Image description

জাতীয় ছাত্রশক্তির শীর্ষ পদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে দেওয়ার সমালোচনা করায় শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরান নাজিরের। বৃহস্পতিবার দুপুরে এক ফেসবুক পোস্টে কড়া সমালোচনা করেন তিনি। 

 

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি)  জানুয়ারি ঢাবি কোরামের সমালোচনা করে পোস্ট দেন ইমরান নাজির। সন্ধ্যা সাতটায় দপ্তর সম্পাদক মাহফুজুর রহমান- এর স্বাক্ষরিত চিঠিতে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয় তাকে। 

শোকজ নোটিশে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী আচরণ করে গঠনতন্ত্রের ধারা ৬.৫ অনুযায়ী সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার গঠনতন্ত্রের ধারা ৬.৬.১ অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি জাহিদ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদারের নির্দেশ মোতাবেক আপনাকে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে লিখিত কারণ দর্শানোর নির্দেশ প্রদান করা হলো।

 

শোকজ পাওয়া জাতীয় ছাত্রশক্তির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরান নাজির ফেসবুক পোস্টে বলেন, "আমাদের এনসিপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রশক্তির বিষয়েঃ আপনারা অনেকেই চেয়েছিলেন যে আমি যেন এ বিষয়ে সমালোচনা করি। দেখুন ছাত্রশক্তির কমিটি হওয়ার পর আমি বলেছিলাম  ছাত্রশক্তিও গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের মত ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ ব্যর্থ হওয়ার পর আমরা নতুন বন্দোবস্তের স্বপ্ন নিয়ে নতুন উদ্যমে জাতীয় ছাত্রশক্তি নামে শিক্ষার্থীদের আস্থাভাজন ও সহায়ক সংগঠন গঠন করার সিদ্ধান্ত নিই।  কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে এ ছাত্রশক্তি শুরুই হয়েছে আগের মত ভাই ব্রাদার ঢাবি কেন্দ্রিক কোরাম দিয়ে। ছাত্রশক্তির নেতৃত্ব স্থানীয় পদ তারা ঢাবির বাইরে দিবে না,  দিলেও আপনাকে ঢাবির দিকে সেজদা দিয়ে নিতে হবে। আপনি কারো সমালোচনা করতে পারবেন না,  বিশেষ করে ঢাবির। আপনি এ সংগঠনে গেলে আপনার মনে হবে এ সংগঠন ঢাবির জমিদারি। যারাই সমালোচনা করেছে তারাই মাইনাস।তাদেরকে তারা সব সময় এড়িয়ে যায় সব কিছু তে। তাদের যোগ্যতা যাচাই না করেই অযোগ্য তকমা দেয়।"

 

সেই পোস্ট তিনি আরও লিখেছেন, "শিবিরের প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারি যোগ্যতা অনুযায়ী হয়, ঢাবিয়ান দেখে নই।  সারা বাংলাদেশ যে তাদের এ যোগ্য নেতৃত্বকে গ্রহণ করেছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচনই তার প্রমাণ। কিন্তু ছাত্রশক্তি  তাদের প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি, সাংগঠনিক সম্পাদক ঢাবি থেকেই বানাবে বলে একটা গুপ্ত নিয়ম করে রেখেছে।  কি উদ্ভট চিন্তা এ সময়ে এসেও তাই না? ছাত্রশক্তির প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি, সাংগঠনিক সম্পাদক যত টুকু না লিডার তার চাইতে বেশি বস। একদম কোনো কর্পোরেট  অফিসের বসের মত তাদের আচার-আচরণ। লিডার আর বস যে ভিন্ন জিনিস তারা হয়তো তা জানেই না।  নই তো আত্ম অহামিকায় ভুলে গেছে। যার ফলে দিন দিন সংগঠনও একটা প্রাইভেট কোম্পানির অফিসের মত ছোটো হয়ে যাচ্ছে। 

সংগঠনের ফান্ডিং এর বিষয়ে লিডারদের কোনো ইতিবাচক প্রভাব নাই।  সবাই ব্যক্তিগত সম্পদ গড়তে ব্যস্ত। নিজেদের কাছে কোটি টাকা থাকার পরেও সংগঠনের কোনো কর্মসূচিতে তারা একটা টাকা দিয়ে সহযোগিতা করতে আগ্রহী নই। শিক্ষার্থীদের কল্যাণের পরিবর্তে তারা নিজেদের ও ভাই ব্রাদার কোরামের কল্যাণ নিয়ে ব্যস্ত।"

সংগঠন কারো বিপদে এগিয়ে না আসার বিষয়ে ইমরান নাজির লিখেছেন, "আর একটা বিষয় হচ্ছে সংগঠনের কেউ বিপদে পড়লে তারা খোঁজ খবরও নেয় না ভাইরাল না হওয়া পর্যন্ত। নিজেদের সামর্থ্য থাকার পরেও সংগঠনের কারো বিপদে তারা সহযোগিতা করে না।  তারা একদম প্রাইভেট কোম্পানির বসদের মত আত্মকেন্দ্রীক। নতুন করে ছাত্রশক্তি হওয়ার পরও গো হারা হারছে এসব কারনেই। যাইহোক সমালোচনা করে শেষ করা যাবে না।"

ছাত্র শক্তি ভুলগুলো শুধরে সামনল এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি লিখেছেন, "তবে আমি চাই আমার এ প্রাণের সংগঠন নিজেকে শুধরে নিক। সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও নেতা বাছাইয়ে পরিবর্তন আনুক। আমি সব সময় এনসিপি ও তার অঙ্গ, সহযোগী সংগঠনের সফলতা কামনা করি।"

শোকজের বিষয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বলেন, "সংগঠনের বিষয়ে কোন অভিযোগ থাকলে আমাদের সাংগঠনিক ফোরামে সেটি তুলতে পারত। আমাদের সংগঠনের তো একটা পলিসি আছে। এখন সবকিছুর বাহিরে গিয়ে যদি ফেসবুকে সবকিছু প্রকাশ করতে চায় এবং দায়িত্বশীলদের অসম্মান করে এই ধরনের মন্তব্য করে। সেইক্ষেত্রে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরান নাজির) বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"