জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে। ৩৯টি কেন্দ্রের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২০টি কেন্দ্রের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। বোটানি বিভাগ, চারুকলা অনুষদ, মলিকুলার অ্যান্ড বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগ এবং দর্শন বিভাগ, মাইক্রোবায়োলজি ও ফিন্যান্স বিভাগ, সিএসই বিভাগ এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের, ভূগোল ও পরিবেশ, লোকপ্রশাসন, নৃবিজ্ঞান, ফার্মেসি এবং সঙ্গীতসহ বেশ কয়েকটি বিভাগের ফল প্রকাশ করা হয়।
সর্বশেষ ফলাফলে সঙ্গীত বিভাগে ছাত্র অধিকার পরিষদের জবি শাখার বর্তমান সভাপতি ও ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী এ কে এম রাকিব পেয়েছেন ১২৫ ভোট, অন্যদিকে আসনটিতে শিবিরের সভাপতি ও ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন ৪ ভোট। এক ভোটও পায়নি শিবিরের জিএস ও এজিএস প্রার্থী আব্দুল আলিম আরিফ ও মাসুদ রানা। অন্যদিকে এজিএস পদে ছাত্রদলের খাদিজাতুল কুবরা ভোট পেয়েছেন ৪৮ টি।
প্রকাশিত কেন্দ্রের ফল
ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ কেন্দ্র: এই কেন্দ্রে ভিপি পদে অদম্য জবিয়ান প্যানেলের রিয়াজুল ইসলাম ১০০ ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের একেএম রাকিব পেয়েছেন ৯১ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রাকিব হাসান পেয়েছেন ১০ ভোট।
নৃবিজ্ঞান বিভাগ কেন্দ্রে ভিপি পদে রিয়াজুল ইসলাম ১২৮ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। একেএম রাকিব পেয়েছেন ১১৮ ভোট ও কিশোয়ার সাম্য ১৭ ভোট। জিএস পদে আব্দুল আলিম আরিফ ১২৩ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। এখানে খাদিজাতুল কুবরা ৭৩ ও ইভান তাহসিভ ৪৬ ভোট পেয়েছেন। এজিএস পদে এই কেন্দ্রে চমক দেখিয়েছেন নির্ভীক জবিয়ানদের এবিএম তানজিল; তিনি ১২৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। অন্যদিকে মাসুদ রানা পান ১০২ ভোট ও শাহীন মিয়া ২৭ ভোট।
লোকপ্রশাসন বিভাগ কেন্দ্রে ভিপি পদে এই কেন্দ্রে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের একেএম রাকিব ১৩২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। অদম্য জবিয়ানদের রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন ১২২ ভোট এবং কিশোয়ার সাম্য ১৭ ভোট।
জিএস পদে আব্দুল আলিম আরিফ (১২৩ ভোট)। খাদিজাতুল কুবরা ও ইভান তাহসিভ পেয়েছেন যথাক্রমে ৬২ ও ৫৯ ভোট। এজিএস পদে ১৩০ ভোট পেয়ে জয়ী হন মাসুদ রানা। এবিএম তানজিল পেয়েছেন ১০৬ ও শাহীন মিয়া ২৫ ভোট।
ফার্মেসি বিভাগ কেন্দ্রে এই কেন্দ্রে শীর্ষ তিনটি পদেই বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছে অদম্য জবিয়ান প্যানেল। ভিপি পদে রিয়াজুল ইসলাম (৭৮ ভোট), জিএস পদে আব্দুল আলিম আরিফ (৮৩ ভোট) এবং এজিএস পদে মাসুদ রানা (৭৮ ভোট) পেয়ে প্রথম হয়েছেন। এই কেন্দ্রে ছাত্রদলের একেএম রাকিব ৫৩, খাদিজাতুল কুবরা ২৬ এবং এবিএম তানজিল ৪৫ ভোট পেয়েছেন।
সিএসই বিভাগ এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে ভিপি পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন ১০৬ ও ৫১ ভোট। দুই বিভাগ মিলিয়ে মোট ভোট পেয়েছেন ১৫৭। এছাড়াও একই পদে ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী রাকিব পেয়েছেন ৯৪ ও ৩৯ ভোট। দুই বিভাগ মিলিয়ে রাকিব মোট ভোট পেয়েছেন ১৩৩।
