সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত (এমসিকিউ) পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে গাইবান্ধা জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসন সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। একই দিন গাইবান্ধার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার স্বাক্ষরে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।
জেলা প্রশাসন জানায়, আগামী শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা থেকে ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত গাইবান্ধা জেলার ৪৩টি পরীক্ষা কেন্দ্রে একযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার আগে, চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
জারি করা আদেশ অনুযায়ী, পরীক্ষার দিন দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রের চারপাশে ২০০ গজের মধ্যে সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, বেআইনি জমায়েত, প্রচারণা এবং বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রগুলোর আশপাশে অননুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে ভিড়, বিশৃঙ্খলা বা যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ আদেশ প্রযোজ্য হবে না।
উল্লেখ্য, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ–২০২৫ এর লিখিত পরীক্ষা প্রথমে ২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার ঘোষিত জাতীয় শোক দিবসের কারণে ওই দিনের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর নতুন তারিখ হিসেবে ৯ জানুয়ারি নির্ধারণ করে। পাশাপাশি পরীক্ষার সময়সূচিও পরিবর্তন করে সকাল ১০টার পরিবর্তে বিকেল ৩টা থেকে ৪টা ৩০ মিনিট করা হয়।
গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৪০০টির বেশি শূন্য পদের বিপরীতে এবারের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ২৭ হাজার ৬৮৮ জন পরীক্ষার্থী।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লক্ষ্মণ কুমার দাশ বলেন, বর্তমানে জেলায় ৪০০টির বেশি শূন্য পদ রয়েছে এবং অবসরজনিত কারণে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তিনি জানান, পরীক্ষাটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্তভাবে আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষক, পরীক্ষার্থী, অভিভাবক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পরীক্ষাসংক্রান্ত যেকোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।