ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে ৭২৩ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ও স্থাগিত ঘোষণা করা হয়েছে তাদের মধ্যে ৬০০ আপিলকারীর আপিলের শুনানি শুরু হবে আজ। চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা দিয়েছেন ‘এবারের জাতীয় নির্বাচন দেশের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা নির্বাচন হবে’। অথচ নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া তালিকা অনুযায়ী ১১৩ জন ঋণখেলাপি পার্থী হতে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে ৩১ জন ঋণ পরিশোধ না করেও উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে প্রার্থিতা বৈধ করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তালিকায় তারা ‘ঋণখেলাপি’ হিসেবে চিহ্নিত হলেও নির্বাচন কমিশন তাদের সরাসরি খেলাপি ঘোষণা করতে পারছে না। আবার ঋণখেলাপিদের অনেকেই মনোনয়ন বৈধ করার লক্ষ্যে ইসিতে আবেদন করেছেন। এদিকে কয়েকজন দ্বৈত নাগরিক নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, যারা ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করে খেলাপি এবং দেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন তারা এমপি হয়ে সংসদে গিয়ে কী ‘ইতিহাসের সর্বকালের সেরা সংসদ’ উপহার দিতে পারবেন? বিগত কয়েকটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদে ৭২ থেকে ৭৫ শতাংশ সদস্য ব্যবসায়ী ছিলেন। রাজনীতিকদের বদলে ওই সংসদগুলোর নিয়ন্ত্রণ ছিল ব্যবসায়ীদের হাতে। এবার কি ঋণখেলাপিদের কব্জায় বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে?
জানতে চাইলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ ইনকিলাবকে বলেন, ঋণখেলাপিদের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই কঠোর হতে হবে। যারা ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ফেরত দেয় না, তারা দেশ ও জাতির জন্য কোনো উপকারে আসতে পারে না। নির্বাচন কমিশনের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুসারে, কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না এটা বলা আছে। এবারের সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরও যদি কারো ঋণখেলাপি হওয়া বা অন্য কোনো মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল করতে পারবে নির্বাচন কমিশন। তাই নির্বাচন কমিশন যথাযথ আইন প্রয়োগে কতটা সক্ষম এটাও এর মাধ্যমে প্রমাণিত হবে। কে কোন দলের সেদিকে না তাকিয়ে নির্বাচন কমিশন যদি কঠোর অবস্থান তুলে ধরতে পারে তাহলে তাদের প্রতি ভোটারদের আস্থা বাড়বে। নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে কাজ করা উচিত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সে লক্ষ্যেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ৩০০ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে এক হাজার ৮৪২টি মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রার্থিতা ফিরে পেতে ইসিতে আপিল করেছেন ৬০০ জন প্রার্থী। আজ শুরু হবে সেই আপিলের শুনানি চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে যাদের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে তাদের মধ্যে যেমন ভুল তথ্য দেয়া, তথ্যে অসংগতি এবং আবেদনপত্র অসম্পূর্ণ আবেদন রয়েছে; তেমনি রয়েছে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব। শুধু ঋণখেলাপির কারণেই বাতিল হয়েছে ৮২ জনের প্রার্থিতা। তাদের মধ্যে ২৮ জন স্বতন্ত্র, তিনজন বিএনপি এবং দুজন জামায়াত মনোনীত। এর বাইরে জাতীয় পার্টি, সিপিবি, চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরাও রয়েছেন। সিআইবির তথ্যের আলোকে নির্বাচন কমিশন প্রার্থী বাছাইয়ে এসব ঋণখেলাপির প্রার্থিতা আটকে দেয়। তবে দ্বৈত নাগরিকরা আটকে গেলেও খেলাপি হওয়ার পরও উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে ৩১ জন ঋণখেলাপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বৈধতা পেয়েছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাছাইয়ে ঋণখেলাপির কারণে প্রার্থিতা বাতিল হওয়াদের মধ্যে বিএনপি, জামায়াত ছাড়াও জাতীয় পার্টির ১০ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (চরমোনাই পীরের দল) ৬ জন, গণঅধিকার পরিষদের ৬ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জএসডি) ৩ জন, এলডিপির ৩ জন, কমিউনিস্ট পার্টির ২ জন এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির ২ জন প্রার্থী রয়েছেন। এছাড়া একজন করে প্রার্থী আছেন আরো কয়েকটি দলের।
