Image description
প্রতিদিন সারা দেশে গড়ে ১১ খুন, ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না

দেশজুড়ে খুনখারাবি থামছেই না। তুচ্ছ ঘটনা থেকে শুরু করে পূর্বশত্রুতা, আধিপত্যের লড়াই, রাজনৈতিক বিরোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন কারণে কথায় কথায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে মানুষ। রাজনৈতিক কর্মী, ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষ-খুনের ভিকটিমের তালিকা ক্রমেই বড় হচ্ছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন করে শঙ্কা জাগাচ্ছে টার্গেট কিলিং। দেশব্যাপী চলমান এসব সহিংসতা ঠেকাতে পুলিশ যেন অনেকটাই অসহায়। ঘটনা ঘটার পর অনেক ক্ষেত্রে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছেন আসামিরা। এতে করে নির্বাচনের অল্প কিছুদিন বাকি থাকলেও জননিরাপত্তা নিয়ে বিরাজ করছে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর পুলিশের নিয়ন্ত্রণ থাকে না, তখন খুনাখুনি বাড়তে থাকে। নির্বাচনের আগে পেশাদার খুনি ও অন্য অপরাধীদের কদর বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর সারা দেশে ৩ হাজার ৭৮৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গড়ে প্রতিদিন ১১টির মতো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর আগে ২০২৪ সালে সারা দেশে ৩ হাজার ৪৩২, ২০২৩ সালে ৩ হাজার ২৩টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকা রেঞ্জ ও ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে সবচেয়ে বেশি। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ৫ আগস্টের পর জামিনে মুক্ত দাগি আসামি, আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসী ও জেল পলাতক বন্দি ছাড়াও পাড়া মহল্লার ছিঁচকে অপরাধীরাও খুনাখুনির জন্য শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কথায় কথায় খুনাখুনি : ঢাকাসহ সারা দেশে যেন কথায় কথায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। গত বুধবার রাতে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের তেজতুরী বাজার এলাকায় বিএনপির অঙ্গসংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। গত মঙ্গলবার রাজধানীর কদমতলী এলাকায় শাহাবুদ্দিন (৪০) নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। গতকাল দিনাজপুর সদর উপজেলার হত্যা করে খয়রাত আলী (৪৪) নামের এক ব্যক্তির ব্যাটারিচালিত ভ্যান ছিনতাই করে পালায় দুর্বৃত্তরা। গত সোমবার রাতে চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা জানে আলমকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত শনিবার রাতে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার ফতেপুর করালি নওশারার চরে গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে গুলি করে সোহেল রানা (৩৫) নামে এক যুবককে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। একই দিন যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় আলমগীর হোসেন (৫৫) নামে বিএনপির এক নেতাকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। গত ১৮ ডিসেম্বর খুলনায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে ডুমুরিয়া উপজেলার শলুয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাংবাদিক ইমদাদুল হক মিলন (৪৫) নিহত হন। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করা হয়। সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মারা যান তিনি। গত ১১ ডিসেম্বর পুরান ঢাকার শ্যামবাজারে আবদুর রহমান ভূঁইয়া (৫৫) নামে এক মসলা ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গত ১৭ নভেম্বর রাজধানীর মিরপুরে দোকানে ঢুকে পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়াকে (৪৭) গুলি করে হত্যা করা হয়। গত ১০ নভেম্বর পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সামনে শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুনকে (৫৫) ফিল্মি স্টাইলে গুলি করে হত্যা করা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, শুধু হত্যাকাণ্ড নয়- যেকোনো অপরাধ দমনে সব ইউনিটকে নিয়মিত কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্বাচনের সামনে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এ জন্য সদর দপ্তর থেকে সব ইউনিটকে প্রতিনিয়ত কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।