জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ‘উন্নয়নের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বুধবার সকালে এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মানুষের আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে একটি সুখী, সমদ্ধ, কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। এজন্য গত দেড় দশক এত ত্যাগ এত জেলজুলুম-মামলা-গুম। এখন সময় এসেছে বদলানোর। বাংলাদেশের উন্নয়নের সুফল প্রত্যেকটি নাগরিকের কাছে যেতে হবে, জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে। প্রত্যেকটি নাগরিককে বাংলাদেশের উন্নয়নের অংশীদার হতে হবে, অর্থনীতির অংশীদার হতে হবে। অর্থাৎ শুধুমাত্র রাজনীতিতে গণতন্ত্র হলে চলবে না, অর্থনীতিকে গণতন্ত্রায়ন করতে হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রণীত দেশ গড়ার পরিকল্পনা তুলে ধরে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই বিশাল রূপরেখা বাস্তবায়ন আমাদের সকলে মিলে করতে পারে। তারেক রহমান একা এটা করতে পারবেন না, সরকার এটা করতে পারবে না। এটা পার্টনারশিপ লাগবে। এখানে সকলে যুক্ত হতে হবে, এখানে এলায়েন্স লাগবে। সুতরাং আমাদের ভূমিকা আমাদের পালন করতে হবে, সবাই সহযোগিতা লাগবে। আমাদেরকে সৈন্য হয়ে যেতে হবে বাংলাদেশ গড়ার উন্নয়নে তাহলে জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন, বেগম খালেদা জিয়ার স্বপ্ন, আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেবের স্বপ্ন, তার রূপরেখা আমরা সকলে মিলে সম্মিলিতভাবে ইনশাআল্লাহ আগামী বাংলাদেশ গড়তে পারবো। জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জিয়া পরিষদের উদ্যোগে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল হয়। আমির খসরু বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে গণতন্ত্রের মশাল বহন করেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার বহন করা সেই মশাল এখন তারেক রহমান বহন করছেন। আগামী দিনে গণতন্ত্রের টর্চ বিয়ার হিসেবে দেশের নেতৃত্ব পাবেন তিনি।
তিনি (বেগম খালেদা জিয়া) জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে ফ্যাসিস্টমুক্ত করার জন্য তারেক রহমান সক্ষম। আমাদের মানদণ্ড উঁচু রাখতে হবে এবং জাতিকে শৃঙ্খলিত করতে হবে।’ বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতত্বের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া কোনো ধরনের আপস করেননি। কিন্তু যারা পালিয়ে গেছে বা আজকে আমাদের সঙ্গে নির্বাচন করছে, তারা এক সময় ১/১১ এর পক্ষে ছিল। বেগম খালেদা জিয়াকে ভালোবেসে কোটি কোটি মানুষ তার জানাজায় অংশ নিয়েছেন। এটি একদিনে তৈরি হয়নি, মানুষ হৃদয়ের টানে লাখ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করেছে। সারা বিশ্বে এত বড় জানাজা হয়েছে, এমন আগে দেখিনি। বাংলাদেশে তার প্রতি মানুষের ভালোবাসা অত্যন্ত গভীর। জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল লতিফের সভাপতিত্বে ও অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের সঞ্চালনায় স্মরণ সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জিয়া পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক এমতাজ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।