জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ ( জকসু ) নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ক্যাম্পাসে চলছে নানা আলোচনা । শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রমের কারণে এ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির - সমর্থিত প্যানেল নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা । অন্যদিকে , ছাত্রদলের পরাজয়ের নেপথ্যে রয়েছে সাংগঠনিক কোন্দল ও দুর্বল প্রার্থী বাছাই ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেজবাহ - উল - আজম সওদাগর বলেন , ছাত্রদলের প্রস্তুতি সীমিত এবং অল্প দিনের ছিল , আর শিবির দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমাত্রিকভাবে আগে থেকেই কাজ শুরু করেছে । এ বাস্তবতাই নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করেছে । তিনি আরও বলেন , ‘ গত ৫ আগস্টের আন্দোলনে ছাত্রসংগঠনগুলো একসঙ্গে কাজ করেছে , যা ইতিহাসে বিরল নজির । নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন বলে আশা করি । ”
আস্থার ফল জকসুর নবনির্বাচিত সহসভাপতি ( ভিপি ) রিয়াজুল ইসলাম বলেন , ‘ শিক্ষার্থীদের ভরসার জায়গা হতে পারার কারণে আজকের এই জয় সম্ভব হয়েছে । শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করার তৌফিকদানের জন্য সবার দোয়া কামনা করছি । '
গত মঙ্গলবার জকসুর ভোট হয় । গণনা শেষে বৃহস্পতিবার ফলাফল প্রকাশিত হয় । এতে ইসলামী ছাত্রশিবির - সমর্থিত ‘ অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেল ' ২১ টি পদের মধ্যে ১৬ টিতে জয় পায় । অন্যদিকে ছাত্রদলসমর্থিত ‘ ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেল ' বিজয়ী হয়েছে ৪ টিতে । একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন । শিবিরের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রম একাধিক শিক্ষার্থী ও ছাত্রসংগঠনের নেতা বলছেন , শিবিরের এই জয় হঠাৎ করে আসেনি । সংগঠনটির নেতা - কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে বিএনসিসি , ডিবেটিং সোসাইটি , রোভার স্কাউটসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে যুক্ত ছিলেন । এর মাধ্যমে তাঁরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন ।
ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের শিক্ষার্থী মো . কামরুল হাসান বলেন , জকসু নির্বাচনে জয় - পরাজয়ের ফারাক মূলত কৌশলের কারণে । শিবির বেশি শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পরিকল্পিত ছিল । আর ছাত্রদলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখা গেছে । অতীতের নির্যাতনের বিষয়গুলোও ছাত্রদল ভালোভাবে তুলে ধরতে পারেনি । দুই পক্ষই শিক্ষার্থীবান্ধব কাজ করেছে । তবে শিক্ষার্থীদের কাছে ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়তে শিবির এগিয়ে ছিল । জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অনাবাসিক হওয়ায় শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ মেসে থাকে । এ বাস্তবতায় শিবিরসমর্থিত প্রার্থীরা মেসে গিয়ে সরাসরি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ - সমস্যার কথা শোনেন এবং ভোট প্রার্থনা করেন । অনেকের মতে , এ কৌশল নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে । গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের আরশী আক্তার সানী বলেন , শিবির এ বছর সুচারুভাবে কৌশল নিয়ে হলে ও ক্যাম্পাসে নিয়মিত থাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ভালো হয়েছে এবং ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীবান্ধব ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে । ছাত্রদলের ‘ ভুল ’ প্রার্থী ছাত্রদলসমর্থিত প্যানেলের প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পেছনে প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়টি সামনে এসেছে ।
বিশেষ করে সাধারণ সম্পাদক ( জিএস ) পদে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে নেতা - কর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন ছিল বলে জানান তাঁরা । দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী হুমায়রাত হক প্রমি বলেন , ছাত্রদলের প্যানেলে অন্য দলের সদস্য থাকায় তাদের নিজস্বতা কমে গেছে , যা দলের ভেতরের ঐক্য দুর্বল করেছে । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির এক নেতা বলেন , ‘ ৫ আগস্টের আগে শুধু ছাত্রদল করার কারণে অনেক নেতা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি । একই সঙ্গে তাঁরা সব আন্দোলন ও সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন । তাঁদের বাদ দিয়ে বাইরে থেকে প্রার্থী আনা হয়েছে , যা সংগঠনে কোন্দল সৃষ্টি করেছে এবং আমাদের পরাজয়ের কারণ হয়েছে । '