খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক, চলাচল সংরক্ষণ ও সাইলো (সাবেক অতিরিক্ত পরিচালক, প্রশাসন) মো. জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দাখিল করা অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্ত্রীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত সেপ্টেম্বরে খাদ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। কিন্তু সেই চিঠির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনোই ব্যবস্থা নেয়নি খাদ্য মন্ত্রণালয়। জহিরুল ইসলামের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে এই চিঠির কার্যকারিতা ধামাচাপা দিয়ে রেখেছেন সাবেক খাদ্য সচিব মো. মাসুদুল হাসান, দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
জহিরুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর এসব অভিযোগ দায়ের করেছেন স্বয়ং তার স্ত্রী শারমিন আক্তার। জহিরুল তখন ছিলেন খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন) পদে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ছাড়াও এর আগে-পরে বিভিন্ন সময়ে খাদ্য উপদেষ্টা এবং খাদ্য সচিব বরাবরও একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শারমিন আক্তার। এমনকি নারী নির্যাতন মামলার কপিও সংযুক্তি হিসেবে দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে সাময়িক বরখাস্তসহ যেসব ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তা মোটেই নেয়নি খাদ্য মন্ত্রণালয়। বরং অভিযোগের পর উল্টো অতিরিক্ত পরিচালক থেকে পরিচালক পদে চলতি দায়িত্বে পদোন্নতিও দিয়েছে তাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে যে চিঠি এসেছে তাও ধামাচাপা দিয়ে রেখেছে মন্ত্রণালয়।
জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর লিখিত এ অভিযোগ দেন শারমিন আক্তার। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গত ২৮ সেপ্টেম্বর খাদ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-৩ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব ফয়সাল আহমেদ স্বাক্ষরিত উক্ত চিঠিতে বলা হয়, “উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, জনাব শারমিন আক্তার-এর নিকট থেকে জহিরুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত পরিচালক, প্রশাসন বিভাগ, খাদ্য মন্ত্রণালয়-এর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। এমতাবস্থায় অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগের ছায়ালিপি এতদসঙ্গে নির্দেশক্রমে প্রেরণ করা হলো।” কিন্তু ২৮ সেপ্টেম্বর চিঠিটি প্রেরণ করা হলেও এ পর্যন্ত কোনোই ব্যবস্থা নেয়নি খাদ্য মন্ত্রণালয়। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তখনকার সচিব মো. মাসুদুল হাসান সংশ্লিষ্ট শাখায় এ চিঠিটি ধামাচাপা দিয়ে রাখার ব্যবস্থা করেছেন। জহিরুলের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে আসা অভিযোগগুলো ধামাচাপা দিয়ে রাখা এবং তাকে অবৈধভাবে পরিচালক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রেও মূল ভূমিকা রাখেন সচিব মাসুদুল হাসানই। বিনিময়ে তিনি জহিরুলের কাছ থেকে বড় অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জনপ্রশাসন সচিবের কাছে দেয়া অভিযোগপত্রে যা আছে
