Image description
 

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার মূল আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান এক সময় অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে। এবার জানা গেল, সরকারি বিজ্ঞাপনেও এক সময় কাজ করেছেন তিনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (DNC) অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে একটি সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়, যেখানে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায় ফয়সাল করিমকে। আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে বিজ্ঞাপনটি দেখা গেলেও ১১টা নাগাদ হঠাৎই তা সরিয়ে ফেলা হয়। জুলাই অভ্যুত্থানের পর ছাত্রলীগের নেতার সরকারি কার্যক্রমের বিজ্ঞাপনে অংশগ্রহণ এবং সম্পৃক্ততা কিভাবে এবং কার ইশারায় হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

এর আগে, জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বেশিরভাগ নেতাকর্মী দেশের বাইরে পালিয়ে গেলেও স্বাভাবিকভাবেই চলছিলেন হাদি হত্যাকাণ্ডের এই আসামি।

তদন্তে দেখা যায়, শহিদ হাদির হত্যাকাণ্ডের আগেও ফয়সালের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের রেকর্ড ছিল। ২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর ডাকাতির সময় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হন ফয়সাল করিম মাসুদ। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আদাবর এলাকায় একটি অফিসে ঢুকে অস্ত্রের মুখে ১৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় র‍্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে। ডাকাতির মামলা এবং অস্ত্রসহ হাতেনাতে ধরা পড়ার পরও রহস্যজনকভাবে স্বল্প সময়ের মধ্যে জামিন পেয়ে যান তিনি। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের একটি প্রভাবশালী অংশের সঙ্গে তার গোপন সমঝোতা থাকার কারণেই এই মুক্তি সম্ভব হয়েছিল।

এদিকে হাদি হত্যাকাণ্ডের পরপরই ফয়সালের পালিয়ে যাওয়া নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ইনকিলাব মঞ্চ। অপরাধীকে এখনও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে না পারার পেছনে বিশেষ মহলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহায়তা রয়েছে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।

গতকাল শুক্রবার (২ জানুয়ারি) শাহবাগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র জানিয়েছেন, হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে তারা অটল। তারা সরকারকে আগামী ৩০ কার্যদিবসের সময় বেঁধে দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে সরকার পতন আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

শীর্ষনিউজ