নিপীড়িত, তাদের পক্ষে দাঁড়ানো তরুণদের কাছে স্বাভাবিক নৈতিক প্রতিক্রিয়া। সেই জায়গা থেকেই তারা নিজেদের পরিচয় ও ভাষা খুঁজছে।’ অধ্যাপক যাকারিয়ার মতে, ‘এ উত্থান মূলত আধিপত্যবাদবিরোধী এক ধরনের সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ; এখানে কোনো রাজনৈতিক দলের সফলতা বা সাংগঠনিক কৃতিত্বকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখাটা একেবারেই গৌণ।’