জিএস পদে সিএসই বিভাগে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল আলীম আরিফ পেয়েছেন ১১২ ভোট। একই পদে ছাত্রদল সমর্থিত খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ৫৩ ভোট। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে আলীম পেয়েছেন ৪৬ ভোট, খাদিজা পেয়েছেন ১৮ ভোট। দুই বিভাগ মিলিয়ে মোট ভোটে আব্দুল আলীম আরিফ ১৫৮, খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ৭১।
এজিএস পদে সিএসই বিভাগে ছাত্রশিবির সমর্থিত মাসুদ রানা পেয়েছেন ১০৫ ভোট। একই পদে ছাত্রদল সমর্থিত আতিকুর রহমান তানজিল পেয়েছেন ৮০ ভোট। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে মাসুদ রানা পেয়েছেন ৪২ ভোট, তানজিল পেয়েছেন ৩০ ভোট। দুই বিভাগে মোট ভোটে মাসুদ রানা পেয়েছেন ১৪৭ এবং তানজিল পেয়েছেন ১১০।
মাইক্রোবায়োলজি কেন্দ্রে ভিপি (সভাপতি) পদে রিয়াজ ৮৭ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। একই পদে একেএম রাকিব পেয়েছেন ৪৬ ভোট এবং রাকিব হাসান পেয়েছেন ৪ ভোট। জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে আরিফ ৮৫ ভোট পেয়ে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খাদিজা পেয়েছেন ৩২ ভোট। এ ছাড়া ইভান পেয়েছেন ১৫ ভোট। এজিএস (সহ সাধারণ সম্পাদক) পদে মাসুদ রানা পেয়েছেন ৮১ ভোট। এই পদে তানজিল পেয়েছেন ৪০ ভোট এবং শাহীন পেয়েছেন ১২ ভোট।
অন্যদিকে ফিন্যান্স কেন্দ্রে ভিপি পদে রিয়াজুল পেয়েছেন ১৩৮ ভোট এবং একেএম রাকিব পেয়েছেন ২৩১ ভোট। জিএস পদে আলিম পেয়েছেন ১৬৩ ভোট, আর খাদিজা পেয়েছেন ১১৩ ভোট। এছাড়া এজিএস পদে মাসুদ রানা পেয়েছেন ১৬৩ ভোট এবং তানজিল পেয়েছেন ১৭৮ ভোট।
চারুকলা অনুষদ বিভাগ কেন্দ্রে ভিপি পদে রিয়াজ পেয়েছেন ২১ ভোট, রাকিব পেয়েছেন ১০৬ ভোট। জিএস পদে আরিফ পেয়েছেন ১৮ ভোট, খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ৩৬ ভোট এবং বাম জোটের প্রার্থী ইভান তাহসিব সর্বোচ্চ ৯৯ ভোট অর্জন করেছেন। এজিএস পদে মাসুদ পেয়েছেন ১২ ভোট এবং তানজিল পেয়েছেন ৮২ ভোট।
মলিকুলার অ্যান্ড বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগ কেন্দ্রে ভিপি পদে রিয়াজ পেয়েছেন ৮৯ ভোট এবং রাকিব পেয়েছেন ৫৭ ভোট। জিএস পদে আরিফ পেয়েছেন ৯৮ ভোট, কুবরা পেয়েছেন ৩২ ভোট এবং ইভান পেয়েছেন ৯ ভোট। এজিএস পদে মাসুদ পেয়েছেন ৯০ ভোট এবং তানজিল পেয়েছেন ৪২ ভোট।
এদিকে দর্শন বিভাগ কেন্দ্রে ভিপি পদে রিয়াজ পেয়েছেন ১১১ ভোট, আর রাকিব পেয়েছেন ১৭৫ ভোট। জিএস পদে আরিফ পেয়েছেন ১৩৫ ভোট, কুবরা পেয়েছেন ৮০ ভোট এবং ইভান পেয়েছেন ৫৩ ভোট। এজিএস পদে মাসুদ পেয়েছেন ১১৯ ভোট এবং তানজিল পেয়েছেন ১২৪ ভোট।
প্রাণী বিদ্যা বিভাগ কেন্দ্রে ভিপি (সভাপতি) পদে রিয়াজ এবং রাকিব দুইজনই সমান ১২৮ ভোট পেয়ে সমতার অবস্থায় রয়েছেন। জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে আরিফ ১৫৪ ভোট পেয়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কুবরা পেয়েছেন ৬৮ ভোট এবং ইভান পেয়েছেন ২৪ ভোট। এজিএস (সহ সাধারণ সম্পাদক) পদে মাসুদ পেয়েছেন ১৩১ ভোট এবং তানজিল পেয়েছেন ১০৮ ভোট।
