Image description

অবশেষে সংসদ নির্বাচন থেকে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান (সুখন)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমের কর্মীদের কাছে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, প্রিয় নাসিরনগর বাসী আপনারা জানেন, ২০০৪ সাল থেকে আমি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বিএনপির পতাকাতলে ছিলাম। আমি প্রয়াত তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সম্মানে এবং দেশ নায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার উদ্যোশে দাখিল করা আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করছি। আমি আপনাদের সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করি। আমি যেন যেকোনও পরিস্থিতিতে আপনাদের পাশে থাকতে পারি। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিন্দাবাদ। তারেক রহমান জিন্দাবাদ। বেগম খালেদা জিয়া অমর হোক। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অমর হোক।

উল্লেখ্য, সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান আরএকে সিরামিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা। তিনি বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করলে ২০২৩ সালের ২৯ নভেম্বর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

পরে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ঢাকা বোট ক্লাবে তৎকালীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সঙ্গে নাসিরনগর উপজেলার সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেন সংসদ সদস্য একরামুজ্জামান। সভায় নাসিরনগর উপজেলার প্রায় ৩০০ জন জনপ্রতিনিধি অংশ নেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কলার ছড়ি প্রতীকে ৮৯ হাজার ৪২৪ ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন একরামুজ্জামান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন নৌকার প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য বি এম ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম। এর আগে ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র এবং ২০০৮ ও ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন থেকে নির্বাচন করেন একরামুজ্জামান। তিনবারই তিনি পরাজিত হন।