সুরভীর ঘটনাটা পুরো সিস্টেমরে ন্যাংটা করে ছেড়ে দিসে৷
প্রথমে দেখলাম ক্রাইম অ্যাঙ্গেল। সে নাকি চাঁদাবাজি করসে, তাও ৫০ কোটি টাকার৷ পরে মামলার এজহার আর স্থানীয় আপোষনামা দেখে বোঝা গেল ৫০ হাজার টাকাও না।
তারপরে আসলো পলিটিক্যাল অ্যাঙ্গেল। মামলা বহুদিন আগে হওয়া সত্ত্বেও, যেসময় সে ওয়াকার ইউনূসের নামে 'কুরুচিপূর্ণ' (প্রথম আলোর ভাষায়) মন্তব্য করলো, কীভাবে যেন তার পরেই গ্রেফতার হলো। এরপরে আসলো ফেমিনিস্ট অ্যাঙ্গেল৷ জানা গেল, চাঁদাবাজি-টাজি কোনো কথা না, তারে নাইমুর রহমান দুর্জয় নামে এক ভণ্ড সাংবাদিক 'কুপ্রস্তাব' দিসে এবং তাতে সে রাজি না হওয়াতেই এই মামলা।
এরপর আবার পলিটিক্যাল অ্যাঙ্গেল৷ জানা গেল, দুর্জয় লীগের লোক৷ আগেও দেশ টিভির ভুয়া পরিচয় দিয়ে পুরস্কার নিসে৷ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সাথে ছবি তুলে ব্যবহার করে নিজের স্বার্থসিদ্ধিতে। এরপর আজকে সামনে আসলো মানবাধিকার অ্যাঙ্গেল৷ সে তো অ্যাডাল্টই না। বয়স কয়দিন আগে ১৭ হইসে মাত্র৷ এই বয়সী একজনকে 'কুপ্রস্তাব' দিলে সেইটা শুধু কুপ্রস্তাব হয় না। রীতিমতো পেডোফিলিয়া। এই সাংবাদিকদের নামে কোনো মামলা হইসে এখনো?
এরপর সবশেষে আসলো পুলিশি অ্যাঙ্গেল। কালিয়াকৈর থানার অন্তর্গত মৌচাক পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এসআই ওমর ফারুক তার কাছ থেকে টাকা চাইসিলো৷ সেইটা দিতে অস্বীকৃতি জানানোতেই এই গ্রেফতার৷ এই কথা সুরভীর নিজের জানানো লাগলো আদালত প্রাঙ্গনে তাকে পুলিশ ভ্যানে তোলার সময়। জানা গেল, পুলিশই তার বয়স চার বছর বাড়ায়ে দেখাইসে৷ ওমর ফারুক এবং যেই পুলিশ বয়স বাড়ায়ে দেখাইসে তাদের বিরুদ্ধে এখনও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি৷
জানার কোনো শেষ নাই। এই ঘটনায় আরও যে কত কত অ্যাঙ্গেল বের হবে, আল্লাহ মালুম! দেশে কোনো মিডিয়া নাই৷ মানবাধিকার কর্মী নাই। ফেমিনিস্ট নাই৷ সব দায়িত্ব পালন করতেসে অল্প কিছু অ্যাক্টিভিস্ট৷ তাদেরও খাওয়া নাই। ঘুম নাই৷ একটার পর একটা ঘটনায় তাদেরই সক্রিয় থেকে ভিক্টিমকে উদ্ধার করতে হচ্ছে৷
দেশে কোনো আইন উপদেষ্টা নাই৷ আছে একজন ফেসবুকার যে ক্ষণে ক্ষণে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়৷ কার কাছে জানায় সে নিজে কি জানে? দেশে কোনো স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নাই। আছে একজন জোকার৷ মানুষ বিয়ে করসে কিনা, সকালে কী খাইসে, বেতন কত, পিঁয়াজের দাম পাইত্রিশ টাকা কীভাবে বাড়লো সেটাই তার আগ্রহের জায়গা।
দেশে কোনো ডাকসু নাই৷ আছে একটা চ্যারিটি সংগঠন৷ মাদক ধরা আর বহিরাগত দমন করে কাজ শেষ৷ দেশে কোনো সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা নাই৷ আছে পালনবাদ, দায় ও দরদ৷
হাজার নাই-এর দেশে একজন সুরভী আছে। নিজের উপর সমস্ত ঝুঁকি নিয়ে সবকিছু বলে দিলো। যদি তার নিঃশর্ত মুক্তি নিশ্চিত না করা যায়, তাহলে জুলাইয়ের গুড় খাওয়া সবার উপর একই জিনিস নেমে আসবে, না আসলে আমরা আনাবো। তারপর পপকর্ন নিয়ে বসে খ্যালা দেখবো৷