মার্কেটিং বিভাগ কেন্দ্রে ভিপি (সভাপতি) পদে রিয়াজ ২০০ ভোট পেয়ে সামান্য এগিয়ে রয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রাকিব পেয়েছেন ১৮৭ ভোট। জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে আরিফ সর্বাধিক ২১৪ ভোটে এগিয়ে আছেন। অন্যদিকে কুবরা পেয়েছেন ৮৬ ভোট এবং ছাত্রশক্তি সমর্থিত ফয়সাল মুরাদ পেয়েছেন ৪০ ভোট। এজিএস (সহ সাধারণ সম্পাদক) পদে মাসুদ পেয়েছেন ১৯৫ ভোট এবং তানজিল পেয়েছেন ১৫৩ ভোট।
বোটানি (উদ্ভিদবিজ্ঞান) বিভাগ কেন্দ্রে ভিপি (সভাপতি) পদে ছাত্রদল সমর্থিত একেএম রাকিব সর্বোচ্চ ২১৬ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। একই পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন ৬৫ ভোট। জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে ছাত্রশিবিরের আব্দুল আলিম আরিফ ১৪৩ ভোট পেয়ে সর্বোচ্চ ভোট অর্জন করেছেন। অন্যদিকে ছাত্রদলের খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ৬৯ ভোট। এজিএস (সহ সাধারণ সম্পাদক) পদে ছাত্রদল সমর্থিত তানজিল পেয়েছেন ১৩৮ ভোট। এই পদে ছাত্রশিবিরের মাসুদ রানা পেয়েছেন ১২০ ভোট।
আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগে ভিপি পদে রিয়াজুল ইসলাম (ছাত্রশিবির) পেয়েছেন ১৫২ ভোট এবং একেএম রাকিব (ছাত্রদল) পেয়েছেন ১৩৭ ভোট। সমাজবিজ্ঞান বিভাগে রিয়াজুল পেয়েছেন ১৮২ ভোট এবং রাকিব পেয়েছেন ১২৯ ভোট। অন্যদিকে সমাজকর্ম বিভাগে রিয়াজুল পেয়েছেন ১৮১ ভোট এবং রাকিব পেয়েছেন ১২১ ভোট। ফলে তিন কেন্দ্র মিলিয়ে ভিপি পদে রিয়াজুল ইসলামের মোট ভোট দাঁড়িয়েছে ৫১৫, আর একেএম রাকিবের মোট ভোট ৩৮৭।
জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে আইন ও ভূমি প্রশাসনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত আব্দুল আলিম আরিফ পেয়েছেন ২৩৩ ভোট, সমাজবিজ্ঞানে ১৯০ ভোট এবং সমাজকর্ম বিভাগে ১৬৭ ভোট। এতে তার মোট প্রাপ্ত ভোট দাঁড়িয়েছে ৫৯০। একই পদে ছাত্রদল সমর্থিত খাদিজাতুল কুবরা আইন ও ভূমি প্রশাসনে ৩৭, সমাজবিজ্ঞানে ৭৬ এবং সমাজকর্ম বিভাগে ৬৮ মোট ১৮১ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া ইভান আইন ও ভূমি প্রশাসনে ২৭, সমাজবিজ্ঞানে ৪২ এবং সমাজকর্ম বিভাগে ৫২ মোট ১২১ ভোট পেয়েছেন।
এদিকে এজিএস (সহ সাধারণ সম্পাদক) পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত মাসুদ রানা আইন ও ভূমি প্রশাসনে ১৫৬, সমাজবিজ্ঞানে ১৬০ এবং সমাজকর্ম বিভাগে ১৩০ মোট ৪৪৬ ভোট পেয়েছেন। একই পদে ছাত্রদল সমর্থিত তানজিল আইন ও ভূমি প্রশাসনে ১১৯, সমাজবিজ্ঞানে ১১০ এবং সমাজকর্ম বিভাগে ১৬২ মোট ৩৯১ ভোট অর্জন করেছেন। ফলে মাসুদ রানা ৫৫ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন।
পরিসংখ্যান বিভাগে ভিপি (সভাপতি) পদে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত রিয়াজুল ইসলাম ১৯০ ভোট পেয়ে সর্বোচ্চ ভোট অর্জন করেছেন। একই পদে ছাত্রদল সমর্থিত একেএম রাকিব পেয়েছেন ৯৪ ভোট।
জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল আলিম আরিফ ১৮৭ ভোট পেয়েছেন। অপরদিকে ছাত্রদল সমর্থিত খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ৫৬ ভোট এবং ইভান তাহসিব পেয়েছেন ৩০ ভোট। এজিএস (সহ সাধারণ সম্পাদক) পদে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত মাসুদ রানা পেয়েছেন ১৭৩ ভোট। একই পদে ছাত্রদল সমর্থিত তানজিল পেয়েছেন ৯১ ভোট।