নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জ উপজেলায় মেয়েকে বাড়ি থেকে জোড় করে নিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দিতে গিয়ে জামাতার প্রাইভেটকারের ধাক্কায় শ্বশুর ইনতাজুল ইসলাম (৬০) নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসময় এলাকাবাসী ধাওয়া করে জামাতা আবু তাহেরকে (৩৫) প্রাইভেটকারসহ আটক করে পুলিশে দিয়েছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পর মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের দক্ষিণ দুড়াকুটি গ্রামের ঘোপাপাড়া এলাকায়। আটক জামাতা আবু তাহের একই ইউনিয়নের পাগলাটারী গ্রামের মজিদুলের ছেলে।
জানা যায়, প্রথম স্ত্রী মিষ্টি আক্তার (২৫) থাকা অবস্থায় আবু তাহের প্রথম বিয়ের কথা আত্মগোপন রেখে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে তুলে দ্বিতীয় বিয়ে করে উক্ত ইনতাজুল ইসলামের মেয়ে রেজেকা ইসলামকে (২২)। গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রেজেকাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গেলে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। এ কারণে ঘটনার দিন শুক্রবার সকালের দিকে স্বামীর বাড়ি থেকে রেজেকা বাবার বাড়ি ফিরে আসে।
জুমার নামাজের সময় উক্ত জামাতা তার প্রথম স্ত্রী সহ একটি প্রাইভেটকারে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার বাড়ি এসে ক্ষমা চেয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে প্রাইভেট কারে নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় খবর পেয়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে প্রাইভেটকারটির গতিরোধ করতে শ্বশুর ইনতাজুল ইসলাম ও তার ছোট মেয়ে নার্গিস বেগম রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর অভিযোগ ওই সময় প্রাইভেটকারের ধাক্কায় ঘটনাস্থলে ছিটকে পড়ে নিহত হন ইনতাজুল ইসলাম। এসময় এলাকাবাসী ধাওয়া করে ও পথরোধ করে প্রাইভেটকারটি সহ জামাতা আবু তাহেরকে আটক করে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশের কাছে সর্পোদ করে।
এসময় নিহত ইনতাজুল ইসলামের ছোট মেয়ে অভিযোগ করে জানায় তার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে গাড়ি চাপা দিয়ে আবু তাহের হত্যা করেছে। সে এর বিচার দাবি করে।
কিশোরীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আব্দুল কুদ্দুছ জানান, থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। প্রাইভেট কার ও জামাতাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।