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর গত ১৭ আগস্ট শারমিন আক্তার যে লিখিত অভিযোগটি দাখিল করেছেন তাতে বলা হয়েছে, “পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত পরিচালক, প্রশাসন বিভাগ, খাদ্য অধিদপ্তরে কর্মরত আছেন। তিনি আমাকে অনেকবার নির্যাতন করেছেন। তিনি দুর্নীতির অন্যতম হোতা। প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তার মেয়ের জামাই আবু নাসের বেগ ও মেয়ে তৃণার সহযোগিতায় দূর্নীতির স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছেন। টাকার গরমে তিনি আমার বড় বোনের মেয়েকে বিবাহ করেন। বাড়ি বানিয়ে দিয়েছেন, কোট টাকার ফার্নিচার দিয়েছেন, একটি গাড়িও কিনে দিয়েছেন। চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক থাকাকালীন দুর্নীতি করে টাকার পাহাড় গড়েছেন। যে কারণে জুলাই অভ্যুত্থানের পর আগস্টে তাকে রাজশাহী থেকে প্রত্যাহার করে খাদ্যভবনে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়। অবৈধ টাকার গরমে আমাকে মারধর, নির্যাতন ও তালাক দিয়েছেন। এক্ষণে, তার দুর্নীতি, অনাচার ও ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে তার ভূমিকা ও স্ত্রীকে নির্যাতনের বিষয় তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অনুরোধ করা হলো।
বিপুল অর্থ-বিত্তের লোভেই আপন খালু জহিরুলের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ান স্বর্ণা
জানা যায়, জহিরুল ইসলাম খান খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন) পদে থাকাকালে স্ত্রীর আপন বড় বোনের মেয়ে শাহানা আক্তার স্বর্ণার পরকীয়ায় ধরা পড়েন। এ নিয়ে শারমিন আক্তারের সঙ্গে সম্পর্কের চরম অবনতি হয়। স্ত্রীর ওপর চরম নির্যাতন-নিপীড়নও চালান জহিরুল। এক পর্যায়ে আদালতে নারী নির্যাতনের মামলা করেন শারমিন আক্তার। আদালতে দেয়া অভিযোগে শারমিন আক্তার বলেন, তার আপন বড় বোনের মেয়ে শাহানা আক্তার স্বর্ণার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই পরকীয়া চলছিল জহিরুলের। জহিরুল ইসলাম ইতিপূর্বে রাজশাহীর আরসি ফুড এবং তার আগে চট্টগ্রামের আরসি ফুড পদে থাকাকালে বিপুল অবৈধ অর্থের মালিক হন, যাকে ‘টাকার পাহাড়’ বলে আখ্যায়িত করেছেন শারমিন আক্তার। এইসব অর্থের লোভেই মূলতঃ শাহানা আক্তার স্বর্ণা আপন খালু জহিরুলের সঙ্গে পরকীয়া চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এই পরকীয়া সম্পর্ক তৈরি হয় জহিরুল ইসলাম চট্টগ্রামের আরসি ফুড থাকাকালেই। জহিরুল ইসলাম রাজশাহীর আরসি ফুড পদে পদায়নের পরে এই সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে আরও গাঢ় হয়। ২০২৪ সালের এপ্রিলে স্ত্রীর হাতে ধরা পড়েন জহিরুল। জহিরুলের পরকীয়ার ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। স্ত্রী শারমিন আক্তারের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালান জহিরুল ইসলাম খান। স্বামীর বিরুদ্ধে এসব ঘটনা তুলে ধরে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ঢাকার ১৩ নম্বর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন শারমিন আক্তার। মামলায় মোট চার জনকে আসামি করা হয়। এরমধ্যে এক নম্বর আসামি হলেন- জহিরুল ইসলাম খান, ২ নং শাহানা আক্তার স্বর্ণা (বোনের মেয়ে), ৩ নং আসামি সাইদ হাসান শাকিল (আপন বোনের ছেলে) এবং ৪ নং আসামি (আপন বোন) সাইফুন আরা।
মামলার আরজিতে শারমিন আক্তার তাঁর ওপর চরম শারীরিক নির্যাতনের একাধিক দিনের ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। এ সংক্রান্ত তথ্য প্রমাণও সংযুক্ত করেন মামলার আরজির সঙ্গে। ৫ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে জহিরুল ইসলামের মারপিট ও নির্যাতনে শারমিন আক্তার অজ্ঞান পড়লে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপরে সর্বশেষ ২৭.১২.২০২৪ তারিখে জহিরের কিল-ঘুষি ও নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে পড়লে মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। আরজিতে এসব তথ্য তুলে ধরেন শারমিন আক্তার। তিনি অভিযোগ করেন, জহিরুল ইসলামের অর্থের লোভে লাভবান হওয়ার আশায় তাঁর আপন বোনের মেয়ে শাহানা আক্তার স্বর্ণা এই অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়েছে।