কয়েকজন দ্বৈত নাগরিক ও ১১৩ জন ঋণখেলাপি (উচ্চ আদালতের স্থাগিতাদেশ নিয়ে ৩১ জন প্রার্থী হয়েছে এবং বাছাইয়ে বাদ পড়েছে ৮২ জন) প্রার্থী হওয়া নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা-বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে। নেটিজেনদের অনেকেই বলছেন, যারা দেশের নাগরিকত্ব বাদ দিয়ে বিদেশের নাগরিকত্ব নিয়েছে তারা টাকার জোরে জনগণের ভোটে এমপি হয়ে দেশের জনগণের কী সেবা দেবেন? আর যারা ব্যাংকের ঋণ নিয়ে খেলাপি হন তারা এমপি হলে জনগণ কী সেবা পাবে তা বোধগম্য নয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেছেন, যারা দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়েছেন তারা দেশকে প্রত্যাখ্যান করেই বিদেশি নাগরিকত্ব নিয়েছেন। তারা নির্বাচন করে দেশের কোনো উপকারে আসবেন না। আর ঋণখেলাপিরা ব্যাংকের ঋণ নিয়ে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করেছেন তারা নির্বাচনে বিজয়ী হলেও জনগণ সেবা তেমন পাবে না। কারণ বিদেশি নাগরিক ও ঋণখেলাপিরা আর যাই হোক ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ চেতনায় বিশ্বাসী নন।
আজ শুনানি : রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের স্থাপিত কেন্দ্রীয় ব্যুথ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশন ভবনে স্থাপিত আপিল দায়ের কেন্দ্রে অঞ্চলভিত্তিক ১০টি বুথে এসব আপিল গ্রহণ করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রার্থীরা উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন বুথে কাগজপত্র জমা দিচ্ছেন। গতকাল ১৩১ জন মনোনয়ন প্রার্থী আপিল করেছেন। ইসির কর্মকর্তারা জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের আদেশের বিরুদ্ধে গত চার দিন নির্বাচন কমিশনে মোট ৪৬৯টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। সব মিলে ৬০০ জন আপিল করেছেন। মূলত সংশোধিত তফসিলের নির্বাচন সময়সূচি অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের হয়েছে ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি শুরু হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।
৩১ ঋণখেলাপি বৈধ : আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) অনুযায়ী, কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরও কোনো ব্যক্তির খেলাপির সত্যতা নিশ্চিত হলে তিনি পদ হারাতে পারেন। তবে উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বৈধতা পেয়েছেন ৩১ জন। এদের মধ্যে বিএনপি মনোনীত ১৫ প্রার্থী। বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে বগুড়া-১ কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-৫ গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, টাঙ্গাইল-৪ মো. লুৎফর রহমান, ময়মনসিংহ-৫ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, গাজীপুর-৪ শাহ রিয়াজুল হান্নান, মৌলভীবাজার-৪ মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, কুমিল্লা-৪ মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, কুমিল্লা-৭ রেদোয়ান আহমেদ, কুমিল্লা-৯ মো. আবুল কালাম, চট্টগ্রাম-২ সরোয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৪ মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৬ গোলাম আকবর খোন্দকার ও গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৬ মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী ও সিলেট-১ থেকে খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। এছাড়া