জহিরের পরকীয়া কেলেঙ্কারি ও নির্যাতনের বিষয়ে সচিব এবং উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগ
আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করার পরও জহির উদ্দিন খানের পরকীয়া কেলেঙ্কারিসহ বেপরোয়া কর্মকাণ্ড ঠেকাতে পারছিলেন না শারমিন আক্তার। বরং এতে তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়ে যাচ্ছিল। ফলে বাধ্য হয়ে খাদ্য সচিব মো. মাসুদুল হাসানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে বাধ্য হন শারমিন আক্তার। সচিব বরাবর জমা দেয়া উক্ত অভিযোগপত্রে ‘বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ ছিল, “নারী নির্যাতন ও পরকীয়াজনিত অভিযোগ প্রসঙ্গে।” অভিযোগপত্রে শারমিন আক্তার বলেন, “আমি নিম্নস্বাক্ষরকারী শারমিন আক্তার (৪৫), পিতা- মৃত লুৎফর রহমান, মাতা- সুফিয়া খাতুন, বর্তমান ঠিকানা- ১২১৭/১/৩, মিরপুর, কাজীপাড়া, আমার স্বামী মো. জহিরুল ইসলাম খান আপনার খাদ্য ভবনে বর্তমানে অতিরিক্ত পরিচালক পদে কর্মরত আছেন। উল্লেখ্য যে, গত ২০২০ইং সালে তার চট্টগ্রামে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক পদে পদোন্নতি হয় এবং সেখানে সে প্রায় আড়াই বছর অবস্থান করে। অবস্থানরত অবস্থায় সে একটি বাসা ভাড়া নেয়। সেখানে আমি আমার তিন ছেলে মেয়েসহ ২০২১ এর জানুয়ারি মাস পর্যন্ত অবস্থান করি। অতঃপর আমার বড় মেয়ের তখন মেডিকেলে পরীক্ষা থাকার কারণে এবং ছেলের ভর্তি পরীক্ষার জন্য আমি ঢাকায় আসি। সে ততদিন চট্টগ্রামে অবস্থান করছিল। দুঃখজনক যে, আমার অগোচরে চট্টগ্রামের ওই বাসায় আমার আপন বোন সাইফুন আরা ও তার মেয়ে শাহানা আক্তার স্বর্ণা কয়েকদিন বেড়ানোর নাম করে অবস্থান করে। এমতাবস্থায় আমার স্বামী মো. জহিরুল ইসলাম খান ও আমার বোনের মেয়ে শাহানা আক্তার স্বর্ণার মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ইহা গত তিন বছর ধরে চলতে থাকে। আমার স্বামী রাজশাহী বদলি হবার পর আমাদের অগোচরে আমার বোনের মেয়েসহ বাসা ভাড়া নিয়ে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক বজায় রাখে। উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল ২০২৪ সালে আমি ও আমার ছেলে-মেয়ে এ সম্পর্কে জানতে পারি এবং আমরা নানাভাবে তাকে এ ধরনের অবৈধ পরকীয়া সম্পর্ক থেকে বের করে আনার চেষ্টা করি। সর্বশেষ গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সে আমাদের বাসা থেকে বের হয়ে যায় এবং আমার আপন বোনের মেয়েকে নিয়ে বাসা ভাড়া করে অবস্থান করে। এখন আমার ও আমার ছেলে-মেয়ের নামে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমাদের সামাজিকভাবে হেয় করছে। উল্লেখ্য যে, বাসা থেকে বের হওয়ার পর আমাদের কোনরূপ খোঁজ-খবর নেয়নি এবং ভরণপোষণ দেয়নি। যার ফলস্বরূপ আমি আমার ছেলে-মেয়ে বাধ্য হয়ে একাধিকবার খাদ্য ভবনে যাই। সে এখন পরকীয়াজনিত কারণে পরিবারের নামে উল্টো মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে। এমতাবস্থায় মহোদয়ের নিকট আবেদন আপনি এর উপযুক্ত প্রতিকার ও ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। উল্লেখ্য থানায় করা অভিযোগ অত্র সাথে সংযুক্ত করা হল।