বগুড়া-২ ও ঢাকা-১৮ থেকে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না রয়েছেন এ তালিকায়। স্বতন্ত্র ১১ প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন যশোর-৫ মো. কামরুজ্জামান, ময়মনসিংহ-১০ মো. মুশফিকুর রহমান, ময়মনসিংহ-১১ মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ এস এ কে একরামুজ্জামান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ কাজী নাজমুল হোসেন, কুমিল্লা-৯ ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক, চাঁদপুর-২ তানভীর হুদা, চট্টগ্রাম-৫ এস এম ফজলুল হক, নোয়াখালী-২ কাজী মোহাম্মদ মফিজুর রহমান, সিলেট-৩ মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী ও সিলেট-৫ থেকে মামুনুর রশীদ। এছাড়া জাতীয় পার্টির মানিকগঞ্জ-২ থেকে এস এম আব্দুল মান্নান, ইসলামী আন্দোলনের বাগেরহাট-১ থেকে মুজিবুর রহমান শামীম, নারায়ণগঞ্জ-৪ থেকে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মোহাম্মদ আলী।
৮২ ঋণখেলাপি বাতিল : বিএনপির মনোনীত যশোর-৪ আসনের টি এস আইয়ুব, কুমিল্লা-১০ মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, চট্রগ্রাম-১১ থেকে এ কে এম আবু তাহের। চট্টগ্রাম-১৪ আসনের জসীম উদ্দীন আহমেদের ঋণ নির্ধারিত তারিখের পর ৩০ ডিসেম্বর খেলাপি মুক্ত হয়েছে। জামায়াতের মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ যশোর-২ আসন, মো. আব্দুল হক ছিলেন ঢাকা-২ আসনের প্রার্থিতা বাতিল হয়। বাতিল হওয়া স্বতন্ত্র ২৮ প্রার্থীর মধ্যে আছেন রংপুর-৬ এস এম শাহ্জামান রওশন, নওগাঁ-৪ মো. আব্দুস সামাদ প্রামাণিক, রাজশাহী-৫ জুলকার নাঈম মোস্তফা, মাগুরা-১ কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া, বাগেরহাট-১ এস এম মুশফিকুর রহমান, খুলনা-৩ এস এম আরিফুর রহমান মিঠু, বরগুনা-১ মশিউর রহমান, পটুয়াখালী-১ মো. জাকির হোসেন মঞ্জু, ঝালকাঠি-১ মো. মোস্তাফিজুর রহমান, পিরোজপুর-২ মাহমুদ হোসেন, টাঙ্গাইল-৩ মো. শাহজাহান মিয়া, টাঙ্গাইল-৬ মো. সাইফুর রহমান, টাঙ্গাইল-৮ হাবিবুর রহমান কামাল, ময়মনসিংহ-৯ প্রফেসর এ আর খান, ময়মনসিংহ-১০ আবু বকর সিদ্দিকুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-১ খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, কিশোরগঞ্জ-৩ এ কে এম আলমগীর, মানিকগঞ্জ-২ এস এম আব্দুল মান্নান, ঢাকা-১ অন্তরা সেলিমা হুদা, ঢাকা-৩ রেজাউল কবির ও একই আসনের আরেকজন মোহাম্মদ মোজাদ্দেদ আলী। ঢাকা-৩ ও ৭ আসন থেকে রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা-১২ মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ-২ উৎপল বিশ্বাস, একই আসনের মশিউর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে নূরে আলম সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম-৩ থেকে মো. মোয়াহেদুল মাওলা। জাতীয় পার্টির মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া ১০ জন হলেন নীলফামারী-৩ মো. রোহান চৌধুরী, খুলনা-৬ মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর, ভোলা-১ মো. আকবর হোসাইন, ঝালকাঠি-২ এম এ কুদ্দুস খান, জামালপুর-২ মো. আনোয়ার হোসেন, শেরপুর-১ দলটির মনোনয়ন পাওয়া মাহমুদুল হক মনি ও মো. ইলিয়াছ উদ্দিন, শেরপুর-২ মো. রফিকুল ইসলাম বেলাল, কিশোরগঞ্জ-৩ মো. মুজিবুল হক ও সুনামগঞ্জ-৫ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের প্রার্থিতাও বাতিল হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের ঝিনাইদহ-১ মো. আলম বিশ্বাস, যশোর-৩ মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন, যশোর-৬ মো. শহিদুল ইসলাম, টাঙ্গাইল-৭ এ টি এম রেজাউল করিম আল রাজী, ময়মনসিংহ-৬ মো. নূরে আলম সিদ্দিকী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ থেকে সাঈদ উদ্দিন খান। গণঅধিকার পরিষদের গাইবান্ধা-৫ মো. সামিউল ইসলাম, গোপালগঞ্জ-১ মো. কবির মিয়া, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) সাতক্ষীরা-৪ এইচ এম গোলাম রেজা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ মো. জহিরুল হক খান, চট্টগ্রাম-১৩ থেকে মো. মুজিবুর রহমান ও খাগড়াছড়ির জেলার দীনময় রোয়াজা। জেএসডির চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ থেকে মনোনয়ন পাওয়া মো. ফজলুল ইসলাম খান, নোয়াখালী-২ মো. মোশারফ হোসেন মন্টু ও নোয়াখালী-৫ মো. কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী। এলডিপির রাজশাহী-২ মো. ওয়াহেদুজ্জামান, বাগেরহাট-২ মো. হাসান ইমাম ও চট্টগ্রাম-১২ এম এয়াকুব আলীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির পঞ্চগড়-২ মো. আশরাফুল আলম এবং রংপুর-৬ মো. কামরুজ্জামান। বাংলাদেশ লেবার পার্টির ময়মনসিংহ-১ মুহাম্মদ রাশেদুল হক ও চাঁদপুর-২ নাসিমা নাজনিন সরকার। রাজশাহী-৫ বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. আলতাফ হোসেন মোল্লা লালন কমিশন এজেন্ট অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি। অবশ্য নির্ধারিত তারিখের পর গত ৩০ ডিসেম্বর ঋণটি পুনঃতফসিল হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ময়মনসিংহ-৯ থেকে শামসুল ইসলাম, আমজনতার দলের দিনাজপুর-৫ মো. ইব্রাহিম আলী ম-ল, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. আব্দুল মালেক, জনতার দলের সিরাজগঞ্জ-২ মো. সোহেল রানা, এনপিপির বরগুনা-২ মো. সোলায়মান, নিউক্লিয়াস পার্টি বাংলাদেশের ঢাকা-৮ মোহাম্মদ সিদ্দিক হোসাইন, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির ঢাকা-১০ মো. আবু হানিফ হৃদয় এবং নাগরিক ঐক্যের চট্টগ্রাম-৯ এর প্রার্থী মো. নূরুল আবছার মজুমদার ঋণখেলাপির কারণে নির্বাচনে অযোগ্য হয়েছেন।
দ্বৈত নাগরিক : সংবিধানের ৬৬ (১) ধারার ৩(২ক) অনুচ্ছেদের উপদফায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করলে এবং পরবর্তীতে উক্ত ব্যক্তি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে নির্বাচনে অযোগ্য হবেন। জানা যায়, এবার বেশ কয়েকজন দ্বৈত নাগরিক নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এদের যারা বিদেশি নাগরিকত্ব বাতিল করার কাগজপত্র দেখিয়েছেন তাদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়েছে কারো স্থগিত করা হয়েছে। দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী, কুমিল্লা-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ইউসুফ সোহেল, চট্টগ্রাম-৯ আসনে জামায়াতের প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হক, কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। এছাড়াও সিলেটের তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয় সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম এ মালিক, সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনে এনসিপির প্রার্থী ও দলের সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এহতেশামুল হক ও সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ) আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জাহিদুর রহমান। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাজ্যের এই তিন সেই দেশের নাগরিকত্ব ছেড়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। তিন প্রার্থীর হলফনামায় দেখা গেছে, এম এ মালিক গত ১৬ ডিসেম্বর, এহতেশামুল হক গত ২২ অক্টোবর ও জাহিদুর রহমান গত ২৮ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন।
জানতে চাইলে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ব্যাংক লুটপাটকারী, ঋণখেলাপি আর অর্থপাচারকারীদের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই কঠোর হতে হবে। আরপিওতে নির্বাচন কমিশনকে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে তারা যাতে তার যথাযথ প্রয়োগ করে। তারা যদি এখন তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে না পারে তাহলে জনমনের আস্থা ফিরে আসবে না। নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে তাদের অবশ্যই নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। ঋণখেলাপিরা যাতে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে সে বিষয় কমিশনকে সজাগ থাকতে হবে।