গত ১৯ জানুয়ারি, ২০২৫ইং তখনকার অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন) জহিরুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত এ অভিযোগ দাখিল করেন শারমিন আক্তার। সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী স্ত্রীর এ ধরনের অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়ে থাকে। এ ধরনের ফৌজদারি মামলার কপিসহ অভিযোগ দায়ের করলে ফৌজদারি মামলার কারণে সংশ্লিষ্ট সরকারি চাকরিজীবীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাময়িক বরখাস্ত করার নিয়ম রয়েছে। এক্ষেত্রে ফৌজদারি মামলার কারণে অটোম্যাটিক্যালি সাসপেণ্ড, তদন্ত এবং দোষী সাব্যস্ত হলে বিভাগীয় মামলাও হতে পারে। তাতে ভিন্ন ভিন্ন আইনে ফেলে ভিন্ন ভিন্ন দণ্ড দেয়ার নিয়ম রয়েছে।
দুর্নীতিবাজ সচিব মাসুদুল আলম এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় পরবর্তীতে শারমিন আক্তার তাঁর স্বামী জহিরুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন একই বিষয়ে। কারণ, দুর্নীতিবাজ সচিব মাসুদুল হাসানের প্রশ্রয় পেয়ে ইতিমধ্যে শারমিনকে তালাকও দিয়েছেন জহিরুল। উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগে তিনি জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি পদে থেকে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অবৈধ অর্থ উপার্জনের তথ্যও তুলে ধরেন।
স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাসপেন্ড করা তো হয়ই-নি, অন্য কোনো ব্যবস্থাও নেয়নি মন্ত্রণালয়
নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের ফৌজদারি মামলার কপিসহ মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দায়ের করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে সাসপেন্ড করার কথা। এবং এরসঙ্গে তদন্ত কমিটি গঠন করারও নিয়ম রয়েছে। তদন্তে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু জহিরুল ইসলাম খানের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সাসপেন্ডও করা হয়নি।
বিধিমালা অনুযায়ী, খাদ্য বিভাগের ডিসি ফুড থেকে উপরের পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়োগ-বদলিসহ সার্বিক কার্যক্রম মন্ত্রণালয়েরই এখতিয়ার। একই সঙ্গে জহিরুল ইসলামের দুর্নীতির অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য দুদকে পাঠানোর নিয়ম রয়েছে। কিন্তু মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে কোনোই ব্যবস্থা না নিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কৌশলে দুর্নীতিবাজ জহিরুল ইসলামকে বাঁচিয়ে দেয়ার জন্য শারমিন আক্তারের লিখিত অভিযোগ ও মামলার কপি অধিদপ্তরে পাঠিয়ে দেয়। অধিদপ্তরের যেহেতু এই পর্যায়ের কর্মকর্তাকে সাসপেন্ড করার এখতিয়ার নেই তাই তারাও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেনকে নামেমাত্র তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। জামাল হোসেন এবং জহিরুল ইসলাম ঘুষ-দুর্নীতির ভাগবাটোয়ারায় একই সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবেই পরিচিত। মাত্র কিছুদিন আগে জামাল হোসেন ছিলেন পরিচালক (প্রশাসন) এবং একই সময়ে জহিরুল ইসলাম খান ছিলেন অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন) পদে। একই সিন্ডিকেটের সদস্য হওয়ায় জামাল হোসেন তদন্তের পদক্ষেপ না নিয়ে জহিরুল ইসলামকে বাঁচিয়ে দেন। এসব ঘটনার মধ্যেই দেখা গেলো, সাসপেন্ডসহ নানা রকমের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পরিবর্তে জহিরুল ইসলাম খানকে অপকর্মের পুরস্কার হিসেবে মন্ত্রণালয় উল্টো তাকে পরিচালক (চ. দা) পদে পদোন্নতি দিয়েছে। গত ৩ আগস্ট জহিরুল ইসলামকে এই পদোন্নতি দেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, জহিরুল ইসলামের এই পদোন্নতিতে অন্তত দুই কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
শীর্ষনিউজ